সব
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষ ও মাস্টার্স ফাইনাল সেমিস্টারের চলমান পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের পর চলমান পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত বছরের মার্চ মাস থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়া জোর দাবি উঠেছে। এনিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় দফায় অনার্স ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করলে গত শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) হল খোলার দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। হল খোলার দাবিতে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছিল শাবির শিক্ষার্থীরা। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে ১৭ মে হল খোলা এবং ২৪ মে ক্যাম্পাস খোলার ঘোষণা আসার পর আল্টিমেটাম থেকে সরে এসেছে শিক্ষার্থীরা। সেশনজট নিরসনের লক্ষ্যে গত বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অনলাইনে দুই সেমিস্টারের ক্লাস শেষে দীর্ঘ ১০ মাস পর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি থেকে প্রথম দফায় অনার্স চূড়ান্ত বর্ষ ও মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুমে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া শুরু করে কর্তৃপক্ষ, যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আবাসিক হল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের শহরের বিভিন্ন মেস, হোস্টেলে ভাড়ায় উঠতে হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীরা নানা ভোগান্তিতে পড়ার কথা বিভিন্ন সময় জানিয়ে আসছে। মেসে গাদাগাদি করে অবস্থান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ মেয়েদের হোস্টেলগুলোতে নিরাপত্তাহীনতা, চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটতে থাকে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা আসার পরপরই চলমান অনার্স ৪র্থ বর্ষ এবং মাস্টার্সের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করায় ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা।
তারা অভিযোগ করে বলেন, হল বন্ধ থাকায় পরীক্ষা দিতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। আবার হঠাৎ করে পরীক্ষা স্থগিত করায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক সমস্যায়ও পড়তে হচ্ছে। চলমান পরীক্ষার মধ্যে বাকি থাকা ১/২টি পরীক্ষার জন্য ৩/৪ মাস অপেক্ষা করা অযৌক্তিক বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুসারে চলমান পরীক্ষাগুলো স্থগিত করেছি। যেহেতু অনেকের পরীক্ষা শেষের দিকে রয়েছে তাই পরীক্ষার বিষয়ে বুধবার একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে। এক্ষেত্রে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চলমান পরীক্ষার বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেয় তা পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি