হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গা পিঠা

মোর্শেদ লস্কর,জকিগঞ্জ;
  • প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারি ২০২৩, ১০:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

কালের পরিবর্তনে ডিজিটাল সভ্যতার গ্রাসে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য চ্ঙ্গুা পিঠা। বদলে যাচ্ছে মানুষের রুচিবোধ। বাংলাদেশের সীমান্তবতী জনপদ জকিগঞ্জসহ ভারতের বরাক উপত্যকার প্রিয় ও প্রাচীর একটি মুখরোচক খাবার চ্ঙ্গুাপিঠা।

চ্ঙ্গুাপিঠা তৈরির প্রধান উপকরন ঢলু বাঁশ ও বিন্নি ধানের চাল (বিরইন ধানের চাল)। তবে আগের মত এখন আর গ্রামীণ এলাকার বাড়িতে বাড়িতে চ্ঙ্গুাপুড়ার আয়োজন চোখে পড়ে না। শীতের রাতে খড়কুটো জ্বালিয়ে সারারাত চ্ঙ্গুাপোড়ার দশও এখন আর খুব দেখা যায় না।

এক সময় মানুষজন জকিগঞ্জের বাজারগুলো থেকে মাছ কিনে কিংবা হাওর নদী হতে বড় বড় রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, পাবদা মাছ ধরে নিয়ে এসে হাল্কা মসলা দিয়ে ভেজে (আঞ্চলিক ভাষায় মাছ বিরান) দিয়ে চুঙ্গাপুড়া পিঠা খাওয়া ছিল জকিগঞ্জ এলাকার অন্যতম ঐতিহ্য। বাড়িতে মেহমান বা জামাই বাবুকে চ্ঙ্গুাপিঠা না খাওয়ালে যেন অথিতেয়তা অপূর্ণ রয়ে যেত। বর্তমান সেই দিন এখন আর নেই। বিরইন ধানের চাল জকিগঞ্জে পাওয়া গেলেও ঢলু বাঁশের সরবরাহ অনেক কমে গেছে।

এই বাঁশগুলো আসতো সাধারণত নদীর ওপার ভারতের করিমগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জের পাহাড়ী এলাকা থেকে। অনেক আগেই বনদসূ ও ভূমিদসূ এবং পাহাড় খেকোদের কারণে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে ঢলু বাঁশ। ব্যবসায়ীরা দূরবর্তী এলাকা থেকে বাঁশ ক্রয় করে নিয়ে আসাতে ঢলু বাঁশের দামও চড়াও। এই বাঁশটি সংরক্ষন করা খুবই জরুরী। ঢলুবাঁশ ছাড়া চুঙ্গাপিঠা তৈরী করা যায় না।

কারণ ঢলুবাঁশে এক ধরনের রাসায়নিক তৈলাক্ত পদার্থ আছে, যা আগুনে বাঁশের চুঙ্গাকে না পোড়াতে সাহায্যে করে। ঢলুবাঁশে অত্যধিক রস থাকায় আগুনে না পুড়ে ভিতরের পিঠা আগুনের তাপে সিদ্ধ হয়। পিঠা তৈরী হয়ে গেলে মোমবাতির মতো চুঙ্গা থেকে পিঠা আলাদা হয়ে যায়। চুঙ্গাপিঠা পোড়াতে প্রচুর পরিমানে খড় দরকার পড়ে। আগের মত চাষাবাদ কমে যাওয়ায় খড়ও যেন অপ্রতুল।

তবে আশার কথা হল, এখনও জকিগঞ্জের কিছু মানুষ কষ্ট করেও এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি