সব
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ
প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রত্যাশা
এমসি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে উঠে আসা তরুণ মোঃ আসাদুল হক আসাদকে ঘিরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের প্রত্যাশা নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছেন এই তরুণ।
আসাদ কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর তেলিখাল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার জন্ম। তার বাবা মোঃ সুলেমান আলী সহজ-সরল ও সৎ জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। তার দাদা মরহুম হাজী আতাউর রহমান (আতাই হাজী) কোম্পানীগঞ্জ ও আশপাশের অঞ্চলে পরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। পরিবারের অন্য পূর্বসূরি মরহুম হাজী হায়াত উল্লাহ ও মরহুম হাজী খলিলুর রহমানও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সমাদৃত ছিলেন বলে পরিবারটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের দাবি, ব্রিটিশ আমল থেকে তাদের পূর্বসূরিরা সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রেখে আসছেন। সেই ধারাবাহিকতায় উচ্চশিক্ষিত তরুণ আসাদ শহরের আধুনিক জীবন ছেড়ে অবহেলিত ও বঞ্চিত কোম্পানীগঞ্জবাসীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে ভূমিকা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মাদকের কুফল সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণায় সম্পৃক্ততার কারণে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি। এ ছাড়া অবৈধভাবে বালু-পাথর লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখার কথাও তুলে ধরছেন তারা। স্থানীয় মুরব্বি, সচেতন মহল ও তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন আসাদ।
উপজেলা নির্বাচন প্রসঙ্গে আসাদ বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে অনেক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে দলের সবুজ সংকেত পাওয়ার ক্ষেত্রে দল অনেক ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে রেখেছে। বিশেষ করে, যারা দলের দুঃসময়ে দলের নির্দেশনা অমান্য করে দলের বিপক্ষে কাজ করেছে এবং জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয় এমন কাজে সংশ্লিষ্ট রয়েছে, তাদের ব্যাপারে দল সর্বোচ্চ সজাগ থাকবে। টাকা-পয়সা লেনদেনের মাধ্যমে কোনো প্রার্থীর সবুজ সংকেত পাওয়ার সুযোগ নেই।’
উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে পুরুষ ও মহিলা ভোটার প্রায় সমানে সমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় দৈন্যদশা চোখে পড়ার মতো। তাই এবারের নির্বাচনে যারাই প্রার্থী, তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।’
আসাদ আরও বলেন, ‘এবারের স্থানীয় নির্বাচন হবে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। এখানে কে কত সম্পদশালী, তা মুখ্য নয়। পরিবর্তনের বাংলাদেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একজন ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতা সমাজ ও দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আজকের নতুন প্রজন্ম তাদের দেখেই স্বপ্নের বীজ বুনবে এবং সেভাবে নিজেদের তৈরি করতে উৎসাহিত হবে।’
কোম্পানীগঞ্জের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর একটি ঐতিহ্যবাহী জনপদ। এই প্রাকৃতিক সম্পদকে প্রকৃতভাবে কাজে লাগানো, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, পরিকল্পিত আবাসন এবং জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’
নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ প্রসঙ্গে আসাদ বলেন, ‘টাকার কাছে নির্বাচনের আগের রাতে ভোটের চিত্র যাতে পাল্টে না যায়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। তা নিশ্চিত হলেই একজন প্রার্থীর শ্রম-ঘাম, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে, ইনশাআল্লাহ।’
নিজের নির্বাচনী প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মানুষের কাছে থেকে, পাশে থেকে আমার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। বিজয়ী হব—দৃঢ়ভাবে সেই আশাবাদ রয়েছে।’
পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি