৩৪ দিনে শাহজালাল মাজারে মিলল  প্রায় ৮৯ লাখ টাকা, স্বর্ণ ১ ভরি ৯ আনা

নিজস্ব প্রতিবেদক ;
  • প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ সপ্তাহ আগে

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে চতুর্থবারের মতো টাকা গণনা করে ৩৪ দিনে পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ ও ১৫ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা। দান হিসেবে পাওয়া গরু-ছাগলের একটি অংশ লঙ্গরখানায় রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের মেয়ের বিয়েতেও দেওয়া হয়েছে গরু ও ছাগল। দানবাক্সে টাকা-পয়সার সঙ্গে মিলেছে কয়েকটি চিরকুট। এর মধ্যে এক নারী স্বামীর হেদায়েত কামনা করেছেন। আরেকটি চিরকুটে লেখা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে ‘খোকন মামুর’ এমন অবস্থা হতো না।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সিলগালা অবস্থায় থাকা মাজারের তিনটি ডেগ ও দানবাক্স খুলে গণনা শুরু হয়। দিনভর গণনা শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পাওয়া অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব প্রকাশ করা হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সিলগালা খোলা হয়। পরে প্রায় অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী গণনায় অংশ নেন।

মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। এ ছাড়া পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ ধরনের বৈদেশিক মুদ্রা। দানবাক্স থেকে কয়েকটি চিরকুটও পাওয়া গেছে। বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া। মাজারে দান হিসেবে পাওয়া গরু-ছাগলের একটি অংশ লঙ্গরখানায় রান্না করে খাওয়ানো হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি গরু ও ৭০টি ছাগল রান্না করে খাওয়ানো হয়। এ ছাড়া ৪০টি ছাগল বিক্রি করে মাজারের স্টাফদের মজুরি দেওয়া হয়েছে। দরিদ্র পরিবারের বিয়েতে একটি গরু ও একটি ছাগল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৪ থেকে ৫ টি চিটি পাওয়া গেছে।

শনিবার সন্ধায় সাংবাদিকদের সামনে দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য সামগ্রীর হিসাব প্রকাশ করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, এবার দান হিসেবে মিলেছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ, ব্রিটিশ ৫ পাউন্ড, ভারতীয় রূপি ৩ হাজার ৯৫৪, থাইল্যান্ডের ৫ বাথ, সৌদি আরবের ৯৯.২৫ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, ৮ মার্কিন ডলার, ওমানের ৯০৩ রিয়াল, আরব আমিরাতের ৫৭.২৫ দেহরাম, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১.৫০ রিয়াল, ৩০.১০ ইউরো, বাহরাইনের দশমিক ২৫ দিনার, পাপুয়া নিউগিনির ৫০ টিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রূপিয়াহ। এছাড়া দান হিসেবে ৬টি গরু ও ১১টি ছাগল পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে লঙ্গরখানায় খাবারের জন্য জবেহ করা হয়েছে ৫টি গরু ও ৭০ট ছাগল। ৪০টি ছাগল বিক্রি করে লঙ্গরখানার স্টাফদের মজুরি এবং একটি করে গরু ও ছাগল গরীব দুই মেয়ের বিয়েতে দান করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

স্বামীর হেদায়েত চেয়ে চিঠি
দানবাক্সে টাকা-পয়সা ও বিভিন্ন সামগ্রীর সঙ্গে পাওয়া গেছে এক নারীর লেখা চিঠি। শনিবার সকাল ৯টা থেকে গণনার সময় চিঠিটি পাওয়া যায়। চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমার স্বামী কাজ কাম করতে চায় না। আল্লাহ যেন ওনাকে হেদায়েত দান করেন।’ চিঠির শেষে লেখকের নাম হিসেবে ‘হালিমা জান্নাত সুমি’ উল্লেখ রয়েছে। তবে স্বামীর নাম বা ঠিকানা লেখা হয়নি।

খোকন মামুর জন্য চিরকুট
মাজারের একটি ডেগে পাওয়া আরেকটি চিরকুটে ‘খোকন মামু’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিরকুটে লেখকের নাম-ঠিকানা নেই। এতে লেখা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার থাকলে খোকন মামুর এই অবস্থা হতো না।’ এরপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাঁদের ‘অন্তরের মায়ার মানুষ’ হিসেবে খোকন মামুর কথা লেখা হয়েছে। চিরকুটে একটি হৃদয়ের ছবি এঁকে সেখানে ‘ইউ’-এর সঙ্গে ‘মামুজি’ শব্দটিও লেখা হয়েছে।
চিরকুটটি ঘিরে মাজারে আলোচনা হলেও এখনো খোকন মামুর পরিচয় জানা যায়নি।

এর আগে গত ১৫ আগস্ট তৃতীয়বারের মতো মাজারের দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়। সেদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গণনা শেষে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ, ১৬ ভরি ২ আনা রুপা ও অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া যায়। এর আগে ১১ জুলাই দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। সেবারও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ, স্বর্ণসদৃশ বস্তু ও রুপার বিভিন্ন সামগ্রী পাওয়া যায়। গত ২২ জুন দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে আরও ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর আগে তিন দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। এর বাইরে প্রতিবারই পাওয়া গেছে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি