গোয়াইনঘাটে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

মো.আজিজুর রহমান, গোয়াইনঘাট;
  • প্রকাশিত: ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৭:৪১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিস নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই কার্যালয়টি। এখানে যে কোনো কাজ করতে হলে আগে গুনতে হয় টাকা। টাকা দিলেই সকল অনিয়মই এখানে নিয়মে পরিণত হয়। অফিসে কোন পদ পদবী না থাকলেও সাব-রেজিস্টার এর মনোনীত সবুজ আহমদ (৩০) নামের স্থানীয় এক ব্যাক্তির নেতৃত্বে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এই অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ পারভেজ এর ছত্রছায়ায় নিজের মনগড়া নিয়োগকৃত সবুজ আহমেদ, দলিল লেখক আব্দুল মালিক এর বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও নানা অনিয়ম করে লাখ লাখ টাকার মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদেরকে ‘খুশি’ না করে এ অফিসে কোনো কাজই করা সম্ভব হয় না।
উপজেলা সাব- রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট থানা সদরের গোয়াইন গ্রামের বাসিন্দা মৃত বশির উদ্দিন এর ছেলে সবুজ আহমদ। তিনি ২০২০ সালে গোয়াইনঘাট সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অস্থায়ী কর্মচারী হিসাবে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই শুরু হয় সবুজ সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।

সাব-রেজিস্টার মাসুদ পারভেজ এর ভয়ে মুখ খুলতে চায়না অফিসে কর্মরত কেউই। কয়েকজন দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে ‘ প্রতিবেদককে জানান, প্রতিটি দলিলের ক্ষেত্রে দাখিলা বাবত ৭ শত টাকা, এক লক্ষ টাকা মুল্যের দলীলে ১ হাজার টাকা, ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের দলীলে ৫০ হাজার টাকা, খরিদদার অনুপস্থিত থাকিলে ৫শত টাকা, প্রতি শতক বাড়ীর জমি ও (আবাসিক) জমিতে ১ হাজার টাকা, বিকেল ৩টার পর দলীল প্রতি ১ হাজার টাকা, দলীল প্রতি কমিশন বাবত ২০-৩০ হাজার টাকা দিতে হয়। সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ পারভেজ এর যোগসাজেশে এসব টাকা উত্তোলন করেন সবুজ আহমদ, মহরার আব্দুল মালিক চক্র।

দীর্ঘদিন থেকে এসব অনিয়ম দুর্নীতি হলেও কেউই মুখ খুলতে রাজি হয়না, বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পুর্ব আলীরগাঁও ইউনিয়নের নয়াখেল গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ উদ্দিন এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি গোয়াইনঘাট এস.আর অফিসে দলিল দাতা হিসাবে উপস্থিত হলে তার পিতার নাম জাতীয় পরিচয়পত্রে আব্দুল আজিজ এবং জমির পর্চায় আব্দুল ওয়াজিদ হওয়ায় দলিল আটকানো হয়। পরে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন জমা দিলে দলিল লেখক জহুরুল ইসলাম বলেন, ৫ (পাঁচ) হাজার টাকা সাব-রেজিষ্টারকে না দিলে দলিল হবে না। পরে সাব-রেজিষ্টারের মনোনিত অফিসের কোন পদে নয় এমন ব্যক্তি সবুজ আহমদ এর মাধ্যমে ৩ হাজার টাকা দিলে দলিল নিবন্ধন হয়। তিনি বলেন সাবরেজিস্টার এখানে যোগদানের পরই অযথা লেইট ফিঃ দলিল প্রতি ২/৩ হাজার টাকা আদায় করেন। তিনি এভাবে অনেক দলিলে জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম ও পর্চার নামে অমিলের কারণে প্রতি দলিলে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেন। তিনি আরও বলেন, গোয়াইনঘাট সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সবুজ আহমদ সিন্ডিকেট এর কাছে নগদ টাকা দেওয়া ছাড়া কোনো দলিল বা কাজই হয় না। দলিল প্রতি তাকে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। অফিসের একজন দলিল লেখক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, গোয়াইনঘাট সাব রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজই হয় না। কোনো কারণে যদি দিনের বেলা দলিল না হয়, ঘুষ দিলে রাতেই দলিল হয়ে যায়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সবুজ আহমদ বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা ঠিক নয়।
উল্লেখ্য যে গত ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেট জেলা পরিষদ সদস্য সুবাস দাস ও লেংগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান সরেজমিনে সাব রেজিস্টার মাসুদ পারভেজকে বিভিন্ন গ্রাহকের অভিযোগের বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেন। সাব রেজিস্টার মাসুদ পারভেজ তাদেরকে বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ দিতে বলেন।পরে জেলা পরিষদ সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি মুঠোফোনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাব-রেজিস্টার মাসুদ পারভেজ নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, আমার অফিসে কেউ দুর্নীতি করলে আমাকে লিখিতভাবে জানালে আমি ব্যবস্থা নেব।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভৌমিক খুঁদে বার্তায় জানান,আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি