শরীফগঞ্জের চেয়ারম্যান ঘাট তদন্তে পাউবো

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ সপ্তাহ আগে

সরকারি সম্পদ ভেঙ্গে ব্যাক্তিগত
স্থাপনা করার সুযোগ নেই

গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কুশিয়ারা নদীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্মিত চেয়ারম্যান ঘাটের সিড়ি ভাঙার অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করেছে সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড।

স্থানীয় লোক জন জানান, রোববার ২৮ ডিসেম্বর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাসের নির্দেশে প্রকৌশলী মোহাম্মদ গোলাম বারী সরেজমিন তদন্তকালে কুশিয়ারা নদীতে সরকারি প্রকল্পে নির্মিত চেয়ারম্যান ঘাটের ক্ষতি গ্রস্ত সিড়ি দেখে বিস্মিত হন।

প্রশাসনের কিংবা সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সরকারি স্থাপনা ভাঙা গুরুতর অপরাধ বলে তিনি উল্লেখ করেন। যারা এই অপরাধের সঙ্গে জড়িততাদেরকে দ্রুত সিড়ি মেরামত না করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান।তিনি বলেন, সরকারি স্থাপনা ভেঙ্গে কারো ব্যক্তি গত কোনো স্থাপনা বাকারো নামে কোনো স্থাপনা করার সুযোগ নেই। তা ছাড়া নদী বা নদীর তীর দখলদার দের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের নির্দেশনা রয়েছে।

কুশিয়ারা নদীর ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া ব্লক কোনো ব্যক্তির কারণে ক্ষতি গ্রস্ত হলে দায় দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে।

এর আগে গত সপ্তাহে ২১ ডিসেম্বর গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মন্জুর শাফি চৌধুরী এলিম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপজেলা ভুমি অফিসের একজন সার্ভেয়ারের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল।

এসময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য সম্প্রতি বসন্তপুরের জনৈক ব্যক্তি নদীর তীর রক্ষার ব্লক ও সিড়ি ভেঙ্গে সরকারি ভূমিতে তার নিজের নাম প্রতিষ্ঠায় সম্পুন্ন অবৈধ ভাবে একটি স্থাপনা করার অপচেষ্ঠা করেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জুর শাফি চৌধুরী এলিম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তাতক্ষনিক নির্দেশে অবৈধ ভাবে সিড়ি ভাঙার কাজ বন্ধ করা হয়। পরবর্তিতে চেয়ারম্যান ও ইউএনওর নির্দেশে ঘটনা স্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভুমি অফিসের তদন্ত দল।

জানা যায়, শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ততকালীন চেয়ারম্যান মরহুম এম এ মুছাব্বিরের ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় কুদুপর ও বসন্তপুর গ্রামের মাঝখানে কুশিয়ারা নদীর দক্ষিণ পাড় ভাঙন রোধে প্রায় ৩৪

কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই প্রকল্পের আওতায় ব্লক দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি চেয়ারম্যান ঘাটে জন সাধারণের সুবিধার্থে একটি সিড়িও নির্মান করা। নৌপথে আসা যাত্রীদের উঠা-নামায় এই সিড়ি ব্যবহৃত হয়। যুগযুগ ধরে মানুষ এই চেয়ারম্যান ঘাট দিয়ে চলা ফেরা করছেন।

এলাকাবাসীজানান, নদীর স্রোতে ব্লক দ্বারা নর্মিতি এই ঘাট ধসে পড়লে সাবেক চেয়ারম্যান এমএমুছাব্বির কানাডা থেকে এসে নিজের ব্যক্তগিত তহবিল থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করে ঘাটটিপুনঃ নর্মিাণ করে দেন।

সরেজমিনেদেখাযায়, জনৈক ব্যক্তিতার নামে একটি স্থাপনা তৈরী করতে নদী ঘাটের উপরের বসার স্থান এবং কয়েক টি সিড়ির ব্যাপক অংশে ভেঙে বিরাট দুটি গর্ত খোঁড়া হয়েছে। যা উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে।

এলাকাবাসীউপজেলাপ্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরাবরে আবেদনে সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি সিড়ি ভাঙার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবসথা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

 

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি