হাকালুকি হাওরে আবারও মিলছে রুপালি ইলিশ

সিলেট ডায়রি ডেক্স;
  • প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

মিঠাপানির জলাভূমি হিসেবে খ্যাত হাকালুকি হাওরে এবারও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে রুপালি ইলিশ। এর আগেও এশিয়ার বৃহত্তম এই হাওরে ইলিশ ধরা পড়েছিল। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কয়েক গুণ বেশি ইলিশ ধরা পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলে ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও হাওরে মিঠাপানিতে ইলিশের বিচরণ ও আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। হাকালুকি হাওর কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় নদীতে অবস্থানরত ইলিশ এবার বেশি পরিমাণে হাওরে প্রবেশ করায় এর সংখ্যা বেড়েছে।

কুলাউড়া-বড়লেখা-চাঁদগ্রাম সড়কের আছুরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় কয়েকজন জেলে হাওর থেকে ধরা বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ নিয়ে বসেছেন। দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের সঙ্গে সেখানে কয়েকটি ইলিশও দেখা যায়। এসব ইলিশের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম।

কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের জেলে রাহুল মিয়া, মো. ওমর আলী, সুফিয়ান আহমদ, জমির মিয়া ও আহাদ মিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, কয়েকজন মিলে হাওরে বেড়জাল টেনে মাছ ধরছিলেন। এক টানে সব মাছ ওঠেনি। পরে চার থেকে পাঁচবার জাল টানার পর কয়েকটি ইলিশ ধরা পড়ে।

জেলেরা জানান, কয়েক দিন ধরে অনেকের জালেই ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ধরা পড়ছে। হঠাৎ জালে ইলিশ ধরা পড়ায় তারাও খুশি। তাদের প্রত্যাশা, ইলিশের মতো এ বছর অন্যান্য দেশি প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বাড়বে।

কুলাউড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু মাসুদ বলেন, মেঘনা ও কুশিয়ারা নদীর সঙ্গে হাকালুকি হাওরের সংযোগ থাকায় প্রতি বছর হাওরে ছোট আকারের দুই থেকে চারটি ইলিশ ধরা পড়ে। তবে এবার ২৫০ থেকে ৩০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ব্যাপক হারে ধরা পড়ছে। এতে জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে।

তিনি আরও বলেন, আগাম বন্যা ও পাহাড়ি ঢল নামলে হাকালুকি হাওরের পানি মূলত কুশিয়ারা নদী দিয়ে পদ্মায় গিয়ে মেশে। ফলে ইলিশ প্রজননের জন্য স্রোতের বিপরীতে চলাচল করতে থাকে।

মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, আমি আশাবাদী, ইনশাআল্লাহ কয়েক বছরের মধ্যে হাকালুকি হাওরে ইলিশের উৎপাদন রেকর্ড সৃষ্টি করবে।

হাকালুকি হাওরটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখা এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। প্রায় ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর আয়তনের এই হাওর দেশের বৃহত্তম হাওর। এখানে জেলেদের জালে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছের সঙ্গে ইলিশও ধরা পড়ছে।

এর আগে ২০১৬, ২০১৯ ও ২০২২ সালেও হাকালুকি হাওরে প্রচুর ইলিশ পাওয়া গিয়েছিল।

তবে কালের পরিক্রমায় হাওর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নানা জাতের দেশি মাছ, জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদ। বিশেষ করে রানি মাছ, আইড়, শোল, গজার, বাঘা গুতুম ও ইলিশ ছিল হাকালুকি হাওরের ঐতিহ্য। একসময় সুস্বাদু এসব মাছ নিয়মিত জেলেদের জালে ধরা পড়ত। বর্তমানে এসব মাছের অনেক প্রজাতিই হাওর থেকে বিলুপ্তপ্রায়।

এদিকে, হাকালুকি হাওরের জীববৈচিত্র্য ও দেশি মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি