ভালো ফলনের পরও হতাশ কৃষক

আজমিরীগঞ্জ প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৪, ৭:১৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

বোরো ধানের ব্যাপক ফলন হলেও কম মূল্যের জন্য হতাশ হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের কৃষকরা। উৎপাদিত ধান বিক্রি করেও হতাশায় ভুগছেন তারা।

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জের সদর ইউনিয়নের বিরাট গ্রামের কৃষক বেনু মিয়া। বোরো মৌসুমে নিজের জমিসহ মহাজনের কাছ থেকে চুক্তিতে নেওয়া প্রায় সাড়ে সাত একর জমিতে আবাদ করেছিলেন বোরো ধান। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না থাকায় হাওরাঞ্চলে ধানের ফলনও হয়েছে বেশ। সাড়ে সাত একর জমিতে বেনু মিয়ার ফলন হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচশ মণ ধান।

আমনের মৌসুমে অনেকটা লোকসানের পর বোরোতে সেই লোকসান পুঁষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন বেনু মিয়া। মহাজনের চুক্তির ধান আর নিজের সংসার খরচের জন্য যখন ধান বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন তখনই সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয় তার। তিন দফায় পাইকারদের কাছে প্রায় চারশ মণ ধান বিক্রি করেন তিনি। প্রতিমণ ধানের মূল্য পেয়েছেন ৭৫০ টাকা করে।

শুধু বেনু মিয়াই নন ধানের মূল্য কম থাকা ও হাওরের ধান কাটা শেষ হলেও সরকারিভাবে উপজেলায় ধান সংগ্রহ শুরু না হওয়ায় এমন হতাশায় দিন কাটছে উপজেলার হাজারো সাধারণ কৃষকের।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে, উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে। সরকারিভাবে এই মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮৯৩ টন ধান সংগ্রহ করা হবে। খুব শিগগিরই কৃষকের কাছ থেকে সরকারি মূল্যে ধান সংগ্রহ শুরু করা হবে।

খাদ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি বোরো মৌসুমে ৩২ টাকা কেজি (১২৮০ টাকা মণ) দরে ধান, ৪৫ টাকায় সিদ্ধ চাল এবং ৪৪ টাকায় আতপ চাল কিনবে সরকার। হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জসহ ৯টি উপজেলা থেকে ১৪ হাজার ৭৬০ টন ধান ৪ হাজার ১৬৬ টন আতপ চাল এবং ১৪ হাজার ৯৬৬ টন সিদ্ধ চাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬২৩ হেক্টরসহ জেলায় মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৮২৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এরমধ্যে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় ১৪ হাজার ৬২৫ হেক্টরসহ জেলায় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে বোরো চাষ হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৩৭ হেক্টর জমিতে। এবং জেলায় ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৬৫ টন।

কৃষকরা বলছেন, বেশি ধান উৎপাদন হয় হাওরে। এরই মধ্যে হাওরের ধান কাটা-মাড়াই শেষে মহাজনের দেনা আর নিজের পরিবারের খরচ মেটাতে অধিকাংশ সাধারণ কৃষক কম দামে পাইকার ও ফড়িয়াদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বেশিরভাগ ধান। বাকি ধান বছরের খোরাকির জন্য গোলায় তুলেছেন। দেরিতে সংগ্রহ অভিযান শুরু হওয়ায় হাওরের কৃষকরা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকবেন। একইসঙ্গে বাড়বে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য।

কৃষক বেনু মিয়া বলেন, ধানের ফলন ভালো হয়েছে। অনেক কষ্টে ধান কাটাও শেষ করেছি। মহাজনের চুক্তির টাকা দেওয়া ও হাতে টাকা পয়সা না থাকায় ধান কাটার পরই বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি মণ ধানের দাম পেয়েছি ৭৫০ টাকা থেকে ৭৬০ টাকা করে।

কৃষক জাফরান মিয়া জানান, ২২ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। দেনা থাকায় ৭৬০ টাকা মণ ধরে ২৭৫ মণ ধান বিক্রি করতে হয়েছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (অ.দা) মো. সাইফুল আলম সিদ্দিকী বলেন, আগামী ১৫ মে পর্যন্ত অ্যাপসের মাধ্যমে কৃষক নিবন্ধন চলবে। তারপর লটারির মাধ্যমে কৃষক বাছাইয়ের পর ধান সংগ্রহ শুরু করা হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি