শূন্য হাতেই ঘরে ফিরলেন শিক্ষকরা

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২২, ৯:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ সপ্তাহ আগে

রোজিনা আলম বরিশাল থেকে লঞ্চে সোমবার ঢাকায় এসেছেন। ছোট্ট একটা ব্যাগ হাতে সদরঘাট টার্মিনাল থেকে ছুটে গেছেন প্রেসক্লাবের সামনে। অন্যদিকে রংপুর থেকে একই উদ্দেশ্যে রাজধানীতে এসেছেন সনদ ঘোষ। তিনি বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করে কেবল মানসিকভাবে বিধ্বস্তই হয়নি, অর্থনৈতিকভাবেও অসচ্ছল রয়ে গেছি। এক প্রকার নিরুপায় হয়েই ঢাকায় ছুটে এসেছেন।

এভাবেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে রাজধানীতে জড়ো হয়েছেন শত-শত শিক্ষক। তবে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় খালি হাতেই ঘরে ফিরছেন তারা।

এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক ইমরান হোসেন। তিনি বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিধিনিষেধ রয়েছে। আমাদের অবস্থান কর্মসূচিতে সারাদেশ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা এসেছেন। সবার কথা বিবেচনা করে আমরা কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করছি। তবে আমাদের কর্মসূচি বাতিল করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যেকোনো সময় আমরা আবার শুরু করব।

এদিকে টানা দ্বিতীয় দিনের মত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

এসময় তারা বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীগণ পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাঠ্যক্রম, আইন এবং একই মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালিত হলেও শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীগণের সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিরাট পার্থক্য রয়েছে।

আন্দোলনে অংশ নিয়ে তারা বলেন, অনেক শিক্ষক-কর্মচারী টাকার অভাবে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। অধিকাংশ শিক্ষক নিজ জেলার বাইরে চাকরি করেন তাদের জন্য বদলি ব্যবস্থা চালু জরুরি। অধ্যক্ষ থেকে কর্মচারী পর্যন্ত নামমাত্র ১০০০ টাকা বাড়িভাড়া ও ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা ও একজন শিক্ষক ২৫% উৎসব ভাতা পান। বিশ্বের কোনো দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন বৈষম্য আছে বলে মনে হয় না। এই বৈষম্য দূরীকরণে এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ জরুরি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণপ্রত্যাশী মহাজোটের আহ্বায়ক মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী স্মরণীয় করে রাখার জন্য মুজিব শতবর্ষই এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণের মাহেন্দ্রক্ষণ। এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ হলে সবচেয়ে বেশী লাভবান হবে গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠি। স্বল্প খরচে সকল নাগরিক একই মানের মানসম্মত শিক্ষা পাবে, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া হ্রাস পাবে, প্রতিষ্ঠানের ফান্ডে থাকা অর্থের অপচয় রোধ হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ