হাকালুকি হাওর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সিংরা

কুলাউড়া প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ১০ ডিসেম্বর ২০২১, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে চলতে চলতে হঠাৎ হাড়ি (পাত্র) নিয়ে বসে থাকা কিছু বালকের দেখা মেলে। এসব বালকগুলো মাছ ধরতে আসেনা। এরা আসে সিংরাই কুড়াতে। সিংরাই এক ধরনের জলজ ফল, যা জলাভূমির বিল-ঝিলে জন্মে থাকে। স্থানীয় লোকজন এটাকে ‘সিংরা বা হিঙ্গাইর’ বলে ডাকে।

দেখতে অনেকটা হোটেল রেস্তোরায় বিক্রি হওয়া সিঙ্গারার মত। তবে তিন কোণায় তিনটি শক্ত কাঁটা থাকে। পড়ন্ত দুপুর বেলা বিলের ধারে বসে সিংরাই ফলের শাঁস খেয়ে ওরা পেটের ক্ষুধা নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এরা প্রায়ই সিংরাই কুড়াতে আসে সুদূর সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর থেকে হাকালুকি হাওরের জল্লা বিলে।

হাকালুকি হাওর পাড়ের প্রবীণ লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সময় নানা প্রজাতির জলীয় উদ্ভিদ ও গুল্মলতায় ভরাট প্রতিটি বিল। শীতকালে প্রতিটি বিল সিংরা, (স্থানীয়ভাবে যাকে ‘হিংগাইর’ বলা হয়), পানি ফল (অর্থাৎ উফল) সহ নানা প্রজাতির গুল্মলতায় ভরপুর থাকত।

হাওরের মূল সম্পদ বলতে বিলে মাছ আর প্লাবন ভূমিতে (কৃষি) ফসলের চাষ। এর বাইরেও বহু অপ্রধান সম্পদ রয়েছে, যার ওপর নির্ভর করে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠী বেঁচে থাকে। এদের এক বেলা হয়তোবা অন্নের সংস্থান হলেও অন্য বেলা এটাসেটা খেয়ে দিনাতিপাত করে।

শুধু সিংরা নয় হাওরে রয়েছে এরকম আরো নানা জাতের জলজ ফলমূল ও শাক-সবজি । এর মধ্যে শাপলা-শালুক, পানিফল, ওকল, মাখনা, ড্যাপ, কলমীশাক, সেঞ্চি, হেলেঞ্চা, মালঞ্চ অন্যতম। এসকল শাক-সবজি ও ফল-মূল একদিকে যেমন সুস্বাদু, তেমনী পুষ্টিগুনেও সমৃদ্ধ। বাজার থেকে চড়া দামে ফলমূল কিনার সামর্থ না থাকলেও এসব অপ্রচলিত ফলমূল খেয়ে তাদের পুষ্টি চাহিদা মেটে অনেকটাই।

প্রকৃত বাস্তবতা হলো এসকল জলজ সম্পদগুলো দিন দিন নি:শেষ হতে চলেছে। কারণ এসকল জলাভূমি প্রতিনিয়ত বোরো ধানের জমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। ইজারাদারেরা বিল শুকিয়ে মাছ ধরে। এছাড়া বর্ষাকালে উপর্যুপরি কারেন্টজাল ও বেড়জাল টানার কারনে এসকল জলজ উদ্ভিদগুলো দিন দিন কমে যাচ্ছে। ফলে হত-দরিদ্র্য শ্রেণীর লোকগুলো এসকল প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার থেকে ক্রমেই সরে পড়ছে।

হাকালুকি হাওরে কর্মরত পরিবেশ অধিদপ্তরের জাহাঙ্গির হোসেন জানান, শুধু তাই নয় এসকল জলজ জংলাকে আশ্রয় করে এর মধ্যে বসবাস করে নানা রকম পোকামাকড়, সাপ, ব্যাঙ, কচ্ছপ, মাছ ইত্যাদি। কিন্তু আবাসস্থল কমে যাওয়ার কারনে এসকল জীববৈচিত্র্য দিন দিন লোপ পেতে চলেছে। এতে বিনষ্ট হচ্ছে জলাভূমির স্বাভাবিক প্রতিবেশগত ব্যবস্থা। তাই এসকল প্রাকৃতিক সম্পদকে রক্ষার্র্থে সচেতন মহলকে সোচ্চার হতে হবে। এতে রক্ষা পাবে জলাভূমির প্রতিবেশ ব্যবস্থা এবং সংরক্ষিত হবে হতদরিদ্র্য শ্রেণীর খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ