শাবিতে চলছে শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি, শীঘ্রই খুলছে হল

শাবি প্রতিনিধি ;
  • প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২১, ৮:৪১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সমূহ। সে উপলক্ষে হলগুলোতে চলছে শেষ মুহুর্তের ধোয়ামোছার কাজ। শিক্ষার্থীদের বরণে কয়েকটি হল ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে তাদের সকল প্রস্তুতি। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নেয়া হচ্ছে সকল ব্যবস্থাও। হলের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কর্মচারী। দ্রুত গতিতে চলছে সংস্কার কাজ।

আঠারো মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল আবাসিক হল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৫ অক্টোবর মাস্টার্স, ২৬ অক্টোবর অনার্স ৪র্থ বর্ষ, ২৭ অক্টোবর ৩য় বর্ষ এবং ২৮ অক্টোবর ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে প্রবেশ করবে।

প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে হলে মেনে চলতে হবে অনেক বিধি নিষেধও। হলে উঠতে হলে অন্তত এক ডোজ টিকা নিতে হবে শিক্ষার্থীদের। হলে কোন অছাত্র থাকতে পারবে না। অর্থাৎ কেবল সকল বৈধ শিক্ষার্থীরাই হলে উঠতে পারবেন। তবে সব ছাপিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর হল খুলছে এটাই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে এখন আলোচনার মূল বিষয়বস্তু। দীর্ঘদিন পর দেখা হতে চলেছে সহপাঠীদের সাথে, শিক্ষার্থীদের কাছে এটাই যেন সবচেয়ে আনন্দের খবর।

এদিকে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমূহ। হল প্রভোস্টদের সাথে কথা বলে তাই জানা যায়। শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান তারা। হলের চারপাশ পরিষ্কার করে ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে সকল সংস্কার কাজ।

শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান খান বলেন, শিক্ষার্থীদের বরণে এবং তাদের সুবিধার্থে শাহপরান হলে ইতোমধ্যে আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। শিক্ষার্থীদের জন্য হলের চারপাশ পরিষ্কার, হলের প্রতিটি ব্লকের ওয়াশরুম সংস্কার, ওয়াশরুমে টাইলস সংযোজন, রিডিং রুম, টিভি রুম সংস্কারসহ পানির ফিল্টারসমূহ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে হলের ডাইনিং, নতুন সেলুন, স্টেশনারি, লন্ড্রি ও খাবারের দোকান খোলা থাকবে। আমরা শিক্ষার্থীদের সাইকেল রাখার সুবিধার্থে নতুন সাইকেল স্ট্যান্ড স্থাপন করবো।

তিনি আরো বলেন, হলটি যেন সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন থাকে সে বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। শিক্ষার্থীরা যেন যেখানে সেখানে ময়লা না ফেলে সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে সকলের। হলটিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে শিক্ষার্থীরা আমাদের সহায়তা করবে এটাই তাদের কাছে আমাদের কাম্য।

প্রথম ছাত্রী হলের প্রভোস্ট জায়েদা শারমিন বলেন, আমরা আমাদের সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করেছি। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রায় সকল কাজই আমরা সম্পন্ন করেছি। ছোট ছোট কিছু কাজ বাকি আছে আমরা আশা করছি হল খোলার আগেই সকল কাজ শেষ হয়ে যাবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন পর হল খুলছে এজন্য আমরা অনেক আনন্দিত যে শিক্ষার্থীরা আবারও হলে ফিরতে পারছে। শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে আমরা প্রস্তুত আছি। আমরা বিগত সময়ের সকল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি। পানির সমস্যা সমাধান, হলের ডাইনিং, ওয়াশরুম পুনঃসংস্কারসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজ সমাপ্ত করেছি।

তিনি বলেন, হলে উঠতে হলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই হলের বৈধ শিক্ষার্থী হতে হবে। হলে উঠতে হলে তাদের অবশ্যই এক ডোজ টিকা নিতে হবে এবং টিকার রেজিস্ট্রেশন কার্ডের ফটোকপি অথবা টিকা নেয়ার প্রমাণপত্র দেখিয়ে উঠতে হবে।

সৈয়দ মুজতবা আলী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আবু সায়েদ আরফিন খান বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আমরা রিডিং রুমে এসি স্থাপন, ওয়াশরুমে টাইলস স্থাপন এবং অন্যান্য সংস্কারকাজসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির দিকে গুরুত্ব দিয়ে হলের সামনে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সবসময়ের জন্য হ্যান্ড সেনিটাইজারের ব্যবস্থা রেখেছি। এছাড়াও জরুরী চিকিৎসা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ