সিলেটে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র, বাড়বে কর্মসংস্থান

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ২০ অক্টোবর ২০২১, ৬:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

প্রবাসীদের বিনিয়োগে সিলেটে হচ্ছে নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। এ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সাপ্লাই হবে জাতীয় গ্রিডে। ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হবে অন্তত ১৫০ জন মানুষের। সেই সাথে চাপ কমবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওপর। টানা ১৫ বছর চলবে উৎপাদন।

পরে ধাপে ধাপে উৎপাদনের আয়ুষ্কাল আরো বাড়ানো হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দেয়া আইপিপি চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক ৭ উদ্যোক্তার বিনিয়োগে তৈরি ‘আমেরিকান লিবার্টি পাওয়ার বিডি লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি গড়ে তোলার কাজটি করছে।

তাই নতুন এ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি হলে সিলেটে লোডশেডিং অনেক কমে আসবে বলে জানালেন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ অঞ্চল সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পালবাড়ি এলাকায় পিডিবির ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, কুশিয়ারা পাওয়ার প্লান্টের ১৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও বারাকা পাওয়ার প্লান্টের ৫১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মাঝখানেই গড়ে উঠছে আমেরিকান লিবার্টি পাওয়ার বিডি লিমিটেডের ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি।

এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জায়গা কিনে কাঠামো নির্মাণ শেষে জালালাবাদ গ্যাসের সাথে গ্যাস সংযোগের চুক্তিও সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বছর ২০২২ সালের শেষের দিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন আমেরিকান লিবার্টি পাওয়ার বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মেদ কায়সার জে. চৌধুরী।

তিনি সিলেট ভয়েসকে জানান, মোট ৭ উদ্যোক্তার মধ্যে ৬ জনের বাড়ি সিলেট। আর একজনের বাড়ি কুমিল্লা। লিবার্টি পাওয়ার ইউএসএ ইন নাম দিয়ে ১৯৯৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা করে আসলেও বাংলাদেশে এটিই প্রথম বিনিয়োগ। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়েই দেশে বিনিয়োগ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী আমেরিকার একটি কনফারেন্সে উপস্থিত হয়ে প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এর পর আমরা ২০১৩ সালে ‘আমেরিকান লিবার্টি পাওয়ার বিডি লিমিটেড’ নাম দিয়ে ঢাকায় কার্যালয় তৈরি করি। সে সময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আইপিপি টেন্ডারের মাধ্যমে আমরা ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজটি পাই।

এর পর জায়গা কিনে কাঠামো নির্মাণ শুরু হলেও মূল কাজ আটকেছিল গ্যাস সংযোগের কারণে। গত ১৪ অক্টোবর জালালাবাদ গ্যাসের সাথে গ্যাস সংযোগের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। এ পাওয়ার প্লান্টে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ৩ শতাংশ মুনাফায় ৩২০ কোটি টাকা ঋণ দেবে। আর বাকি ৮০ কোটি টাকা নিজেরা বিনিয়োগ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে।

এখানে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সিলেটের মানুষকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে আমেরিকান লিবার্টি পাওয়ার বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মেদ কায়সার জে. চৌধুরী বলেন, এখানে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন। তবুও আমরা চেষ্টা করব প্রথমে সিলেটের মানুষ দিয়েই কাজ করানো। একান্ত সম্ভব না হলে তখন সিলেটের বাহিরের মানুষদের সুযোগ দেয়া হবে।

আগামীতে অন্য কোনো বিনিয়োগের পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবে শুরু করলাম। দেশে যদি সুযোগ সুবিধা ভালো থাকে তাহলে বিনিয়োগ বাড়াব। আগামীতে এগ্রো খামার তৈরির ইচ্ছা আছে। এ খাতে আমাদের মানুষ অনেক অভিজ্ঞ। তাই মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বেকারত্ব দূর হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবেশ প্রবাসীদের বিনিয়োগবান্ধব উল্লেখ করে সকল প্রবাসী ব্যবসায়ীদের দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

অপরদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ অঞ্চল সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির জানান, নতুন এ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হলে সিলেটে লোডশেডিং কমে আসবে। কারণ এখন যে পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা তাতে চাপ বেশি থাকায় কোনো একটি উৎপাদন কেন্দ্রে সমস্যা হলে লোডশেডিং তৈরি হয়। সে ক্ষেত্রে নতুন এই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র চালু হলে সিলেটের মানুষের বিদ্যুতের ভোগান্তি কমে আসবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ