ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সিলেটে বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক ;
  • প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০২১, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি প্রত্যাখান করে বিক্ষোভ করেছেন নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নগরীর চৌহাট্টায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।

এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ‘টাকার বিনিময়ে’ কমিটি দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে নানা স্লোগান দেন। এসময় সড়কে টায়ার জালিয়ে প্রতিবাদও করেন নেতাকর্মীরা। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে দীর্ঘ অপেক্ষার পর সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সিলেট জেলা কমিটির নতুন সভাপতি হিসেবে নাজমুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাহেল সিরাজের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

জয় ও লেখক স্বাক্ষরিত ছাত্রলীগের প্যাডে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান, বিপ্লব কান্তি দাস, মুহিবুর রহমান মুহিব, কনক পাল অরুপের নাম ঘোষণা করা হয়।

অপরদিকে, সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি হেসেব কিশওয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাইম আহমদের নাম ঘোষণা করা হয়। মহানগর কমিটিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে হোসাইন মোহাম্মদ সাগর ও সঞ্জয় পাশী জয়ের নাম উল্লেখ করা হয়।

এদিকে- সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণার পরপরই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। কমিটি ঘোষণার পরপরই পদত্যাগ করেছেন দুইজন। তারা দুজনকেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য করা হয়েছিল।

এরমধ্যে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুর রহমান মুহিব ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান।

প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীন কোন্দলে ছাত্রলীগ কর্মী ওমর মিয়াদ হত্যাকান্ডে ২০১৭ সালের ১৮ অক্টোবর বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয় সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কমিটি। আর ২০১৮ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ২১ অক্টোবর বিলুপ্ত করা হয় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি। এরপর একাধিকবার সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

সিলেটে জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষে গত ১৩ মার্চ সিলেটে কর্মী সভা করে ছাত্রলীগ। এতে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য।

এ ব্যাপারে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদ জানান, রাহেল একজন অছাত্র। সে পাঠশালা পাস করেছে কি না সন্দেহ। রাহেল আমার কাছে বহুবাার এসেছিল গোলাপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিতে আসার জন্য। সিভি দিয়েছিলো জাল এসএসসি পাস সার্টিফিকেট বানিয়ে। আমি অনলাইনে সার্চ দিয়ে দেখেছি এটা জাল। তার ছাত্রত্ব না থাকায় আমি কোনো পাত্তা দেই নি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতারা টাকার বিনিময়ে রাহেলকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বানিয়েছেন। অন্যদিকে সভাপতি পদ পাওয়া নাজমুল এমসি কলেজে গৃহবধুকে গণধর্ষণকারীদের গডফাদার। সে র্যাবের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, নারী নির্যাতনসহ একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নাজমুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকটাকার মোহে অন্ধ হয়ে অযোগ্য ও দাগী অপরাধীদের হাতে ছাত্রলীগের ক্ষমতাভার তুলে দিয়েছে। ১ কোটি ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে কমিটি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আমরা সিলেটের পবিত্র মাটিতে এসব অপরাধী অযোগ্যদের অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ