নোমান এখন প্যারিসে

নিজস্ব প্রতিবেদক ;
  • প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২১, ৫:১০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

কোম্পানীগঞ্জের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল নোমান। সিলেটের আলোচিত রায়হান হত্যার ৬ নম্বর আসামি তিনি। নোমান ছাড়া ওই মামলার বাকি পাঁচ আসামি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত ছিলেন। পাঁচ জনই বর্তমানে কারাগারে আছেন। ইতিমধ্যে মামলার চার্জ গঠন করা হয়েছে। রায়হানকে হত্যার সাথে জড়িত না থাকলেও নোমানের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এনেছে তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালত নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। ঘটনার পর থেকে পলাতক নোমানকে গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

একটি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইউরোপে অবস্থান করছেন পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমান। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস শহরের অদূরে একটি গ্রামে অবস্থান করছেন তিনি। এদিকে নোমানকে গ্রেপ্তারের জন্য এখনো তৎপর রয়েছে পিবিআই, সিলেট জেলা পুলিশ, মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সংস্থা।

ঘটনার ৪ দিন পর থেকেই পলাতক রয়েছেন আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বুড়িডহর গ্রামের ইছরাইল আলীর ছেলে। নোমান সিলেটের বেশ কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।

একটি সূত্রে জানা গেছে, রায়হান হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর মজুমদারিস্থ ভাড়া বাসাতেই ছিলেন আব্দুল্লাহ আল নোমান। হার্ডডিস্ক গায়েবের খবর গণমাধ্যমে আসার পর সটকে পড়েন তিনি। এরপর বেশ কিছুদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থানের পর উত্তরবঙ্গ হয়ে ভারতে পাড়ি জমান নোমান। দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যেও কিছুদিন অবস্থান করেন তিনি। সেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক বন্ধুর মাধ্যমে নাম পরিচয় লুকিয়ে ভিন্ন নামে ভারতের আধার কার্ড, পাসপোর্টসহ জাল কাগজপত্র জোগাড় করেন নোমান। এরপর ভারত থেকে অন অ্যারাইভাল ভিসায় আরো একটি দেশে আশ্রয় নেন। মাসখানেক আগে সেখান থেকে ইউরোপে পাড়ি জমান নোমান। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নোমান ফ্রান্সে অবস্থান করছেন। প্যারিস শহর থেকে দূরে একটি গ্রামে পরিচিত এক অভিবাসীর বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানিয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। তবে সূত্রের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এসএমপি কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ জানান, মামলার তদন্ত করেছে পিবিআই। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন আছে। নোমান কোথায় আছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ বলছে রাশিয়া, কেউ বলছে ফ্রান্স, কেউবা বলছে এখনো ভারতেই আছে। নির্দিষ্ট তথ্য পেলে পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে এনসিবি ডিপার্টমেন্ট আন্তর্জাতিকভাবে নোমানকে গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করতে পারবে।

তিনি আরও জানান, আদালত থেকে পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে। আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব না হলে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবে। এর ভিত্তিতে আদালত তার সমস্ত সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ প্রদান করবেন। পাশাপাশি আসামির বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হবে ।

গত বছরের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেটের আখালিয়ার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। রায়হানের মৃত্যুর পরদিন ১২ অক্টোবর তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী বাদী হয়ে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর মহানগর পুলিশের একটি অনুসন্ধান কমিটি তদন্ত করে ফাঁড়িতে নিয়ে রায়হানকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে ১২ অক্টোবর সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়। এরপর কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই। তবে প্রধান অভিযুক্ত আকবর ১৩ অক্টোবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে ভারতে চলে যান। ৯ নভেম্বর সিলেটের কানাইঘাট সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তের শেষ পর্যায়ে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রধান আসামি আকবরকে পালাতে সহায়তা করা ও আলামত গোপন করার চেষ্টার অভিযোগে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ‘টুআইসি’ (সেকেন্ড-ইন-কমান্ড) পদে থাকা সাময়িক বরখাস্ত উপপরিদর্শক হাসান উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরপর ৫ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আলোচিত এ মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়। ৩০ সেপ্টেম্বর আদালত এক হাজার ৯০০ পৃষ্ঠাার তদন্ত প্রতিবেদনা চার্জশিট গ্রহণ করেন এবং এ সময় মামলার পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ