দুর্গাপূজা নিয়ে ২০ নির্দেশনা দিলো এসএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক ;
  • প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

চলমান করোনা পরিস্থিতিতে আসন্ন দুর্গাপূজায় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত ও নিরাপত্তা বিষয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। ১১ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে।

শনিবার রাতে এসএমপি থেকে প্রেরিত এক গণ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছন এসএমপি’র মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ কমিশনার বিএম আশরাফ উল্লাহ তাহের।

বিজ্ঞপ্তিতে শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য স্বল্প জনসমাগম এবং করোনা ভাইরাসের সংক্রমন বৃদ্ধি এড়াতে সিলেটবাসীকে নিম্নোক্ত পরামর্শসমূহ অনুসরণের অনুরোধ জানায় এসএমপি।

এসএমপির ২০ নির্দেশনা হচ্ছে :

১। পূজা মণ্ডপে প্রবেশের ক্ষেত্রে সু-শৃঙ্খল ও সারিবদ্ধ ভাবে প্রবেশ করবে। যে সকল মন্দিরে বিপুল সংখ্যক জনসমাগম ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে, সে সকল মন্দিরে জনসমাগমে মাইকিং ও স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২। কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুর্গাপূজা উদযাপন করা। পূজা মণ্ডপের প্রবেশ মুখে দৃশ্যমান স্থানে স্বাস্থ্যবিধি সম্বলিত ব্যানার টাঙ্গানোর জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
৩। মণ্ডপগুলোতে আয়োজক কর্তৃক পূজামণ্ডপসমূহের প্রবেশ মুখে পুরুষ ও নারীর জন্য পৃথকভাবে হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার সাবান ও পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ও থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা রাখা। প্রয়োজনে জীবানুনাশক অটো স্প্রে মেশিন বসানো।
৪। পূজামণ্ডপে মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক।
৫। প্রতিমা তৈরির সময় পূজামণ্ডপগুলোতে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা।
৬। শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজক কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দ্বারা পুলিশের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও অনাকাঙ্খিত ব্যক্তি/বস্তু সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের আলাদা পোশাক বা দৃশ্যমান পরিচয়পত্র/‘স্বেচ্ছাসেবক’ লিখিত আর্মড ব্যান্ড পরিহিত অবস্থায় থাকার জন্য অনুরোধ করা হল।
৭। পূজা উদযাপন কমিটি কর্তৃক পূজামণ্ডপে শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক পৃথক প্রবেশ ও প্রস্থান পথের ব্যবস্থা করা।
৮। পূজা মণ্ডপে ব্যাগ, থলে, পোটলা, সুটকেস, টিফিন ক্যারিয়ার বা এ জাতীয় কোন বস্তু বহনকারীকে দেখলে তল্লাশীর আওতায় নিয়ে আসা। পূজা মণ্ডপের আশেপাশে কোন ফেরিওয়ালা, বাদাম, চানাচুর বিক্রেতা বা ছদ্মবেশী কোন হকার, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি হতে সতর্ক থাকা।
৯। গুরুত্বপূর্ণ পূজা মণ্ডপ ও প্রতিমা বিসর্জনের স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসি টিভি স্থাপন/ভিডিও রেকর্ডিং এর ব্যবস্থা করা।
১০। বড় বড় মন্দিরগুলো হতে পূজার মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা যথা-‘লগ্ন অনুযায়ী পুরোহিত কর্তৃক পূজা সম্পাদন’ ‘আরতি’ ও ‘অঞ্জলি প্রদান’ অনুষ্ঠানসহ অবশ্য পালনীয় আচার-অনুষ্ঠানাদি পালনে সু-শৃঙ্খলতা বজায় রাখা।
১১। পূজা চলাকালীন বিস্ফোরক এবং পটকা ফুটানো হতে বিরত থাকা এবং পূজা উপলক্ষে কোন ধরণের মেলা এর আয়োজন না করা।
১২। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে পূজা উদযাপন কমিটি কর্তৃক পর্যাপ্ত আলো, স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর/হ্যাজাক লাইট এবং প্রতিমা বিসর্জনের স্থানে মাইক ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে পূজা কমিটি কর্তৃক পূর্বেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করা।
১৩। প্রতিমা বিসর্জন দুপুর ২টা হতে রাত ১০ টার মধ্যে সম্পন্ন করা। প্রতিমা বিসর্জনে শোভাযাত্রায় মাইক/সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার না করা। শিশু ও বয়স্ক লোকদের শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করা।
১৪। পূজা মণ্ডপ এলাকায় যানজট নিরসনকল্পে ট্রাফিক পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা করা।
১৫। পূজা মণ্ডপের পাশে অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখা এবং প্রয়োজনে ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোলরুমের (০১৭৩০-৩৩৬৬৪৪) সাথে যোগাযোগ করা।
১৬। দুর্গাপূজা উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় কোন গোষ্ঠী/স্বার্থান্বেষীমহল উস্কানীমূলক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা চালাতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখা। কোন ধরণের সাম্প্রদায়িক ও অপ্রীতিকর কোন জিনিস পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট থানা অথবা পুলিশ কন্ট্রোল রুমকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।
১৭। ইভটিজিং এর দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে এবং পুলিশ ও আনসার এর মাধ্যমে প্রতিরোধের ব্যবস্থা করতে হবে। তরুণী এবং মহিলাদের সম্মানের ক্ষেত্রে কোন অপরাধ অমার্জনীয়।
১৮। ছিনতাই প্রতিরোধে সজাগ থাকবে এবং মাইকিং এর মাধ্যমে বারে বারে সকলকে সতর্ক করতে হবে।
১৯। চা-বাগান এলাকায় নিয়ম শৃঙ্খলা সুষ্ঠু রাখার জন্য পুলিশকে দ্রুত অবহিত করতে হবে।
২০। মাইকিং এর ব্যবস্থার মাধ্যমে হারানো জিনিষ বা ব্যক্তি খুঁজে পাওয়ার প্রচার ও অভিযোগ কেন্দ্রের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

জরুরী প্রয়োজনে নিম্নোক্ত নাম্বারগুলোতে যোগাযোগের অনুরোধ জানায় এসএমপি।

ডিসি (উত্তর)-০১৩২০০০৬৭৫৩০
ডিসি (দক্ষিণ) ০১৩২০০৬৭৬৫০
ডিসি (ট্রাফিক) ০১৩২০০৬৭৭৭০
ওসি, কোতয়ালি থানা-০১৩২০০৬৭৫৬৮
ওসি, জালালাবাদ থানা -০১৩২০০৬৭৫৯৪
ওসি, এয়ারপোর্ট থানা -০১৩২০০৬৭৬২০
ওসি, দক্ষিণ সুরমা থানা -০১৩২০০৬৭৬৮৮
ওসি, শাহপরাণ(র) থানা -০১৩২০০৬৭৭৪০
ওসি, মোগলাবাজার থানা -০১৩২০০৬৭৭১৪
পুলিশ কন্ট্রোল রুম: (২৪ ঘন্টা খোলা) মোবা-০১৩২০০৬৯৯৯৮/০১৯৯৫-১০০১০০/০৮২১-৭১৬৯৬৮
ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম : ০৮২১-৭১৮০২৮
ডিবি কন্ট্রোল রুম : ০৮২১-৭২০০৬৬
জাতীয় সেবা-৯৯৯

এদিকে সিলেট মহানগরী পুলিশ আইন-২০০৯ এর ধারা-১১১ এর প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিটি শারদীয় দুর্গাপূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পূজা অনুষ্ঠান উপভোগের স্বার্থে নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ