সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে

নাজমুল ইসলাম, জৈন্তাপুর ;
  • প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৪ সপ্তাহ আগে

সিলেটের জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বেড়েছে পর্যটকদের।

করোনার বিধি-নিষেধ উঠে যওয়ার পর থেকে নানা বয়সী পর্যটকরা ভিড় করেছেন পর্যটনকেন্দ্রে। জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পনীগঞ্জ উপজেলায় উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকটি পর্যটন স্পট রয়েছে। লালাখাল, শাপলাবিল, শ্রীপুর, জাফলং, বিছনাকান্দি, রাতারগুল ও সাদাপাথর ভোলাগঞ্জ পর্যটকদের সরব উপস্থিতি ছিলো লক্ষনীয়।

তবে, সব চাইতে বেশি পর্যটকের ভিড় ছিলো জাফলং, লালাখাল ও সাদাপাথর খ্যাত ভোলাগঞ্জে। বেশিরভাগ পর্যটকই ছিলেন সিলেটের বাহিরের। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্রমণ পিপাসুদের পদভারে মূখরিত ছিলো পর্যটন এলাকার চারপাশ।
ছুটির দিনে কয়েক হাজার পর্যটক এসেছেন, লালাখাল, ভোলাগঞ্জ ও জাফলংয়ে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১৯ আগস্ট থেকে পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো খোলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমিরা।

গত তিন সপ্তাহ সরজমিন নীলনদ খ্যাত লালাখাল, সাদাপাথর ভোলাগঞ্জ ও ঝুলন্ত ব্রীজ জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই নানা বয়সের পর্যটকরা ভ্রমণে আসেন। দুপুরের দিকে জাফলংয়ের জিরোপয়েন্টে, লালাখালের চা বাগান ও কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জে ভিড় বাড়তে থাকে। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবার নিয়ে ঘুরে আনন্দ ভাগাভাগি করছেন। কেউ কেউ জিরো পয়েন্ট থেকে নৌকা নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন মায়াবী ঝর্ণায়। চা-বাগান, খাসিয়া পল্লীতেও ছিলো পর্যটকদের আনাগোনা।

মায়াবী ঝর্ণায় কথা হয় কুমিল্লা থেকে আগত পর্যটক ইয়াহিয়ার সাথে। তিনি বলেন, করোনার সময় দীর্ঘদিন থেকে ঘরবন্দী ছিলেন তারা। এখন পর্যটন স্পটগুলো খোলায় বেড়াতে এসেছেন তারা। এখানে এসে মনটা খুব ভালো হয়ে গেছে।

পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন সুনামগঞ্জের সামসুল ইসলাম তিনি জানান, এতোদিন কোথাও যাওয়া হয়নি। পরিবারের সদস্যদের বায়না ছিলো জাফলংয়ে আসা। তাই তাদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। তাছাড়া এখানকার রাস্তাঘাট ভালো থাকায় কোন সমস্যা হয়নি তাদের।

পর্যটন এলাকার ব্যবসায়ী মরম আলী জানান, পর্যটন কেন্দ্র খোলার পর থেকে আস্তে আস্তে পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। তবে, সপ্তাহের শুক্র ও শনিবার এখানে পর্যটক বেশি আসেন। অন্যান্য দিন কিছুটা কম থাকে কসমেটিক্স ব্যবসায়ী ফয়জুর রহমান বলেন, পর্যটন এলাকা খোলার পর থেকেই প্রতিদিই পর্যটকরা আসছেন। শুক্র ও শনিবার পর্যটক বেশি আসেন। বেচা-কেনাও ভালো।

স্থানীয় ফটোগ্রাফার ফয়ছল আহমদ বলেন, শুক্র ও শনিবার প্রচুর দর্শনার্থী বেড়াতে এসেছেন। এই দুইদিন ফটো তুলে ভালো রোজগার হয়েছে। এতে আবারও কর্মমুখর হয়ে পড়েছি আমরা।

ভোলাগঞ্জ জয় বাংলা রেস্টুরেন্টের প্রোপাইটর জানান, করোনার কারণে দীর্ঘ চার মাসের মতো দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল। এসময় তারা আর্থিক সঙ্কটে পড়েন। পর্যটনকেন্দ্র খোলার পর থেকে রেস্টুরেন্ট চালু রয়েছে। এখন প্রতিদিনই তারা কাস্টমার পাচ্ছেন। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় খুশি তিনি।

জাফলং গ্রীণ রিসোটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাবলু বখত জানান, দীর্ঘদিন করোনার প্রায় কয়েক মাস তাদের রিসোর্ট বন্ধ ছিল। এখন পর্যটন খোলায় পুরোদমে চলছে ব্যবসা। গতকাল শনিবার পর্যন্ত রিসোটের ৯০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ায় অনেক খুশি।
এদিকে, গত দুইদিন ধরে প্রকৃতির অপ্সরাখ্যাত বিছনাকান্দি ও সোয়ামফরেস্ট রাতারগুলেও ছিলো পর্যটকমুখর পরিবেশ। প্রতিদিনই দলবেধে পর্যটকরা ছুটে যাচ্ছেন সেখানে। নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখছেন সৌন্দর্য।

এ ব্যাপারে জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ মোঃ রতন শেখ জানান, লকডাউনের পর থেকে জাফলংয়ে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে এসেছেন।
পর্যটকরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সৌন্দর্য উপভোগ করেন সেজন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে আহ্বান করা হচ্ছে। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন লাইফ জেকেট পরে পানিতে নামলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবো। এছাড়া যে কোন প্রয়োজনে ০১৩২০-১৫৮৩৫০ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য আহব্বান জানান।

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ