আর্থিক সংকটে বন্ধ হলো মৌলভীবাজারের ৩০ কিন্ডারগার্টেন

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

করোনা প্রভাবে দেড় বছর বন্ধ থাকার পর রবিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললেও মৌলভীবাজার জেলার ৩০টি কিন্ডার গার্টেন স্কুলের দরজা খুলেনি। মৌলভীবাজার জেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির সূত্রে জানা গেছে করোনা ভাইরাস প্রভাব ও দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে।

সমিতির হিসেব মতে, করোনার আগ পর্যন্ত জেলায় মোট ৪শ’ ১৪টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল চালু ছিলো। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৪ হাজার ৬শ’ ৬৫ জন শিক্ষক ও ৫শ’ ২৫ জন কর্মচারী নিয়োজিত ছিল। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজারেরও বেশী শিশু শিক্ষার্থী পাঠদানে অংশ নিতো।

বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রীমঙ্গল শহরের উকিল বাড়ি রোডের মাতৃছায়া শিশু শিক্ষা একাডেমি প্রধান মো. ইয়াহিয়া বলেন, ‘করোনা শুরুর পর থেকে স্কুল বন্ধ করে দেই। মাসের পর মাস স্কুলের ভবন ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ যোগাতে গিয়ে স্কুলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিতে হয়েছে। মাতৃছাড়া ছাড়াও বন্ধের পথে রয়েছে শ্রীমঙ্গলের পৌর শহরের দীপশিখা ফ্রি ক্যাডেট অ্যান্ড হাইস্কুল, সুরভী পাড়ার অক্সফোর্ড সায়েন্স স্কুল। এছাড়া টিকরিয়ার আজিজুন্নেসা আব্দুল জব্বার কেজি স্কুল, নাইস মর্নিং কিন্ডারগার্টেন, শহরতলীর মুসলিমবাগের মডেল একাডেমি ও এভারেস্ট কেজি স্কুল রয়েছে বন্ধের পথে।

বন্ধ হওয়া অন্য স্কুল গুলোর মধ্যে রয়েছে, বড়লেখা উপজেলার নবারুণ কিন্ডারগার্টেন, আজিমগঞ্জ কিন্ডার গার্টেন স্কুল, শাবাজপুর কিন্ডারগার্টেন, মর্নিং বার্ড কেয়ার স্কুল, জুড়ি উপজেলার মেরিট কেয়ার কিন্ডারগার্টেন, মাতৃছায়া কিন্ডার গার্টেন, সমাই মডেল স্কুল, কুলাউড়া উপজেলার আলোর দিশারী কিন্ডারগার্টেন, এম আর ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি, এবং রাজনগর উপজেলার সজল বাড়ি একাডেমি।

মৌলভীবাজার জেলা কিন্ডারগার্টেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় আঠারো মাস এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে। শিক্ষার্থী না আসায় বেতন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এতে করে প্রায় সবগুলো প্রতিষ্ঠানে গড়ে ৫০ ভাগ শিক্ষক কর্মচারী চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করে মাছ শিকার ও রিক্সা চালানোর মতো পেশা বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

মনিরুল বলেন, সমিতির মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত জেলার ৩০টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল একেবারে বন্ধ হয়ে গেলেও আরো অনেক স্কুল অর্থাভাবে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো থেকেও শিক্ষকরা হয় চলে গেছেন নয়তো ছাটাই করতে হয়েছে’।

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এহসান বিন মুজাহির বলেন, ‘জেলার ৪শ’ ১৪টি কিন্ডার গার্টেনে গড়ে আড়াইশ’ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতো। শুরু থেকে এসব স্কুলে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনার জন্য যোগ্য করে তোলা হয়। এখানে পাঠ চুকে শিক্ষার্থীরা প্রাইমারী স্কুলের প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেনীতে ভর্তি হতে পারে। সেই ভাবে কোমলমতি শিশুদের গড়ে তোলা হয়।

করোনা প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখন নিয়মিত পড়ালেখা থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে’। তিনি বলেন ‘এই স্কুলগুলো চলতো মূলত: ব্যক্তি মালিকানায় ভাড়া নেয়া বাসা বা ভবনে। মালিকরা শিক্ষক কর্মচারীদেন বেতন, ভবন ভাড়া দিতে না পারায় স্কুলগুলো বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে’। আর বন্ধ হওয়া স্কুলগুলো আবার কখন খুলবে আদৌ খুলবে কিনা তা আমরা জানিনা না বলে জানান তিনি।

জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শামসুর রহমান বলেন, কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলো নিয়ে আমাদের কোন মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। তবে কোন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বাহিরে যাতে না থাকে সেজন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীদের সরকারী প্রাথমিক স্কুলগুলোতে সংযুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে। বন্ধ হওয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো চালুর বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের করনীয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা জাতীয় সিদ্ধান্ত, যা আমরা নিতে পারি না।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ