আরিফকে অকৃতজ্ঞ বললেন আসাদ

আসাদ উদ্দিন আহমদ;
  • প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৮:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

সম্প্রতি সরকার ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর করা কটুক্তিমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেইসাথে এসব অসৌজন্যমূলক, অশালীন বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহবান জানাচ্ছি।

মেয়র সাহেব, আপনি ভুলে যাবেন না আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়রের চেয়ারে বসে আছেন এবং ইচ্ছামতো সরকারের টাকার অপচয় করছেন।

অতীতে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন মহোদয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সিলেট নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দু-হাত ভরে সিটি কর্পোরেশনকে শত শত কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছেন। আপনি সেই টাকায় পছন্দের ঠিকাদারকে দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে যা ইচ্ছা তা করে যাচ্ছেন। এত গাফিলতি এবং অনিয়মের পরেও সরকার উন্নয়নের স্বার্থে দেশের একসময়ের শীর্ষ তালিকাভূক্ত দুর্নীতিবাজ হওয়া সত্ত্বেও আপনার বরাদ্দ বন্ধ করেনি, কিংবা সিলেটের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেনি। কারণ আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না বরং সম্প্রীতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী।

দুঃখ হয়, এত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পরও আপনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গন্ডারের চামড়ার সাথে তুলনা করলেন। আর কি পেলে আপনার মধ্যে সামান্যতম কৃতজ্ঞতাবোধ জন্ম নেবে?

বক্তব্যে আপনি শক্ত আন্দোলনে যাওয়ার কথা বললেন। সেটি আবার মিছিল-মিটিং ছাড়া অন্যভাবে। তবে কি আপনি আবারও ২০১৪ সালের মতো পেট্রোল বোমার দ্বারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যার ইঙ্গিত দিলেন? ভবিষ্যতে যদি আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে এধরণের কোন সহিংসতার ঘটনা ঘটে তবে উস্কানিদাতা হিসেবে এর দায়-দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে।

মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় পর থেকেই আপনি নগর ভবনকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছেন। সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সিটি কর্পোরেশনকে রূপ দিয়েছেন মানুষের আতঙ্কের প্রতিষ্ঠান হিসেবে। অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে মাস্টার রোলে নিয়োগ দিয়েছেন কয়েকশ কর্মকর্তা-কর্মচারী। যানবাহন ক্র‍য় থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ে করা হয়েছে পাহাড়সম দুর্নীতি। এক কাজ একাধিকবার করে তুলেছেন শত কোটি টাকা বিল। জলাবদ্ধতা নিরসনে এখন পর্যন্ত শত শত কোটি টাকা ব্যয় হলেও মাত্র ১০ মিনিট বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় অর্ধেক নগরী। নগরবাসীর আবেগের যায়গা হযরত মাণিক পীর গোরস্থানে মানুষের স্বজনের কবরে চালিয়েছেন বুলডোজার, জুতা পায়ে সদলবলে হাঁটছেন কবরের উপর দিয়ে।

নগরবাসীকে পানীয় জলের ব্যবস্থা আর মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে চরম ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছেন। আর, সিলেটের রাস্তাঘাটের দুরবস্থার কথাতো মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু তা আপনার কানে পৌঁছায় না।

গত কয়েকদিন আগেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের বরাদ্দ থেকে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন ইউনিয়নের যায়গায়। জনশ্রুতি আছে, শুধুমাত্র ব্যক্তিস্বার্থে নিজের মালিকানাধীন ভূমির কদর বাড়াতেই এ কাজ করা হয়েছে।

আপনার এসব আচরণ দেখে সিলেটি ভাষার একটা প্রবাদ খুব মনে হচ্ছে- ‘কার হগদায় খাওগো বান্দি, ঠাকুর চিনোনা’।

লেখক : সহ সভাপতি ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ।

(লেখকের ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ