এবারও লকডাউনে পুলিশের সেই নায়েক সফি ও তাঁর মানবিক টিম সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল ২০২১, ২:২৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৬ মাস আগে

২০২০ সালের ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত করোনা পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়া শিক্ষার্থী ও হতদরিদ্র মানুষের সাহায্যে কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের নায়েক মো. সফি আহমেদ ও তাঁর প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা মানবিক টিম সিলেট।

শুধু খাদ্যসামগ্রী আর করোনা সচেতনতায় মাস্ক আর হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণে সীমাবদ্ধ নয় মানবিক টিম। অসহায় শিক্ষার্থীদের খরচবহন, করোনায় আক্রান্তদের প্লাজমা ও রক্ত দেওয়া, করোনায় সংক্রমিত হয়ে নিহতদের দাফন কাফন করা। আবার করোনা আক্রান্তদের বিনা খরচে ওষুধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাসাবাড়ি অথবা হাসপাতালে পৌঁছেও দিচ্ছেন তারা। আর এসব কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়কের কাজ করছেন নায়েক মো. সফি আহমেদ।

আবার ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউনে যাচ্ছে দেশ। করোনার সংক্রমণের কারণে সিলেটে কর্মহীন হয়ে পড়ায় নিম্নবিত্ত তো বটেই মধ্যবিত্তরাও সঙ্কটে পড়েছেন। কারও কাছে হাত পাততেও পারছেন না অনেকে।

এমন পরিস্থিতিতে মানবতার ডাকে সাড়া দিয়ে দিনরাত সিলেটের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের নায়েক সফি আহমেদ। সাধ্যমতো সহায়তা তুলে দিচ্ছেন দুর্দশাগ্রস্ত পরিবারের হাতে। অনেকটা নীরবে তিনি এ তৎপরতা চালালেও ইতোমধ্যে তিনি ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন অসহায় মানুষদের কাছে। মানবিক টিম সিলেটের মাধ্যমে তিনি এই মানবিক কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

মো. সফি আহমেদ সিলেট মহানগর পুলিশের নায়েক পদে কর্মরত। বর্তমানে তিনি মহানগর পুলিশের মিডিয়া ও কমিউনিটি সার্ভিস বিভাগে কর্মরত আছেন।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সিলেট নগরের ঘাসিটুলা এলাকায় ইউসেপ ঘাসিটুলা স্কুলের সুবিধাবঞ্চিত বেশ কয়েকজন এতিম শিক্ষার্থীর মধ্যে চার কেজি করে চাল, তেল- ১ লিটার, ডাল- ১ কেজি, আলু ২ কেজি, পিয়াজ ১ কেজি, ছোলা- ৫০০ গ্রাম, মুড়ি ৫০০ গ্রাম, মাস্ক-৩০০ পিস, সাবান- ৬০ পিস সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহিদা জামানের তত্ত্বাবধানে বিকেল ৫টায় এসব খাদ্যসামগ্রী ও মাস্ক ও সাবান বিতরণ করা হয়। এমন সহায়তা পেয়ে খুশি অসহায় শিক্ষার্থীরাও।

মানবিক টিম সিলেটের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও ঘরবন্দি মানুষের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণে আর্থিক সহযোগিতা করেন পুলিশের নায়েক সফি আহমদ ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন মানবিক টিমের শুভাকাঙ্খী নারী উদ্যোগক্তা চৌধুরী জান্নাত রাখি।

এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ছামির মাহমুদ, ইউসেপ স্কুল ঘাসিটুলার শিক্ষিকা শাহিদা জামান,
মানবিক টিম সিলেটের প্রধান সমন্বয় মো. সফি আহমেদ, মানবিক টিম সিলেটের সদস্য রবিউল ইসলাম রবি।

পুলিশের নায়েক মো. সফি আহমেদ জানান, আমার রেশনের খাদ্যসামগ্রী, বেতন ও বোনাসের টাকা একাজে ব্যয় করছি। এছাড়া সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার স্যার থেকে শুরু করে বেশিরভাগ সিনিয়র স্যাররা একার্যক্রমে আমাকে উৎসাহ ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন। পাশাপাশি প্রবাসীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হৃদয়বান মানুষজনও আমাকে এমন কাজে সহায়তা করছেন। সবার সহযোগিতা নিয়েই মানবিক টিম সিলেট তাঁর কার্যক্রম চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ১৬ জনের লাশ দাফন কাফন মানবিক টিম সিলেট করেছে। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির জন্য ১০১জন ডোনারের মাধ্যমে প্লাজমা দান করানো হয়। করোনা পরিস্থিতিতে এতিমখানার বাচ্চাদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এতিমখানা প্রায় ৫০ দিনের অধিক রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়ি গিয়ে যেকোনো ধরনের জিনিসপত্র ডেলিভারি (সার্ভিস চার্জ ছাড়া) ৪০ জনকে সহযোগিতা করা হয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে অসহায়, হতদরিদ্র, ও ছিন্নমূল মানুষদের প্রায় ১০০ জনকে (ওষুধ, আর্থিক ও সেচ্ছাসেবী) চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতিতে রক্তের প্রয়োজন এমন ৮০০ জন রোগীকে রক্তের ব্যবস্থা করে দিয়েছি আমরা।

২০২০ সালের এপ্রিলে দেশে লকডাউনের পর সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে প্রতিদিন মোটরসাইকেলে করে ঘুরে ঘুরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শুরু করেন মো. সফি আহমেদ। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ সহস্রাধিক পরিবারকে সহায়তা করেছেন এ পুলিশ সদস্য। আগামীতেও অসহায় মানুষদের আরও সহায়তা করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ