প্রবাসীদের টার্গেটে সিলেট ৩

মঈন উদ্দিন ;
  • প্রকাশিত: ৭ এপ্রিল ২০২১, ৮:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ সপ্তাহ আগে

‘শোক কাটাতে থাকা’ সংসদীয় আসন সিলেট-৩ ধীরে ধীরে নির্বাচনী সড়কে পা ফেলছে। মোড়ের চা’য়ের ঘর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজারে চলছে নির্বাচন এবং প্রার্থী নিয়ে আলোচনা। এই আলোচনায় মূলতঃ আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিয়েই কথা হচ্ছে বেশী। কারণ ভোটাররা মনে করছেন আওয়ামী লীগ যাকেই মনোনয়ন দেবে এমপি হওয়ার ক্ষেত্রে তিনিই এগিয়ে থাকবেন দু কদম। এই অবস্থায় সবচেয়ে দামি প্রশ্নটা হচ্ছে, কে পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের টিকিট? ঘুরেফিরে মানুষের মনে এই প্রশ্নই উঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে মনোনয়নপ্রাপ্তি নিয়ে প্রবাসীদের দৌড়ঝাঁপ এই প্রশ্নকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রবাসীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন, পাড়া-মহল্লার খেলাধুলা থেকে শুরু করে ঘরোয়া আয়োজন-সবখানেই নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। রাস্তায় রাস্তায় ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়ে নজর কাড়ছেন পথচারিদের। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিজে কিংবা শুভাকাঙ্খীদের দিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা। ‘ফরেন কানেকশন’ ভালো থাকায় প্রবাসীদের কেউ কেউ ‘টিকিটপ্রাপ্তির বিষয়ে’ আত্মবিশ^াসী হয়েই প্রচারণার মাঠে আছেন বলে তাদের ঘনিষ্টজনরা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক প্রচারণায় ইউরোপ-আমেরিকার বেশ ক’জন নেতার এমন আত্মবিশ^াসী মনোভাবেরই চিত্র ফুটে উঠছ
প্রচারণায় এখন পর্যন্ত ৬/৭ জনের নাম শোনা গেলেও এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে ধারণা করছেন সিলেট-৩ আসনের (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জের একাংশ) মানুষ। প্রচারণার দিক থেকে যুক্তরাজ্য প্রবাসী দেওয়ান গৌস সুলতান, স্যার এনাম উল ইসলাম, সেলিম আহমদ, আ স ম মিসবাহ ও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী কফিল চৌধুরী এগিয়ে আছেন। প্রবাসীদের ব্যাপারে কৌতুহলও আছে অনেকের। মানুষ খুঁটিনাটি জানতে চান। তারা কে কী করতেন কিংবা কী করছেন, সেগুলো জানার ক্ষুধা আছে মানুষের।
সেই সূত্রে জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য। তার বড় পরিচয় তিনি ডাক্তার দেওয়ান নুরুল হোসেন চঞ্চলের ভাই। ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সদস্য নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটে সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের চেনা মুখ দেওয়ান গৌস সুলতান সেখানে দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাও কেএম টিলায় ১১ শ’ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়ে ইতোমধ্যে দৃষ্টি কেড়েছেন বৃটেনে ‘স্যার’ উপাধি পাওয়া এনাম উল ইসলাম । যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি তিনি । এমসি কলেজ ইন্টারমেডিয়েট শেষ করে তিনি পাড়ি জমান ব্রিটেনে। ‘বড় ব্যবসায়ী’ হিসেবে তিনি সেখানে সমীহ আদায় করেছেন।
সেলিম আহমদ এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন ১৯৮৫-১৯৮৭ সেশনে। ১৯৮৭ সাল থেকে টানা ১০ বছর সভাপতি ছিলেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা ছাত্রলীগের। ১৯৮৬ সালে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের কার্যকরি সংসদের সদস্য ছিলেন। যুক্তরাজ্যে দক্ষিণ সুরমা সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি ছিলেন ২০১৮ সালে। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা হিসেবে নিজের আলাদা অবস্থান করে নিয়েছেন।
আ স ম মিসবাহ ছাত্র অবস্থাতেই পাড়ি জমান সাত সমুদ্র তেরো নদীর ওপারের দেশ যুক্তরাজ্যে। দেশে ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারণে সেখানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সহজ ‘এক্সেস’ ঘটে তার। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি মিসবাহকে। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
কফিল আহমদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও কৃষক লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মরহুম নজির আহমদ চৌধুরীর ছেলে। আমেরিকায় থাকেন। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কফিল আহমদ চৌধুরী রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন একসময়। একসময় মরহুম মাহমুদ উস সামাদের খুব কাছের মানুষ হিসেবে তাকে চিনতেন অনেকেই।
দক্ষিণ সুরমার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রবাসীরা উঁকিঝুকি দিলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কিছুই বলা যাবেনা। কারণ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েসের পরিবার সেক্ষেত্রে ‘বড় ফ্যাক্টর’। কানাঘুষা আছে এই পরিবার থেকেই হয়তো ‘চমক’ হয়ে কেউ আসতে পারেন।
উল্লেখ্য, ১১ মার্চ করোনায় আক্রান্ত হয়ে সাংসদ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস মৃত্যুবরণ করলে সিলেট-৩ আসন শূন্য হয়ে পড়ে। করোনা পরিস্থিতির মাঝেও তোড়জোড় চলছে উপনির্বাচনের।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ