স্ত্রী স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি ডা. ইমরান

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ মাস আগে

ডা. আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র প্রভাষক ও ডা. শারমিন আক্তার অন্তরা একই কলেজে ইন্টার্নি করছিলেন। পাশাপাশি ৪২ তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার্থী ছিলেন ডা. অন্তরা। ডা. অন্তরার স্বপ্ন ছিলো বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করবেন। অসহায় আর ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়াবেন।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য এ পরীক্ষা দেবার জন্য সকালে নিজ বাসা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্য রওয়ানা হয়েছিলেন দুজন। বাসায় রেখে গিয়েছেন তাদের তিন ও সাড়ে চার বছরের দুই মেয়েকে।

তবে শুক্রবার সকাল পৌণে সাতটায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশিদপুরে এনা পরিবহন ও লন্ডন এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ডা ইমরান খান। তিনি সিলেট নগরের ফাজিলচিস্ত আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আমজাদ হোসেন খানের ছেলে।

এই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নিহত ইমরানের স্ত্রী ডা. শারমিনও। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডা. শারমিন শারমিন সিলেট সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্নি চিকিৎসক। চিকিৎসকদের বিশেষ বিসিএসে অংশ নিতে ঢাকা যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন ডা. ইমরানের মা ফরিদা খানম ও তার স্বজনরা। এসময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা। তাদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকায় নেমে আসেশোকের ছায়া। সকালে যে ছেলেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিদায় দেওয়ার ঘন্টা খানেকের মধ্যেই মুত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না মা ফরিদা। একই অবস্থা ইমরানের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের। শোকে সতব্দ দুই পরিবারের সদস্যরা।

নিহত ডা. ইমরানের বোন ডা, ইন্নরী খান বলেন, আমার ভাই তার তার স্ত্রীকে নিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে সকালে ঢাকা যাচ্ছিলেন। এনা পরিবহণের একটি বাসে রওয়ানা দেন তিনি। যাওয়ার সময় তার দুই মেয়েকে আমাদের কাছে রেখে গেছেন। সকাল সাড়ে সাতটায় খবর পেলাম তারা সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

ডা. ইমরানের শ্বশুর মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, আমার মেয়ে শারমিনও উইমেন্স মেডিকেলে ইন্টার্নি করছে। সে চিকিৎসকদের বিশেষ বিসিএসে অংশ নিতে স্বামীকে নিয়ে সকালে সিলেট থেকে রওয়ানা হয়েছে। এরপর সকালে খবর পেলাম সে মারা গেছে। তিনি বলেন, সকালে ঢাকায় রওয়ানা দেওয়ার আগে তাদের সাথে কথা হয়েছে। কিন্তু কিভাবে কি হলো আমরা বুঝতে পারছি না।  

এর আগে শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটায় সিলেটের রশিদপুরে সিলেটগামী লন্ডন এক্সপ্রেস ও ঢাকাগামী এনা পরিবহণের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া গুরুতর আহত হন আরো ১৮ জন।

নিহতরা হলেন, সিলেটের উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র প্রভাষক আল মাহমুদ সাদ ইমরান খান (৩৩), এনা পরিবহনের বাসচালক ওসমানীনগর উপজেলার বরখা গ্রামের মঞ্জুর আলী (৩৮), হেলপার একই গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪), সুপারভাইজার সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মিঠাভরা গ্রামের সালমান খান (২৫), বি বাড়িয়ার সরাইল থানার রাজানিয়াকান্দি পশ্চিম পাড়ার  নুরুল আমিন (৫০), ঢাকার ওয়ারি এলাকার নাদিম আহমদ সাগর (২৯), সিলেট নগরের আখালিয়া নতুন বাজার এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে শাহ কামাল (২৭) ও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার রাহিমা বেগম।

পুলিশ জানায় ঢাকাগামী এনা পরিবহণে চালক হেলপারসহ ১১জন ও লন্ডন এক্সপ্রেসে ৩১ জন আরোহী ছিল।

সংঘর্ষে প্রায় সবাই হতাহত হয়েছেন।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার বিএম আশরাফ উল্ল্যাহ তাহের জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষনিক দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে এবং সুরতাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মৃতদেহগুলো ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ