তামাবিল স্থলবন্দর পরিদর্শন করলেন দিল্লীস্থ বাংলাদেশের হাই কমিশনার

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি ;
  • প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ২ মাস আগে

ভারতের দিল্লীতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার এইচ-ই মোহাম্মদ ইমরান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সুুুুযোগ্য উত্তরসূরী শেখ হাসিনার সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসার পর বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ব্যাপক ভাবে উজ্জল হয়েছে।

বিগত ১০ বছরে ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক অনেকটা গভীর থেকে গভীরতায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে আমাদের বিদেশ মিশনগুলোর কর্মকর্তাগণ আন্তরিক ভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারতের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের আসামসহ সেভেন সিস্টার‘স ভূক্তরাজ্য গুলোর সাথে বাংলাদেশের ব্যবসা বাণিজ্যের পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও বিকাশে দু- দেশের সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে।

২৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় তিনি তামাবিল শুল্ক-স্থল বন্দর ইমিগ্রেশন কেন্দ্র এবং মেঘালয়ের ডাউকী ইমিগ্রেশন কেন্দ্র পরির্দশন করেন এবং এসময় তিনি তামাবিল চুনা পাথর, পাথর ও কয়লা আমদানীকারক গ্রুপ এবং তাবামিল ইমিগ্রেশন ও কাস্টাম’স কর্মকর্তাগনসহ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

হাই কমিশনার এইচ-ই মোহাম্মদ ইমরান আরোও বলেন, ভারত থেকে পাথর ও কয়লা আমদানী কমানো উচিত। দেশীয় শিল্পের প্রতি আমাদের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে নজর দেয়া প্রয়োজন। ভারতে বাংলাদেশের অনেক পূণ্যের চাহিদা রয়েছে, শাক-সবজি তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে আসামসহ সেভেন সিস্টার‘স রাজ্য গুলোতে চাহিদা অনুযায়ী পূণ্য রপ্তানি করার বিষয়ে তিনি ব্যবসায়ীগণকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
সীমান্ত সু-রক্ষায় বিজিবি-বিএসএফ আন্তরিক ভাবে কাজ করছে। অবৈধ ব্যবসা বাণিজ্য রোধ করতে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী সর্তক রয়েছে। সরকার তামাবিল স্থলবন্দর এলাকার উন্নয়নে অনেক অবকাঠামোগত সুধিবা তৈরী করে দিয়েছে। সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব স্থল বন্দরের স্থাপনা গুলো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাজে লাগাতে হবে।

তামাবিল ইমিগ্রেশন কেন্দ্র ও কাস্টাম’স-এর অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের আরো ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। মেঘালয়ের ডাউকী ইমিগ্রেশন কেন্দ্র সংস্কার ও বাংলাদেশী ভ্রমনকারীদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কাজে বিলম্বের হওয়ার বিষয়ে তিনি মেঘালয় সরকারের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানান।

তিনি বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলার পাদুয়া সীমান্ত এলাকায় নতুন শুল্কস্থল বন্দর স্থাপনের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। দু-দেশের সরকার ইতিবাচক দিকে বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের সুবিধা হলে পাদুয়ায় নতুন শুল্কস্থল বন্দর স্থাপন করা হতে পারে।

মেঘালয় থেকে বাংলাদেশে কয়লা আমদানী সংক্রান্ত বিষয়ে যে জঠিলতা রয়েছে তা নিরসনে মেঘালয় সরকারের সাথে আলোচনা করার আশ্বাস দেন। সিলেটের সাথে মেঘালয়-আসামের সর্ম্পক উন্নয়নে মেঘালয়-জৈন্তা-সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনে গুয়াহাটি মিশন সবরকম সহযোগিতা করা হবে। সিলেট এবং ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য গুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে আসামের গুয়াহাটিতে আমাদের সহকারী হাই কমিশনা মিশন চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভারত সরকার বিভিন্ন ভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ভারতের সেভেন সিস্টার‘স রাজ্যের মানুষের সাথে সু-সর্ম্পক ও পর্যটকদের সুবিধায় ভারতের বে-সরকারী বিমান পরিবহন সংস্থা স্পাইসজেট আসামের গুয়াহাটি-ঢাকা সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালু রয়েছে।

তামাবিল স্থল বন্দর দিয়ে ভারতে ব্যাপক পর্যটক ভ্রমন করায় সিলেট-গুয়াহাটি-শিলং সরাসরি বিমান ফ্লাইট চালুর বিষয়ে দু-দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা করে সপ্তাহে অন্তত দু‘টি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশী নাগরিকদের ভারতীয় ভিসা আরো সহজ করার বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমনে ভিসা সহজ করা হয়েছে। মতবিনিময় সভায় তামাবিল চুনা পাথর, পাথর ও কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের পক্ষে ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাবনা লিখিত ভাবে প্রদান করা হয়েছে।

দিল্লীতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার এইচ-ই মোহাম্মদ ইমরান তামাবিল ইমিগ্রেশন কেন্দ্র ও কাস্টম’স অফিসের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার বিষয়ে সরকারের সাথে আলোচনা করার আশ্বাস দেন।

দুপুর ১টায় তামাবিল স্থলবন্দরে এসে পৌছলে হাই কমিশনার ও মিশন কর্মকর্তাগণকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান, সিলেট-৪৮ বিজিবি’র-অধিনায়ক লে. কর্ণেল ইউসুফ জামিল, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান, জেলা পুলিশ, তামাবিল কাস্টম’স ও তামাবিল চুনা পাথর, পাথর ও কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের নেতৃবৃন্দ।

পরে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বধ্যভুমি পরির্দশন করেন ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তামাবিল স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে দিল্লীতে নিযুক্ত হাই কমিশনার এইচ-ই মোহাম্মদ ইমরানকে জৈন্তাপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম জৈন্তিয়ার ইতিহাস-ঐতিহ্যের একটি গ্রন্থ উপহার দেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, গুয়াহাটিস্থ বাংলাদেশের সহকারী হাই কমিশনের ড. শাহ মহম্মদ তানভীর মনসুর, সিলেট ৪৮ বিজিবি-ও অধিনায়ক লে. কর্নেল ইউসুফ জামিল, দিল্লীস্থ হাই কমিশন অফিসের প্রথম সচিব জাকির হোসেন, সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর ও মিডিয়া) মো. লুৎফুর রহমান, গোয়াইনঘাট উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান, কাস্টম’স, এক্সচেঞ্জ ও ভ্যাট কমিশনারেট সিলেটের অতিরিক্ত কমিশনার রাশেদুল হাসান, তামাবিল স্থলশুল্ক ষ্টেশনের সহকারী-কমিশনার প্রভাত কুমার সিংহ, সহকারী পুলিশ সুপার গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ (সার্কেল) প্রবাস কুমার সিংহ, তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের এডি রুহল আমিন, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আহাদ, তামাবিল চুনা পাথর, পাথর ও কয়লা আমদানীকারক গ্রুপের সভাপতি জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলী, সহ-সভাপতি, জালাল উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সারওয়ার হোসেন সেদু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াছ উদ্দিন লিপু, সদস্য ফখরুল ইসলাম, তামাবিল ইমিগ্রেশন (পুলিশ কেন্দ্র) ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান ও রমজান আলী।

এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ী, কাস্টম’স ও ইমিগ্রেশন অফিসের কর্মকর্তাগণ ও বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ