সিলেটে ধর্মঘটের ডাক দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক ;
  • প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ৬:১৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ সপ্তাহ আগে

সিলেট নগরীর চৌহাট্টা এলাকায় অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে পরিবহন শ্রমিক-সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গাড়ি ভাঙচুরের প্রতিবাদে এবার পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিচ্ছেন শ্রমিকরা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টা থেকে ধর্মঘট শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন একাধিক শ্রমিক নেতা। শ্রমিক নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের মারধোরের প্রতিবাদে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টায় থেকে ২৪ ঘণ্টার পরিবহণ ধর্মঘট পালন করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বুধবার রাতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে এই বৈঠকের বিষয়ে জানানো হতে পারে।

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত জানান, ধর্মঘটের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে। রাতের বৈঠক শেষে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে দুপুরে চৌহাট্টা এলাকায় স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করতে যান সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় মেয়রের সাথে ট্রাফিক পুলিশ উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিকরা অবৈধ ভাবে দখল করে রাখা স্ট্যান্ড না ছাড়লে সিসিকের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করলে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালান শ্রমিকরা। শুরু হয় ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এসময় রণক্ষেত্রের পরিণত হয় আশপাশের এলাকা। আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।

তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথেও চলে সংঘর্ষ শ্রমিকদের সংঘর্ষ। পরে প্রায় ঘন্টাখানেক পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এসময় বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর হয়। ভাংচুর হওয়া এসব গাড়ি হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা বিকেল আড়াইটার দিকে সিলেটের বিভিন্ন সড়কে বাস-মাইক্রোবাস রেখে রাস্তা বন্ধ করে দেন। এরমধ্যে সিলেটের চণ্ডিপুল, হুমায়ূন রশীদ চত্বর, ইসলামপুর, মদিনা মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ করেন শ্রমিকরা।

পরে বেলা সাড়ে তিনটার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানায় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও পরিবহণ মালিক শ্রমিক নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে নানা আলোচনা শেষে বিকেল ৪ টায় অবরোধ তুলে নেয়ার কথা জানান।

সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, আমরা দীর্ঘদিন থেকে চেষ্টা করছি অবৈধ ভাবে দখল করা স্ট্যান্ডটি উচ্ছেদ করতে। তারা চৌহাট্টা-আম্বরখানা সড়কের পাশ দখল করে রাখার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিতে যানজট লেগেই থাকে। আজ যখন উচ্ছেদ করতে আসি তখন শ্রমিকরা তাদের স্ট্যান্ডের জায়গা দিতে বলেন। কিন্তু আমাদের কথা হলো এখানে সকল গাড়ি প্রাইভেট পারমিট নিয়ে পরিবহন ব্যবসা করছে। পরে তাদের কথা না মানায় তারা হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সড়ক প্রসস্তকরণ, ড্রেন, ফুটপাত নির্মাণ কাজে পরিবহন শ্রমিকদের বাঁধা, কাউন্সিলর, ম্যাজিস্ট্রেট, কর্মকর্তা-কর্মচারী, উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত নির্মাণ শ্রমিক সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর নগরের চৌহাট্টা এলাকায় মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের অবৈধ স্ট্যান্ড এর কিছু সংখ্যক উশৃঙ্খল পরিবহন শ্রমিকের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই ঘটনায় সিসিকের কাউন্সিলর, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নির্মাণ শ্রমিক অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলাবাহীনি তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ না নিলে আরও বড় ধরণের ক্ষতি হতে পারতো। নগরের উন্নয়ন কাজে বাঁধা দেয়ার এমন ঘটনা শান্তিপ্রিয় সিলেটবাসীর জন্য কলঙ্কজনক। সকলের সহযোগিতায় সিলেটের উন্নয়ন কাজ অব্যাহত থাকবে প্রত্যাশা করি।

আর সিলেট জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত জানান, নগরীর সকল মোড়ে অবরোধ চলছে। যতক্ষণ না সিসিক মেয়রের পদত্যাগ করছেন ও ট্রাফিক পুলিশের ডিসির অপসারণ না হচ্ছে ততক্ষণ অবরোধ চলবে।

আব্দুল মুহিত অভিযোগ করে বলেন, আমাদের শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে।গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। তাই আমরা মেয়রের পদত্যাগ চাই একই সাথে ট্রাফিক পুলিশের ডিসির অপসারণ চাই।

এদিকে চৌহাট্টায় গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক করার পর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা খবর পাই সিসিকের সাথে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হচ্ছে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

অপরদিকে চৌহাট্টা মাইক্রোবাস শ্রমিকনেতা আলী আকবর রাজন দাবি করেন, আমরা সরে যেতে রাজি। কিন্তু অন্য কোথাও আমাদের গাড়িগুলো রাখার জন্য কিছু জায়গা দেওয়া হোক।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ