ছাতকে সন্ত্রাসী হামলায় প্রধান শিক্ষক আহত, থানায় মামলা

ছাতক প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০২০, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৫ মাস আগে

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় প্রধান শিক্ষকসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত গাংপার নোয়াকুট গ্রামের মৃত ইজ্জত উল্লাহর ছেলে এবং বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিনকে সিলেট এমএজি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার দুপুর ১টায় উপজেলার নিজগাঁও ছনবাড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এছাড়াও আহত হয়েছেন নিজগাঁও নতুনবস্তি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মৃত জইন উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও শাহজাহান আলম এবং গাংপার নোয়াকুট গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে বুরহান উদ্দিন। আহতরা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় শিক্ষক কামাল উদ্দিনের ভাতিজা গাংপার নোয়াকুট গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের পুত্র আফাজ উদ্দিন বাদী হয়ে ১২ জনের নামোল্লেখ করে ছাতক থানায় মামলা দায়ের করেন (যার নং- ১২, ১৬.১১.২০২০ইং)।

মামলার এজাহারে জানা যায়, ছাতক উপজেলার ধনীটিল্লা গ্রামের আব্দুছ ছামাদের ছেলে দিলোয়ার হোসেনের কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন নিজগাঁও নতুনবস্তি গ্রামের মৃত জইন উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ও গাংপার নোয়াকুট মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে বুরহান উদ্দিন। জমির সীমানা নির্ধারণ নিয়ে ক্রেতাদের সাথে বিরোধ বাধে দিলোয়ারের। এ নিয়ে শনিবার দুপুর ২টায় ছনবাড়ি বাজারে বুরহান ও জাহাঙ্গীরের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন দিলোয়ার।

এ সময় তাদের ঝগড়া থামানোর জন্য এগিয়ে যান বুরহানের চাচা বনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কামাল উদ্দিন। কিন্তু এতে দিলোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগী কামরান মিয়া, সাহার মিয়া, জাহির মিয়া, আব্দুর রহমান, রুবেল, জুবেল, আজিজুর রহমান রেদওয়ানসহ আরো কয়েকজনকে নিয়ে শিক্ষক কামাল উদ্দিনের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়।

এ সময় প্রতিপক্ষের হাতে থাকা রাম দা’র কোপে শিক্ষক কামাল উদ্দিনের মাথায় মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। কামাল উদ্দিনকে বাঁচাতে বুরহান, জাহাঙ্গীর ও শাহজাহান এগিয়ে এলে তারাও হামলার শিকার হন। এ ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, রক্তাক্ত অবস্থায়ও অন্যদের ঝগড়ায় যেতে বাধা দিচ্ছেন শিক্ষক কামাল উদ্দিন। তাৎক্ষণিক কামাল উদ্দিনসহ আহতদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কামাল উদ্দিনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ৩য় তলার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজিম উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ছাতক থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ