থামছে না শ্রীমঙ্গলের রেলের জমি দখল

এস কে দাশ সুমন, শ্রীমঙ্গল;
  • প্রকাশিত: ৪ নভেম্বর ২০২০, ৯:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৫ মাস আগে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভানুগাছ সড়কের পাশে রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে গড়ে উঠা পাকা দালানকোঠা উচ্ছেদ করে নিজেদের জায়গা উদ্ধার করেছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। উচ্ছেদ অভিযানের সময় পাকা ভবন থেকে শুরু করে সব ধরনের স্থাপনা অপসারণ করা হয়। উদ্ধার হয় অবৈধ দখলদারদের অধীনে থাকা রেলের প্রায় ২ দশমিক ৮৭ একর জায়গা।

গত বছরের ২৭ নভেম্বর রেলওয়ের এই জায়গাটি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে দখলমুক্ত করা হয়। তিন শতাধিক দোকানপাটের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় ভূ–সম্পত্তি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহমুদুর রহমান।

নতুনভাবে আবারও রেলওয়ের জায়গা দখল করার প্রতিযোগিতা চলছে প্রকাশ‍্যে দিবালোকে। সরেজমিনে দেখা যায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড লাগিয়ে বাঁশ, কাঠ, টিন ব্যবহার করে দোকানঘর তৈরি করা হচ্ছে। ফার্নিচারের দোকানগুলোতে সাজিয়ে রাখা হয়েছে মালামাল। খালি জায়গাগুলো ভরে উঠছে নতুন সব দোকানে।

দখলদাররা শুধু দখলই করেনি সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। রেলের এস্টেট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের মালিকানাধীন শ্রীমঙ্গল স্টেশন এলাকার ভানুগাছ রোডের পূর্বপাশ সংলগ্ন রূপশপুর মৌজায় জেএল নং ৬৭, খতিয়ান নং-৩, এসএ দাগ-১৭৬১’এ ২৮৭ শতক ভূমি রয়েছে। এই ভূমির অধিকাংশই এখন বেদখল দখলদারদের মাধ্যমে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন এখানকার জিআরপি পুলিশের এক শ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তাদের সাথে দখলদারদের অন্তরঙ্গতা থাকায় এই মূল্যবান সম্পদ দীর্ঘ ৪ দশক ধরে অবৈধ দখলদারদের দখলে।

দখলদাররা এখন বলছেন, রেল বিভাগের সাথে ‘সমঝোতা’ করে তারা তাদের জায়গায় ফিরে এসেছে।

স্থানীয়রা বলেছেন পরিকল্পিত লীজ বন্দোবস্ত দিতে না পারায় রেল বিভাগ প্রায় ৩শ’ কোটি টাকা মূল্যের এই ২৮৭ শতক ভূমি থেকে ৪ দশকে কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে রেলেওয়ের এই জমিটির দেখভালের যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী/কার্য জুয়েল আহমেদ বলেন, রেলের বেদখল হওয়া জমিতে সীমানা দেয়াল দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ইতিমধ্যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এই জায়গাটি আবারো দখল ঠেকাতে গত ১৫ জানুয়ারী ২৭নং স্মারকে কুলাউড়া সার্ভে অফিসার কর্তৃক শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানায় ১৩ জন চিহ্নিত দখলদারের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত এ্ফ আই আর দায়ের করা হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, এই বিষয়ে কোন লিখিত নির্দেশনা তিনি পাননি। আর এনিয়ে কিছু বলতে পারবোও না। এখানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছেন রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, তিনিই ভালো বলতে পারবেন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. নজরুল ইসলাম জানান, ‘সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে নতুন করে দায়েরকরা একটি মামলায় এই ভূমিতে স্থগিতাদেশ দেয়া হয়েছে। এটি নিয়ে রেল বিভাগ থেকে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সব বাধা দূর করে খুব শিঘ্রিই আবারো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ