রায়হান হত্যা : এসআই হাসান বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৬ মাস আগে

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ি পুলিশের হেফাজতে মারা যাওয়া রায়হান উদ্দিন আহমদের মৃত্যুর ঘটনায় বরখাস্তকৃত সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি হতে পালাতে সহায়তা করা ও তথ্য গোপনের অপরাধে বন্দরবাজার ফাঁড়ির টুআইসি এস আই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের।

তিনি জানান, এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি হতে পালাতে সহায়তা করা ও তথ্য গোপনের অপরাধে বন্দরবাজার ফাঁড়ির টুআইসি এস আই হাসান উদ্দিনকে সাময়িকভাবে চাকুরি হতে বরখাস্ত করা হয়েছে। মহানগর পুলিশের পক্ষে থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর রোববার ভোরে নগরের কাস্টঘর এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রায়হানের মৃত্যু হয় বলে দাবি পুলিশের। যদিও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কোনো ছিনতাই বা গণপিটুনির কথা তারা শোনেননি।

ওই এলাকার ক্লোজড সার্কিট টেলিভিশন (সিসিটিভি) ফুটেজে যুবককে গণপিটুনির কোনো প্রমাণই মেলেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম মুনিম।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের নির্যাতনেই রায়হানের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ফাঁড়ি থেকে ফোন দিয়ে তাদের কাছে ১০ হাজার টাকাও চাওয়া হয়েছিল।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী একটি মামলা করেন। ওই দিনের ঘটনায় ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলা ও অদক্ষতার প্রমাণ পাওয়ায় প্রাথমিকভাবে ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেনসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

সাময়িক বরখাস্তকৃত চারজন হলেন ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) তৌহিদ মিয়া, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাশ ও হারুনুর রশীদ। আর প্রত্যাহার হওয়া তিনজন হলেন এএসআই আশীক এলাহী, কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজীব হোসেন।

গত ১৪ অক্টোবর (বুধবার) সকাল থেকে রায়হানের মৃত্যুর মামলার তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তাদের অাবেদনের প্রেক্ষিতে রায়হানের দেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য গত বৃহস্পতিবার তোলা হয়। পরে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দ্বিতীয়বারের মতো তার ময়নাতদন্ত হয়।

রায়হানের বাড়ি সিলেট নগরীর আখালিয়া নেহারিপাড়া এলাকায়। তিনি দুই বছর ধরে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম মার্কেটের এক চিকিৎসকের চেম্বারে সহকারীর কাজ করতেন। তার প্রায় তিন মাস বয়সী এক কন্যা সন্তান আছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ