রায়হান হত্যাকে রাজনৈতিক ইস্যু বানাবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২০, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৬ মাস আগে

সিলেটে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে নিহত রায়হান হত্যার ৮ দিন পেরিয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আর এটা নিয়ে সিলেটের রাজনীতির মাঠও বেশ সরগরম।

এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিদিন হচ্ছে বিক্ষোভ-মিছিল, সমাবেশ। হচ্ছে সড়ক অবরোধ। সিলেটের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ জনগণ এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন রাজনৈতিক নেতারাও। এমনকি রাজনৈতিক ব্যানার নিয়েও হচ্ছে বিক্ষোভ-মিছিল, সমাবেশ। যেখানে উঠে আসছে নানা রাজনৈতিক বক্তব্য।

এমন বাস্তবতায় রোববার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসী ও নিহত রায়হানের পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি না করার আহ্বান জানানো হয়।

এসময় এলাকাবাসীর পক্ষে ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মখলিসুর রহমান কামরান বলেন- রায়হান হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবাদী আন্দোলনের নাম দিয়ে অনেকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা করছে। যা কোনভাবেই ঠিক না। এতে বিচার দাবিটা ভিন্নখাতে চলে যাবে।

রায়হান হত্যা কোন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নয় উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি না করার আহ্বান জানান।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে নিহত রায়হান হত্যার সাথে জড়িত এসআই আকবরসহ বাকিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে তারা ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলাকাবাসী ও নিহত রায়হানের পরিবার। না হলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারিও দিয়েছে তারা। এসময় তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রায়হানের মা সালমা বেগম আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই আকবরসহ জড়িত পুলিশ সদস্যদের গ্রেপ্তারের হুশিয়ারি দেন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার না করা হয় তাহলে আখালিয়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে হরতাল, সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা দেয়া হবে এবং এর দ্বায়ভার সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশকে নিতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘পুরো ঘটনার ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কর্তৃক একটি পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রদান করতে হবে। একই সাথে এসআই আকবরকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের আইজিপির নির্দেশ কামনা করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, স্থানীয় কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান, ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তারেক উদ্দিন তাজ, ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইলিয়াসুর রহমান, কাউন্সিলর তৌফিক বক্স লিপন, নারী কাউন্সিলর রেবেকা বেগম, সাবেক কমিশনার জগদীশ দাশ ও রায়হানের চাচা হাবিবুল্লাহ প্রমুখ।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে পুলিশের নির্যাতনে নিহত হয় রায়হান উদ্দিন (৩৩) নামের ওই যুবক। নিহত ওই যুবক সিলেটের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, পুলিশ ধরে নিয়ে নির্যাতন করে রায়হানকে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠিন করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এদিকে রোববার দিবাগত রাতে নিহত রায়হানের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত কয়েকজন আসামি করে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি তদন্ত করছে পিবিআই।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ