সিলেটে ধর্ষন ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২০, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৬ মাস আগে

১৩ অক্টোবর বিকাল ৩ টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সিলেটের সাধারন শিক্ষার্থীরা ধর্ষন ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

গণসঙ্গীতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। “চিৎকার করো মেয়ে” গানটি দ্ব্যার্থকন্ঠে গাওয়ার সময় তাদের প্রতিবাদমুখর আন্দোলনে আলাদা মাত্রা যোগ হয়। ধারাবাহিকভাবে কবিতা আবৃত্তির পরপর শুরু হয় প্লানচেট বিতর্ক। প্লানচেট বিতর্কে ধর্ষিতা,ধর্ষক,ধর্ষিতার বাবা এবং ফুলন দেবীর প্রতীকী আত্মার পরিবেশনা ছিলো।উক্ত বিতর্কে তারা সেইসব অগোচরে থেকে যাওয়া দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন, যা সাধারণ মানুষের আত্মার আক্ষেপ।যা প্রতিবাদী কন্ঠে সাধারণ মানুষরাও চিৎকার করে বলতে চায়..কিন্তু তাদের কণ্ঠ বেড়াজালে বাঁধা পড়ে…।কিন্তু প্রতিবাদী সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহস বাঁধা মানে নি।এইসব দৃশ্য পুনঃপুনঃ ভাবে ফুটে উঠেছিল তাদের কার্যক্রমে।

কর্মসূচির অন্যতম ধ্রুপদি পরিবেশনা ছিলো পথনাটক। নাটকটিতে তুলে ধরা হয় একজন নারীর শিশুকাল থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত লাঞ্চনা সহ্য করার ইতিহাস।

এক ছোট্ট মেয়ের বাইরে খেলতে না যেতে পারার আকুতি থেকে আত্মীয়ের কাছে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার গল্প উঠে আসে। উঠে আসে রক্ষনশীল পরিবারের মায়েরা কি করে তাদের কন্যাসন্তানের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করেন,সহ্য করতে শেখান।

একটা ছোট্ট শিশুর কিশোরবেলার অনিরাপদ জীবন আর সে জীবনের সাথে মানিয়ে চলার অসহনীয় যন্ত্রনার কথাও নাটকে উঠে আসে।আরো দেখানো হয়,কীভাবে একটি ছোট্ট শিশুর ছেলেবেলা কাটে ছেলে-মেয়ের পার্থক্য বুঝতে বুঝতে। মেয়েদের কে কোন্ঠাসা করে গৃহবন্দী করে পুরুষ সমাজ কীভাবে নিজেদের পৌরুষের প্রমাণ দেয় তাও উঠে আসে নাটকে

নাটকে আলোড়ন তুলে, কীভাবে একটি ছেলেকে মেয়েদের অসম্মান করতে গেলে পরিবার থেকে বাধা দেয়া হয় না। কিশোরীর ভাইটিও যে দিনে দিনে নিপীড়কে পরিনত হয়,পরিনত করা হয় তা সমাজে একটি কড়া বার্তা দেয়।

বৈবাহিক ধর্ষন নিয়ে নারীর যন্ত্রনা,অসহায়ত্বের করুন চিত্র ফুঁটিয়ে তোলা হয়। সবশেষে এতসব লাঞ্চনা সহ্য করে নিপীড়িতা নিজেকে নিঃশেষ করে দেয়।

ভিন্নধর্মী এই আয়োজন নিয়ে আয়োজকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, “ক্রমাগত নারীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠা একটি সমাজে এখনই পরিবর্তনের আওয়াজ না তুললে মধ্যযুগের বর্বর সমাজেই আবার আমাদের ফিরে যেতে হবে। তাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য সমাজের মানুষের কাছে এই সচেতনতাটুকু যেন আমরা তুলে ধরতে পারি”

সবশেষে একটি মশাল মিছিল নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে প্রদক্ষিন করে।স্লোগানে মুখরিত হয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তীব্রকণ্ঠে ধর্ষকদের শাস্তির দাবি জানায়।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ