জৈন্তাপুরে পশুরহাট রণক্ষেত্র, আহত ১০

নাজমুল ইসলাম, জৈন্তাপুর;
  • প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২০, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৬ মাস আগে

সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ পথে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। জৈন্তাপুর সীমান্ত এখন অনেকটা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। অবাধে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ সহ নানা অবৈধ সামগ্রি বাংলাদেশ প্রবেশ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি‘র ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই ব্যবসার সাথে জড়িত সীমান্ত এলাকার চোরাকারবারী এবং তাদের সহযোগি যারা সীমান্ত এলাকা থেকে শ্রমিক হিসাবে গরু-মহিষ পৌছে দেয়ার কাজের সাথে জড়িত তাদের দ্বন্দ্বের কারনে বুধবার ভোর রাতে জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের পূর্ববাজার পশুর-হাট রণক্ষেত্র পরিনত হয়ে পড়ে। এই ঘটনায় ইউপি সদস্য সহ দুই গ্রুপের অন্তত ১০/১২ লোক আহত হয়েছেন।

গতকাল ১৪ অক্টোবর বুধবার ভোর সাড়ে ৫টার থেকে ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকদের দুই গ্রুপের মধ্যে অন্তত ২৫/৩০ মিনিট ব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এই ঘটনাায় নিজপাট ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ সহ অন্তত উভয় পক্ষের ১০/১২জন লোক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুত্বর আহত ৫জন কে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনা কে কেন্দ্র করে অঞ্চল ভিত্তিক দ্বন্দ্ব এবং উভয় গ্রুপের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে, বুধবার ভোর রাতে জৈন্তাপুর, শ্রীপুর, ডিবির হাওর ও লালাখাল সীমান্তের বিজিবি ক্যাম্প এলাকা জালিয়াখলা, বাইরাখেল, মুক্তাপুর, বাঘছড়া, ঘিলাতৈল, গুয়াবাড়ি, ডিবিরিহাওর, শ্রীপুর আসামপাড়া কেন্দ্রী, কাঠালববাড়ি, গৌরিসংকর যশপুর অঞ্চল দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন অবৈধ পথে কয়েক হাজার গরু-মহিষ সহ অন্যান্য পন্য বাংলাদেশ প্রবেশ করে।

ডিবিরহাওর এলাকায় দিয়ে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশ কালে জৈন্তাপুর বিজিবি ক্যাম্প ও স্থানীয় পুলিশের নাম ব্যবহার করে কথিত লাইনম্যানদের সীমান্ত এলাকায় নির্দারিত চাদাঁ পরিশোধ করা নিয়ে স্থানীয় ব্যবসাদের দুই গ্রুপের সাথে রাতে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এই নিয়ে গভীর রাতেই ডিবির হাওর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দেয়।

ভোর রাতে বিভিন্ন রাস্তা দিয়ে বানের পানির মত কয়েক হাজার গরু-মহিষ নিয়ে শত শত লোক উপজেলা সদরের পূর্ব বাজার পশুরহাটে প্রবেশ করতে থাকেন। উপজেলা হাসপাতাল রাস্তা দিয়ে ভারতীয় শত শত গরু-মহিষ প্রবেশ করার সময়ে হাসপাতালে আসা একজন রোগী অন্তত ১ঘন্টা সময় রাস্তায় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

এই সময় গরু-মহিষ‘র গায়ে লেখা সংকেত দেখে চিহিৃতকরন এবং কথিত লাইনম্যানদের অবৈধ চাদাঁ পরিশোধ দ্বন্দ্বে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা দেখা ছড়িয়ে পড়ে। গরু-মহিষ নিয়ে দুই পক্ষ টানাটানি করেন। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র-দা-বাশেঁর লাটি হাতে নিয়ে দুই গ্রুপ পশুরহাটে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয় পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষোপ করতে থাকেন। তখন পাশে মসজিদের মুক্তবে পড়তে আসা ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়েন।

প্রত্যক্ষ্যদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্তত ২৫/৩০ মিনিট দাওয়া পাল্টা দাওয়া চলে, তখন বাউরভাগ এলাকা এবং ডিবিরি হাওর, ঘিলাতৈল, গুয়াবাড়ি এলাকার ব্যবসায়ী ও যুবকদের কে সংঘর্ষে লিপ্ত থাকতে দেখা গেছে। এই সময়ে পূর্ববাজার এলাকা যেন রণক্ষেত্র পরিনত হয় পড়ে। তাদের ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ফলে বাস-বাড়ি সহ চারদিকে আতংক দেখা দেয়।

শত শত লোকের আত্মচিৎকারে পার্শ্ববর্তী বাস-বাড়ির ঘুমন্ত মানুষ তখন জেগে ওঠেন। এসময় বাজার ইজারাদার সহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রেন আনেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ভোর সাড়ে ৬টার দিকে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (ইনচার্জ) মহসিন আলী একদল পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি আহত রোগীদের খোজঁ খবর নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।

সংঘর্ষে আহতরা হলেন বাউরভাগ গ্রামের রাহিম আহমদ (২৩), শরিফ আহমদ (২৫),দর্জিহাটি মহল্লার আমান উদ্দিন (২৯), মোকামবাড়ির তাজ উদ্দিন (২২), ঘিলাতৈল গ্রামের আলমগীর হোসেন (২৫), রুবেল আহমদ (২৬) এবং গৌরিসংকর গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ (৪২)। অন্যারা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন।

রুবেল আহমদ ছাড়া গুরুত্বর ৫জন কে জৈন্তাপুর হাসপাতাল থেকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তবে ইউপি সদস্য মনসুর আহমদ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে এসেছেন বলে জানাগেছে। ঘটনার বিষয়ে ইউপি সদস্য মনসুর আহমদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই।

ঘটনার বিষয়ে জৈন্তাপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মো: ইয়াহিয়া জানান তিনি ঘটনাটি অফিসে আসার পর শুনেছেন। আহত উভয় পক্ষের সাথে তিনি যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে জানার চেষ্টা করছেন।

এ ব্যাপারে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার (ইনচার্জ) মহসিন আলী জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ভোর ৬টার দিকে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে সংঘর্ষের কারন সম্পূর্কে তিনি বিস্তারিত অবগত নয়। পুলিশ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নাই।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারুক আহমেদ বলেন, ভোর রাতে পশুরহাটে সংঘর্ষের ঘটনা তিনি লোক মূখে শুনেছেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ