প্রতিবাদে উত্তাল সিলেট : অপরাধে সমাজ-রাষ্ট্র সহায়তা করছে

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ৯ অক্টোবর ২০২০, ৭:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৬ মাস আগে

‘দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা’ নামের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও নাগরিক মোর্চা চলমান ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত সমাবেশ কর্মসুচি পালন করে গতকাল শুক্রবার। অনাচার-অবিচার-নৃশংসতা সমগ্র দেশকে গ্রাস করেছে। আমরা দুষ্কাল অতিক্রম করছি। এই দুষ্কাল প্রতিরোধে সম্মিলিতভাবে লড়ে যাওয়ার ও সুদিন ফিরিয়ে আনার আহবানের মধ্য দিয়ে শুরু করা এই সমাবেশে সিলেটের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিক প্রতিনিধি সংহতি প্রকাশ করেন।

বিকাল ৪ টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চতুরে আয়োজিত এই সমাবেশে মুহুর্মুহু স্লোগানে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই কর্মসুচিতে গানে-স্লোগানে প্রতিবাদ জানানো হয়। কর্মসুচিতে উদীচী, সাংস্কৃতিক ইউনিয়ন, একদল ফিনিক্স নিজেদের প্রতিবাদী পরিবেশনা উপস্থাপন করে। এ সময় অংশগ্রহনকারীরা শহীদ মিনারের সম্মুখের রাস্তা অবরোধ করে রাখে। এতে রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন উদীচীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ব্যারিষ্টার আরশ আলি, সাংষ্কৃতিক সংগঠক এনায়েত হোসেন মানিক।

সমাবেশে আয়োজকদের পক্ষে নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, নারী নির্যাতন, খুন, ধর্ষণের মতো অপরাধ আমাদের সমাজে চিরকালই ছিল। কিন্তু একই ধরনের অপরাধ যখন বেপরোয়াভাবে ঘটতে থাকে, তখন বুঝতে হবে ওইসব অপরাধ ঘটানোর অনুকূল অবস্থা সমাজে বিরাজ করছে। অপরাধ সংঘটনে সমাজ-রাস্ট্র সহায়তা করছে। সমাজ সহায়তা করে নিরবতার মাধ্যমে আর রাস্ট্র করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যার্থতার মাধ্যমে।
বাংলাদেশে অপরাধীরা অপরাধ করে পাড় পেয়ে যাচ্ছে। তাই অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। পাশাপাশি সমাজ দুর্বৃত্তদের দৌরাত্য নিরবে মেনে নিয়ে অসহনীয় এক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। এখন যে কেউ অন্যায়-অনাচার-অবিচারের শিকার হচ্ছে। এই পরিস্থিতির উত্তোরন ঘটাতে হলে দুর্বৃত্তদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। রাস্ট্রকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সমাবেশে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমরা লক্ষ্য করেছি, সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাস পোড়ানোর অভিযোগে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি যাদের দোষী সাব্যস্থ করেছিল, তাঁদেরকে আইনের কাঠগড়ায় দাড় করানো যায়নি। ফলে সিলেটের টিলাগড় এলাকা দুর্বৃত্তদের আখড়ায় পরিনত হয়। আমরা স্থানীয় কাউন্সিলরের ভাষ্যে, কলেজ অধ্যক্ষের অসহায়ত্বে ও স্থানীয় জনসাধারণের ভীতসন্ত্রস্থ আচরণে উপলব্ধি করেছি, এই এলাকা দেশের ভেতর আলাদা দেশে পরিণত হয়েছে। ফলে এমসি কলেজের মত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী নিগ্রহের অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় অধিবাসী ও ব্যাবসায়ীরা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বলী হয়েছে। দুর্বৃত্তদের দলীয় কোন্দলে একাধিক হত্যাকান্ড ঘটেছে। তবুও সেখানে দেশের প্রচলিত আইন-আদালতকে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় আমরা মনে করি, সিলেটের বালুচর-টিলাগড় এলাকার ধর্ষক তৈরির কারখানা বন্ধ করতে হবে। আমরা সমগ্র দেশের অনাচার-অবিচার ও ধর্ষণের মত নৃশংসতা থামাতে না পারি অন্তত এমসি কলেজ ও আশপাশের এলাকার দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারি। আমাদের এই প্রতিরোধ লড়াইয়ে এই এলাকায় যদি সুদিন ফিরে আসে তবে দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ জেগে উঠবে নিজেদের এলাকার দূর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। একটি এলাকাকে অরাজকতা ও নৈরাজ্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব হলে এলাকায় এলাকায়, জেলায় জেলায় প্রতিরোধ শুরু হবে।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ও এই মোর্চার অন্যতম সংগঠক দেবাশীষ দেবু আন্দোলনের পরবর্তি কর্মসুচী ঘোষণা করেন। আজ শনিবার বিকাল ৩ ঘটিকায় এমসি কলেজ গেইটে জমায়েত ও টিলাগড়-বালুচর এলাকাকে দূর্বৃত্তমুক্ত করতে জরুরী সতর্কীকরণ কর্মসুচি পালন করা হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ