এমসি কলেজে ধর্ষণ মামলায় ৮ আসামীর রিমান্ড চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭:৪০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৭ মাস আগে

সিলেটের এমসি কলেজের হোস্টেলে তরুণীকে গষধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার ৮ আসামিকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গত তিনদিন পৃথক পৃথক আবেদনের প্রেক্ষিতে সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালত তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সবশেষ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ও বিকেলে চাঞ্চল্যকর এ মামলার দুই আসামি তারেক ও মাহফুজের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে তা বিবেচনায় নিয়ে বিচারক মো. আবুল কাশেম এ দুজনকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রী ধর্ষণ মামলায় এজাহারনামীয় আসামি মাহমুদুর রহমান রনি, রাজন ও আইনুদ্দিইনসহ আরও ৩ জনকে ৫ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এদিন বেলা ১২ টায় সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসময়ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার ওসি (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও চতুর্থ আসামি অর্জুন লস্করকে আদালতে হাজির করা হলেও তাদের প্রত্যেকের ৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। আর বিকেলে গণধর্ষণের মামলার আরেক আসামি রবিউল ইসলামকেও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করেছে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এদিকে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই তরুণীর স্বামী মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

পরে রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের হাকিম শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার তরুণী। এসময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আর আদালত তরুণী জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

এদিকে মামলার পরদিন অর্থ্যাৎ গত রোববার সকালে সাইফুরকে সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে পৃথক এক অভিযানে একই দিন সকালে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা থেকে অর্জুন লস্করকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

আর রোববার রাতে গণধর্ষণের ঘটনায় শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি ও রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। এদিন রাতে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে রনিকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব আর নবীগঞ্জ থেকে রবিউলকে আটক করে পুলিশ।

এদিকে রোববার দিবাগত রাতে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজন নামের ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৯। এ সময় রাজনকে সহযোগিতায় করায় আইনুদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়।

আর সোমবার রাত ১১ টার দিকে জৈন্তাপুরের হরিপুর এলাকা থেকে তরুণীকে গণধর্ষণ মামলার আরেক আসামি ছাত্রলীগকর্মী মাহফুজুর রহমানকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সবশেষ মঙ্গলবার রাতে ধর্ষ‌ণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি তারেককে সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ