হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান বিতর্ক, সাংসদ মজিদ খান’র সংবাদ সম্মেলন

প্রতিনিধি, বানিয়াচং;
  • প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১:১৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৭ মাস আগে

জাতীয় সংসদে ‘হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ আইন পাশ হওয়ার দিন-পনের যেতে না যেতেই স্থান নির্ধারণ নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। এছাড়া আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে চলছে বিতর্ক। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলার মাঝেই সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে মিলিত হলেন হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আব্দুল মজিদ খান।

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে তখন মনোরম শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, সরকারি অর্থ সাশ্রয় ও পর্যাপ্ত জায়গা থাকার করণে একমাত্র বানিয়াচং উপজেলার নাগুড়া এলাকাই ‘হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’র উপযুক্ত স্থান বলে মনে করছেন এই সাংসদ। এ ব্যাপারে বিস্তারিত সুযোগ-সুবিধা ও কার্যকরি দিকগুলো তোলে ধরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় হবিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের প্রধান ফটকে নিজ বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় এমপি আব্দুল মজিদ খান বলেন- সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ আইন পাশ হওয়ার পর থেকে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ স্থান নির্ধারণ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে হবিগঞ্জ জেলাজুড়ে বিতর্ক চলছে। সে বিষয়গুলো জনগণের জানা দরকার।

তিনি বলেন- ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর হবিগঞ্জ জেলার একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবিগঞ্জ জেলাবাসীর বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৫টি দাবি আদায়ের জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এগুলো হলো- হবিগঞ্জ শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ স্থাপন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, শায়েস্তাগঞ্জ থানাকে উপজেলায় রূপান্তর, বাল্লা স্থলবন্দর আধুনিকায়ন ও হবিগঞ্জ-সুনামগঞ্জ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ-শাল্লা-দিরাই) আঞ্চলিক মহসড়ক নির্মাণ।

এমপি আব্দুল মজিদ খান বলেন- সম্প্রতি হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইনও সংসদে পাশ করা হয়েছে। কিন্তু জটিলতা দেখা দিয়েছে স্থান নির্ধারণ নিয়ে। প্রয়াত সংসদ সদস্য বাবু সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বানিয়াচং উপজেলার পুকড়া ইউনিয়নে অবস্থিত নাগুড়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এরিয়ার নিজস্ব জমি ও খাস জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রস্তাব রেখেছিলেন। কিন্তু বিদ্যমান আইনে হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কথাটি সংযুক্ত করে আইন পাশ করার কারণে বানিয়াচংয়ের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সবুজ চত্বর ও খাস জমি কাজে লাগানোর সুযোগ থাকছে না।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এরিয়ায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন সহজতর হত এবং কম সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা যেত গবেষণাগারের অবকাঠামোগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে। বিকল্প স্থানে হলে ভূমি অধিগ্রহণ ও প্রায় ২ থেকে ৩শ’ একর ভূমি সহজলভ্য হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সুযোগ-সুবিধা উল্লেখ করে তিনি বলেন- নাগুড়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কাছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করলে অনেক সুবিধা হতো। সেই জায়গায় বর্তমানে নতুন ভবন নির্মাণ না করেও ক্লাস চালু করা যেত। এছাড়া কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রচুর জায়গার প্রয়োজন। পুকুর-জলাশয়সহ বিভিন্ন গবেষণার জন্য সেখানে জায়গা লাগবে। যে জায়গা শুধুমাত্র সেখানেই আছে। ওই জায়গাতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলে অন্তত একশ’ একর জায়গা সরকারের সাশ্রয় হবে। বাকি একশ’ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে নিলেই বিশাল জায়গা হবে।

বিদ্যমান আইনটি সংশোধন কিংবা পরিমার্জন করতে হলে এখন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বিশেষ সুবিবেচনা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন- বানিয়াচং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাসেম চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আমীন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসিনা বেগম, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা তজজিম্মুল হক চৌধুরী। এ সময় হবিগঞ্জ জেলায় ও বানিয়াচং উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ