সিলেটে আলোচনায় কিশোরী জেবিন, জানেন না ইউএনও!

শিপন আহমদ,ওসমানীনগর;
  • প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৭ মাস আগে

সিলেটের ওসমানীনগরে অভাবের কারনে আত্মহত্যাকারী জেবিন বেগমের মৃত্যুর এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও তার পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি উপজেলা প্রশাসন। এমন কি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

তবে ইউএনও তাহমিনা আক্তারের এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভাবের কারনে জেবিনের মৃত্যুর বিষয়টি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ হলে এলাকার সর্বত্র এ নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন বক্তব্য খুবই দুঃখজনক।

সূত্র জানায়, ওসমানীনগর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদ মৃত জেবিনের পরিবারের সাহায্যার্থে এগিয়ে না আসলেও ওই পরিবারের সাহার্য্যে এগিয়ে এসেছেন ওসমানীনগর থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ। ইতিমধ্যে থানা পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জেবিনের পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার রাতে অভাবের কারণে উমরপুর ইউনিয়নের আউশপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে জেবিন বেগম (১৭) গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। জেবিনের পিতা বাবুল মিয়া ৭-৮ বছর পূর্বে দ্বিতীয় বিয়ে করে তাদের ছেড়ে চলে যান।

৫ ভাই-বোনের মধ্যে জেবিন ২য়। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। পরিবারের কোন উপার্জক না থাকায় অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে চলে তাদের জীবন। অসুস্থ মা আনোয়ারা বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোনমতে ৫ জনের সংসার চালান। জেবিনের মৃত্যুর পর প্রথমে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়।

অপরদিকে স্থানীয় উমরপুর ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও পারিবারিক সচ্ছলতা ফেরাতে দুটি ছাগল প্রদান করা হয়। স্থানীয় ইউনিয় পরিষদের পক্ষ থেকে জেবিনের মায়ের জন্য স্বামী পরিত্যাক্ত ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অভাবের তাড়নায় প্রাপ্ত বয়স্ক একটি মেয়ে গলায় ধরি দিয়ে আত্মহত্যার বিষয়টি ফুঠে উঠলেও এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন এখনও কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। এ বিষয়ে এলাকার জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বলছেন না খেয়ে কেউ মারা যাবে না, সে মূহর্তে অভাবের তাড়নায় জেবিনের আত্মহত্যা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তার উপর উপজেলা প্রশাসন কোন প্রকার সাহায্য দূরে থাক উপজেলা পরিষদ বা প্রশাসন থেকে কোন প্রকার খোঁজ নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেনি কেউ। সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উচিৎ ছিল পরিবারটির খোঁজ খবর নিয়ে সরকারি ভাবে সাহায্য সহযোগিতা প্রদানের।

উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, জেবিনের পরিবারকে মাসে ত্রিশ কেজি চাল দেয়া হতো এবং স্থানীয়রাও সাহায্য করেন। আমি ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে উক্ত পরিবারকে ২ টি ছাগল ও খাদ্য সহায়তা করেছি। এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জেবিনের মাকে স্বামী পরিত্যাক্ত ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ওসমানীনগর থানার ওসি শ্যামল বণিক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অভাবে কারণেই মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে বলে মনে হচ্ছে। আমরা ওই পরিবারকে কিছু খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেছি।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: তাহমিনা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কেউ আসেওনি, কেউ জানায়ওনি।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ