শ্রীমঙ্গলে এবার বেগুনী পাতার পরিক্ষামূলক ধান চাষ

 এস কে দাশ সুমন,শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি ;
  • প্রকাশিত: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিক্ষামূলকভাবে প্রথমবারের মতো বেগুনী পাতার ধান চাষ শুরু হয়েছে। এতে করে ব্যাপক সাড়া পড়েছে স্থানীয়দের মাঝে। শ্রীমঙ্গল উপজেলার আশিদ্রোণ ইউনিয়নের তিতপুর গ্রামের কৃষক মো. ছালেহ আহমদ বলেন মৌলভীবাজারে মামাতো ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে বেগুনী রংয়ের ধান চাষ করতে দেখে মুগ্ধ হয়ে বেগুনী রংয়ের ধান এ জাতের ধানের প্রতি আগ্রহ জাগে। পরে মামাতো ভাইয়ের মাধ্যমে তিনি বেগুনী ধানের বীজ সংগ্রহ করে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সহযোগীতা নিয়ে এই ধান চাষ করেছেন। এ জাতের ধানের নাম দিয়েছেন সুবর্না এরি ধান। তিনি জানান জমিতে বীজ রোপনের পর খুব বেশি পরিচর্যা করতে হয়নি। সারও লেগেছে কম। আশে পাশের অনেক মানুষ আসছেন তাদের ধান ক্ষেত দেখতে। ফলন বেশী পাওয়ার আশা করছেন তিনি। দ্রুত ফলন দেওয়ায় এই জাতের ধানে রোগ বা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হয় না। গাছ শক্ত হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতেও হেলে পড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। সৌখিন কৃষকরা এই জাতের ধান চাষ করতে পারে। আর কৃষি বিভাগ বলছে, এই ধানের আয়ুষ্কাল একটু কম। যদি ফলন আশানুরূপ হয় তবে সৌখিন কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এই জাতের ধান। নতুন চাষ শুরু হওয়া এ ধানের নাম পার্পল লিফ রাইস। দেশে সর্বপ্রথম এ জাতের ধানের আবাদ শুরু হয়েছিল গাইবান্ধায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এ ধান। ধানের গায়ের রং সোনালি ও চালের রং বেগুনি। উফশী জাতের এ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ অনেকটাই কম হয়। রোপণ থেকে ধান পাকতে সময় লাগে ১৪৫-১৫৫ দিন। অন্য জাতের ধানের চেয়ে এ ধানের গোছা প্রতি কুশির পরিমাণ বেশি থাকায় একর প্রতি ফলনও বেশ ভালো। একর প্রতি ফলন ৫৫ থেকে ৬০ মণ হয়ে থাকে। অন্য সব ধানের তুলনায় এ ধান মোটা, তবে পুষ্টিগুণ অনেক। এ চালের ভাত খেতেও সুস্বাদু। আশিদ্রোণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জহর বলেন, ছালেহ আহমদ প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক এ ধান চাষ করেছেন। ধান ক্ষেতটি নিজে পর্যবেক্ষণ করছি। গাছের আকার-আকৃতি বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, ফলন ভালো হবে। সেই সাথে আগামীতে আশপাশের এলাকায় ওই ধানের চাষ বৃদ্ধি পাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মুনালিসা সুইটি, বেগুনি রঙের এই ধান বিদেশি নয়। এটা আমাদের দেশি জাতের ধান। আগে অন্যান্য জেলায় চাষ হয়েছে, এবার প্রথমবারের মতো শ্রীমঙ্গলে চাষ হচ্ছে। একজন চাষী পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলে উৎপাদিত ধানগুলো বীজ আকারে রাখা হবে। ধানক্ষেতটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এখন এর ফলন কী রকম হবে, তা জানতে ধান কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ