ওসমানীনগরে ব্যানার ফেস্টুনে বিএনপি!পালন হয়নি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী

শিপন আহমদ,ওসমানীনগর;
  • প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৬:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

সিলেটের ওসমানীনগরে নিরবেই চলে গেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। দেশের অন্যান্য উপজেলায় দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করা হলেও ওসমানীনগরে ছিল এর ব্যাতিক্রম। এখানে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে ছিল না কোনো কর্মসূচী। অভিযোগ উঠেছে এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকে গাঁ বাঁচাতে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা নিজেদের ব্যাক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ছাড়া নানা কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছেন দলীয় কর্মসূচি। ফলে এ উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলো রয়েছে অনেকটা নিষ্ক্রিয়।

তৃনমূল বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের অভিযোগ, আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে গভীর সখ্যতাকে ধরে রাখতে দলীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন থেকে বিরত রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচিত হওয়া জনপ্রতিনিধিরা। দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করলে সরকার দলীয় আওয়ামীলীগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে তাদের দূরত্ব সৃষ্টি হবে এই ধারণায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে রয়েছেন বিরত। দলের নাম পদবী ও প্রতীক ব্যবহার করে চেয়ার দখল করে আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে রাজি খুশির মাধ্যমে নিজ নিজ আখের গোছানোই এখানে বড় রাজনীতি।

অঙ্গসংগঠনগুলো রয়েছে একই হালে। যার করণে দলীয় কোন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করছেন না বিএনপি কিংবা অঙ্গসংগঠন এমন অভিযোগ তাদের।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গত বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলন করে নানা কর্মসূচী ঘোষণা করেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অনুরূপ সারাদেশে জেলা-উপজেলায়ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি যথাযোগ্যভাবে পালনের নির্দেশ দেন তিনি। কিন্তু ওসমানীনগরের দলের ঘোষিত কর্মসূচির কোনটিই পালন করতে দেখা যায়নি বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোকে। এ উপজেলা বিএনপি অঙ্গসংগঠন গুলো প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সীমাবদ্ধ থাকতে দেখা গেছে। তারা ব্যানার ফেস্টুন বানিয়ে ফেসবুকে আপলোড করেই সেরেছেন দায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে , কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে দলের নাম পদবী ও প্রতীক ব্যবহার করে হয়েছেন জনপ্রতিনিধি হয়ে চেয়ার দখল করে এখন চালিয়ে যাচ্ছেন আতঁতের রাজনীতি। খবর নিচ্ছেন না দল কিংবা দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের ভুলে গেছেন দলীয় কর্মসূচি এমন অভিযোগ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাকর্মীর। ফলে এ উপজেলায় বিএনপির একটি আহবায়ক কমিটি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অঙ্গ সংগঠনগুলো রয়েছে কমিটি বিহীন। এখানে দলের ঘোষিত কর্মসূচি পালন তো দূরের কথা, নেতাদের মধ্যে অনেকেই এখন নিজ দলের নাম ব্যবহার করতে লজ্জাবোধ করতে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা থেকে শুরু করে একাধিক পদধারী সিনিয়র নেতারা দলীয় কর্মকান্ডে গাঁ ডাকা দিয়ে থাকলেও নিজেকে উপজেলা বিএনপির বড় নেতা হিসাবে জাহির করে বড় গণফোরাম সমর্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে সখ্যতার মাধ্যমে পকেট ভারীর মিশনে ব্যাস্থ থাকতে দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যেই অনেকই আবার ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদি লুনার কাছে বিভিন্ন কৌশলে গুন কীর্তন করিয়ে নিজেকে ইলিয়াস সৈনিক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টায় ব্যস্ত রয়েছেন। সিনিয়র নেতাদের এমন কর্মকাণ্ডে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে গৃহযুদ্ধ। দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে গত এক সপ্তাহ পূর্ব থেকে নেতাদের ছবি সম্মেলিত ব্যানার ও ফেস্টুন বানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতে সরগম দেখা গেলেও মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে মাঠ পর্যায়ে ছিলনা কোনো আয়োজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা জানান, এখানে সিনিয়র নেতারাসহ দলের সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের গাঁ বাঁচাতে আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ গণফোরাম সমর্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে গোপন আঁতাতের মাধ্যমে সকল ধরনের আন্দোলন সংগ্রাম থেকে পিছিয়ে থেকে রয়েছেন টাকা কামানোর ধান্দায় ব্যাস্থ। তবে তারা কৌশলে তাদের অনুগত কতিপয় নেতা-কর্মীকে দিয়ে ইলিয়াস পত্মী লুনার কাছে তাদের প্রশংসার কাজটিও গোপনে চালিয়ে যাচ্ছেন। মাঠের রাজনীতি ও দলীয় কর্মসূচি পালনে দেখা না গেলেও ব্যানার ফেস্টুনসহ ফেইসবুক ও ভুঁইফুড় অনলাইন মাধ্যম গুলোতে বিভিন্ন রকমের প্রচারণা চালিয়ে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদি লুনার দৃষ্টি আকর্ষনসহ নিজেদের বড় নেতা হিসাবে জাহির করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে তৃর্ণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বর্তমান পদধারী নেতারা যে ভাবে গাঁ ডাকা দিয়ে আছেন এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে আগামী দুই-এক বছরের মধ্যে এ উপজেলায় বিএনপির অস্থিত্বও খোঁজে পাওয়া যাবে না এমন মন্তব্য ক্ষোদ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মীদের।
এ ব্যপারে তাজপুর ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক সৈয়দ শাহজাহান আলী বলেন,ব্যক্তিগত কাজে আমি সিলেটের বাইরে রয়েছি।
উপজেলা ছাত্রদলের আহবায়ক প্রার্থী জুয়েব আহমদ বলেন, উপজেলা বিএনপি কোন কর্মসূচী না দেয়ায় ও করোনা ভাইরাসের বিষয়টি চিন্তা করে উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচী পালন করা হয়নি।
উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বর্তমান আহবায়ক প্রার্থী আহবাবুল ইসলাম আহবাব বলেন, যুবদলের ব্যানারে কোন কর্মসূচি পালন হয়নি। তবে আমি আমার ব্যক্তিগত ভাবে স্থানীয় মসজিদে দোয়া করিয়েছি।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জরিদ আহমদ দলের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে কোন কর্মসূচী পালন না করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দলীয় যে কোন কর্মসূচী পালন করতে গিয়েই উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরা সরকারের নানামুখী বাঁধা ও হয়রানীর স্বীকার হচ্ছে। সার্বিক বিষয় চিন্তা করে ও করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা প্রতিষ্ঠাবার্ষির্কীতে কোন কর্মসূচী পালন করিনি। ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী বলেন,ওসমানীনগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন হয়েছে কি না সেটা আমার জানা নেই। এটা উপজেলার নেতবৃন্দরাই ভাল বলতে পারবেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ