ধলই চা বাগান খোলার নোটিশ, কাজে যোগ দিচ্ছে না চা শ্রমিকরা

সালাহ্উদ্দিন শুভ,কমলগঞ্জ;
  • প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২০, ৯:২৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

আকস্মিক কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে ধলই চা বাগান খোলার নোটিশ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধলই চা বাগান বন্ধ করেছিল। এ নিয়ে অনেক আন্দোলনে বেশ কয়েক দফা আলোচনা শেষে কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় দীর্ঘ ৩৩ দিন ধরে মৌলভীবাজারের ধলই চা বাগান বন্ধ রয়েছে।

সর্বশেষ গত কয়েক দিন ধরে ধলই চা বাগান খোলা ও সমস্যা নিয়ে শ্রম অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলস্থ কার্যালয়ে শ্রমিক ও মালিক পক্ষের মাঝে আলোচনা চললেও কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই আবার ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় চা বাগান খোলার নোটিশ দিলেও শনিবার সকাল থেকে দেখা যায় নি ধলই চা বাগানের কোন শ্রমিক কাজে যোগদান করতে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাম ভজন কৈরী ও চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু ধলই ভ্যালীর সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাশ পাইনকা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে কাজ চলাকালে বে-আইনীভাবে ঘোষণা দিয়ে গত ২৭ জুলাই সন্ধায় ধলই চা বাগান বন্ধ করেছিল ধলই চা বাগান কোম্পানী।

এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয়, উপজেলা প্রশাসনিক ও সর্বশেষ ১৭ আগস্ট ধলই চা বাগানে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ উপাধ্যক্ষ এম এ শহীদের উদ্যোগে বৈঠকের নির্দেশনা মতে ১৯ আগস্ট থেকে চা বাগান খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে এ সিদ্ধান্ত গ্রহনের কয়েক ঘন্টার মধ্যে ধলই চা বাগানের বিতর্কিত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম সিদ্ধান্ত অমান্য করে রাতেই ধলই চা বাগানে প্রবেশ করেছিলেন। পরদিন ধলই চা বাগান কোম্পানীর সহকারি মহা ব্যবস্থাপক খালেদ মঞ্জুর খান ধলই চা বাগানে প্রবেশ করা নিয়ে উত্তেজনার মাঝে দুইজন নারী চা শ্রমিক লাঞ্চিত হন।

এর পর বিক্ষোব্দ লোকজন সহকারি মহা ব্যবস্থাপককে লাঞ্চিত করে তার গাড়ির কাঁচ ভেঙ্গেছিল। এ নিয়ে আবার ২২ আগষ্ট সহকারি মহা ব্যবস্থাপক খালেদ মঞ্জুর খান বাদি হয়ে একজন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে কমলগঞ্জ থানায় হামলা ভাঙ্গচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করেন।

এতসব ঘটনায় গত ৩৩ দিন ধরে ধলই চা বাগান বন্ধ রয়েছে। ধলই চা বাগান খোলা ও সমস্যা সমাধান নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে শ্রীমঙ্গলস্থ শ্রম অধিদপ্তরের কার্যালয়ে উপ-পরিচালক নাহিদুল ইসলামের উপস্থিতিতে ধলই চা বাগান কোম্পানী প্রতিনিধি, চা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও ধলই চা বাগানের শ্রমিকদের আলোচনা চলছিল। আলোচনা কবে চা বাগান খোলা হবে ও কবে হয়রানীমূলক মামলা প্রত্যাহার করা হবে এর কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

ধলই চা বাগান কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে শনিবার (২৯) আগষ্ট শ্রম অধিদপ্তর শ্রীমঙ্গল কার্যালয়কে অবহিত করার কথা থাকলেও শুক্রবার সন্ধ্যায় আবার নোটিশ দিয়ে শনিবার থেকে ধলই চা বাগান খোলার নোটিশ দেন। ফলে শনিবার সকাল থেকে ধলই চা বাগানের কোন শ্রমিক কাজে যোগ দেয়নি। তাদের দাবি আগে মামলা প্রত্যাহার ও বিতর্কিত ব্যবস্থাপককে বদলী করা হোক তার পর চা বাগানের শ্রমিকরা কাজে যোগ দিবে।

এ সম্পর্কে শনিবার সকালে নাম প্রকাশ না করে ধলই চা বাগানের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানা যায়, কোম্পানীর নির্দেশে নোটিশ দিয়ে শনিবার থেকে ধলই চা বাগান খোলা হয়। শনিবার সকালে ধলই চা বাগানের অফিস খোলে মাস্টারিং-এর কাজ করতে চাইলে চা শ্রমকিরা অফিস খোলে কাজ করতে দেয়নি ও চা শ্রমিকরা কাজে যোগ দেয়নি। তিনি আরও বলেন, এসব বিষয়ে কোম্পানীর প্রধান কার্যালয় সিদ্ধান্ত নিবে। তবে তিনি জেনেছেন ব্যবস্থাপককে ধলই চা বাগান থেকে বদলী করা হবে। আর অক্টোবরের মধ্যে থানায় করা মামলাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।

এসব সম্পর্কে জানতে চেয়ে শনিবার সকালে শ্রম অধিদপ্তরের শ্রীমঙ্গলস্থ্য কার্যালয়ের উপ-পরিচারক নাহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে ফোন করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ