নবীগঞ্জে পাহাড় কর্তন : চারজনের জেল ও জরিমানা

অঞ্জন রায়, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ;
  • প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২০, ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১০ মাস আগে

নবীগঞ্জের দিনারপুরে শুরু হয়েছে পাহাড় নিধন উৎসব। নির্বিচারে পাহাড় কাটার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভুমি পাহাড়ি এলাকার পরিবেশ। নবীগঞ্জ উপজেলার দিনারপুর পরগনা বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়িয়া দ্বীপ হিসেবে দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করলেও পাহাড় খেকোদের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। সম্প্রতি দিনারপুরে পাহাড় কাটা নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলে বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপির নজরে আসে। তিনি খোঁজ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দিনারপুর অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা ও পাহাড় খেকো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরে মহা-পরিচালক (ডিজি) সুলতান আহমেদকে নির্দেশ দেন। এরপরই তদারকি শুরু করে স্থানীয় ভুমি অফিস ও পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর কিছু দিন পাহাড় কাটা বন্ধ থাকে।

কিন্তু প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় আবারও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা শুরু হয়েছে দিনারপুর পরগনার বিভিন্ন স্থানে। ফলে কয়েকশ’ বছর ধরে গড়ে ওঠা দিনারপুর পরগনার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাহাড়ের পরিবেশ, মাটি, পানি ও প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সেই সঙ্গে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে সবুজ বনভুমি। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে পাহাড় কাটতে পারবে না, কাটলে কমপক্ষে ১০ বছরের জেল কিংবা ১০ লাখ টাকার জরিমানা প্রদান করতে হবে। এমন আইন থাকলেও তার প্রয়োগ না থাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত লাভ, পরিবেশ সংক্রান্ত আইন প্রয়োগের অভাবসহ নানা কারণে বন্ধ হচ্ছে না পাহাড় কাটা।

নবীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি দ্বীপ খ্যাত দিনারপুর পরগনার পানিউমদা ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামে পাহাড় কাটা চলছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে অভিযান পরিচালনা করেছে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১ টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে পাহাড়ী টিলা থেকে মাটি কাটার অপরাধে ৪ জন উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৩ জন ট্রাক চালকের বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী, তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড
এবং একজনের ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ৫০,০০০ টাকা ( অনাদায়ে আরও দুই মাসের জেল ) অর্থ দন্ড প্রদান করা হয়। একটি এক্সেভেটর লরি-সহ ৩ টি ট্রাক জব্দ করা হয়।

পানিউমদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইজাজুর রহমান প্রতিবেদক কে বলেন_ রাতের আধারে একদল অসাধু চক্র পাহাড় খেটে উজার করছিল, এ খবর পেয়ে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করা হয় ও একটি ট্রাক্টর এবং একটি এক্সেভেটর জব্দ করা হয়।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ