অভিবাসীদের মানসিক সমস্যা নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদফতর

নাজিম উদ্দিন, সিঙ্গাপুর;
  • প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২০, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

সিঙ্গাপুরে করোনায় ঘরবন্দী অভিবাসী কর্মীদের ডরমিটরিতে সাম্প্রতিক সময়ে আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে সেইজন্য কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের অগ্রগতিতে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অভিবাসী কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তার দিকে দীর্ঘস্থায়ী নজর রাখতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) এক টাস্কফোর্স সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (এমওএইচ) মেডিকেল সার্ভিসেস ডিরেক্টর প্রফেসর কেনেথ মাক বলেছিলেন যে তিনি নিজেই আত্মহত্যার ঘটনা বা আত্মহত্যার চেষ্টার কথা শুনেছেন।

২ আগষ্ট একজন অভিবাসী কর্মী সুনগেই কাদুত ডরমিটরিতে আত্মহত্যার জন্য নিজের গলা কেটেছিল। এর আগে আত্মহত্যার জন্য বিল্ডিংয়ের ছাদেও দাঁড়িয়ে ছিল একজন। পরে তাকে উদ্ধারকারীরা তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে। সেই কর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত হয়েছিল।

এছাড়া এপ্রিলে খো টেক পুয়াট হাসপাতালের সিঁড়ি বেয়ে অবতরণ করার সময় গতিহীন অবস্থায় ১জন ৪৬ বছর বয়সী ভারতীয় নাগরিক আহত হয়ে মারা যান। মে মাসে ২৭ বছর বয়সী ১জন বাংলাদেশী কর্মী ক্রানজি ক্রিসেন্টের একটি কারখানার ভিতর তৈরী বসবাসের জায়গায় অচল অবস্থায় ছিল।

গত ২৪ জুলাই ৩৭ বছর বয়সী ১জন ভারতীয় কর্মীকে সুনগেই টেঙা ডরমিটরিতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। সুনগেই টেঙা ডরমিটরিতে প্রায় ২৫,০০০ কর্মীর বসবাস।

বৃহস্পতিবার সহযোগী অধ্যাপক মাক অভিবাসী কর্মীদের দুর্দশার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে বলেছেন, কর্মীদের অত্যন্ত কঠোর শাসনামলে রাখা হয়েছে। এসব উদ্বেগের কারণ অভিবাসী কর্মীদের অবাধে সমাজে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। মার্ক বলেছেন, কেবল একজন অভিবাসী কর্মী নয় দীর্ঘকালীন বিচ্ছিন্নতার কারণে স্পষ্টতই যে কোনো ব্যক্তির উপর সম্ভাব্য বিরূপ প্রভাব পড়বে।

জনশক্তি মন্ত্রনালয়ের ওয়ার্কগ্রুপ বিভিন্ন বেসরকারী স্টেকহোল্ডার অংশীদারদের পরামর্শকারী, সমাজকর্মী, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী সহ অনেকগুলে ডোমেন জুড়ে কাজ করেছে অভিবাসী কর্মীদের কল্যাণে। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন ডরমিটরিতে থাকা অভিবাসী কর্মীদের ছুটির দিনগুলো উদযাপন করতে যতটা সম্ভব কাজ করার অর্থবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীঘ্রই অভিবাসী কর্মীদের চলাচলে কিছুটা বিধিনিষেধ কমিয়ে আনার বিষয়ে বিবেচনা করবে। আগষ্টের মধ্যে সমস্ত অভিবাসী কর্মীদের ডরমিটরি করোনা মুক্ত করা হবে। কর্মীদের ছুটির দিনগুলো সমাজে অবাধে মিশে যাওয়ার আগে তাদের বিবেচনা করার কারণগুলি উল্লেখ করে এসব কথা বলেছেন মন্ত্রিপরিষদ টাস্কফোর্স।

তবে, কর্তৃপক্ষ অবশ্যই অভিবাসী কর্মীদের উপর নজর রাখবে ছুটির দিনে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। স্থানীয়দের নিরাপদ উপায় নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে অভিবাসী কর্মীদের ক্ষেত্রে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ