একটি অনুপ্রেরণার গল্প

সোহাগ তালুকদার;
  • প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২০, ৭:২৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

ভাবছি আজ একটা বিশাল পোস্ট লিখব।আমার স্বভাবটাই এরকম যেই ভাবা সেই কাজ অর্থাৎ হটকারী সিদ্ধান্ত।কিন্তু আজ যার বিষয়ে কিছু লিখব তাকে নিয়ে কিছু লিখব লিখব বলে অনেকদিন থেকেই ভাবছি।এটা আসলেই আমার স্বভাবগত দিকের সাথে মেলালে উনার সাথে আমার কৃপণতাই করা হচ্ছে।না আর পারছি না।আমার কাছ থেকে দেখা একজন সেরা ব্যক্তিত্ব,সেরা শিক্ষক,সেরা নেতৃত্ব এবং সকল সদগুণের অধিকারী।আমার অত্যন্ত প্রিয় এই ব্যক্তিত্ব খুবই অমায়িক,সদাহাস্য, স্নেহ বৎসল, সৎ ও অকুতোভয়!নামটা একটু পরে বলছি,আগে তো শুনুন।জীবনের এই স্বল্প পরিসরে অসংখ্য গুণী মানুষের সাথে সাক্ষাৎ দর্শন হয়েছে।কিন্তু উনার মত এত সদগুণের অধিকারী মানুষ আমি দেখিই নি।উনি যেদিন আমার স্কুলে যোগদান করেছিলেন সেদিন উনাকে দেখে এমন মাল্টি টেলেন্টেড মনে হয় নি।কিন্তু কর্ম জীবনের পরতে পরতে যখন উনার বহুমুখী প্রতিভার বিকাশ ঘটতে শুরু করেছিল তখন থেকেই আমি উনার একজন ফ্যান হয়ে যাই।আর তার সান্নিধ্য পেতে শুরু করি।শুরুটা হয়েছিল শিক্ষা উপকরণ মেলা দিয়ে।উনি একরকম চ্যালেঞ্জ করেই বসলেন যে লাখাই উপজেলাকে শিক্ষা উপকরণ মেলায় জেলার মধ্যে প্রথম স্থান করবেন।শুরু করলেন কাজ ।টানা পরিশ্রম করে শেষ পর্যন্ত ২০১৮ সালের শিক্ষা উপকরণ মেলায় লাখাই উপজেলাকে প্রথম স্থান এনেই দিলেন।পরবর্তী বছর ২০১৯ সালে ও শিক্ষা উপকরণ মেলায় জেলার মধ্যে লাখাই উপজেলাকে ২য় স্থান এনে দিলেন।আমি বলছি না যে এটার একক কৃতিত্বের দাবিদার উনিই।কিন্তু এটা মানতে হবে যে উনিই মূল কারিগর ছিলেন।উনার পেশাগত উন্নয়নের কথা যদি বলি প্রথমেই বলতে হয় উনি লাখাই উপজেলায় ২০১৪ সালে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন এবং ২০১৮ সালে হবিগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।সেই সাথে সরকারি সফরে ভিয়েতনাম গমন করেছেন মডার্ণ প্র্যাকটিস ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করার জন্য। লাখাই উপজেলার ইতিহাসে এই প্রথম প্রাথমিক বিভাগে নারী যিনি প্রথম সরকারি সফর করেছেন।উনি বাংলা বিষয়ের একজন মাস্টার ট্রেইনার ও ।বাংলা বিষয়ের ট্রেনিং যারা করেছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন উনি কতটা প্রাণবন্ত মানুষ।আর শিক্ষার প্রতি উনার দরদ কতটুকু!আসলে উনার জুড়ি মেলে না।এই যে এখন করোনাকালীন সময়ে ও উনি থেমে নেই।সারাদিনই ব্যস্ত থাকেন অনলাইন ক্লাস নিয়ে।পাচ্ছেন একের পর এক স্বীকৃতি ও।উনার অনলাইন ক্লাস সারাদেশেই একটা সাড়া জাগিয়েছে।বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও নিউজ করেছে উনার পাঠদান নিয়ে।খুবই চমৎকার পাঠদান করেন উনি।আর ভাল পাঠদান করবেনই না কেন?উনার মননে-মগজে,চিন্তা-চেতনায় উনি সবসময়ই শিক্ষকতার ধ্যানধারণা পোষণ করে থাকেন। শ্রেষ্ঠ নারী জয়িতার পুরস্কার ও।ডিজিটাল পাঠদানে ও উনি পিছিয়ে নেই।ডিজিটাল পাঠদানের স্বীকৃতি স্বরুপ পেয়েছেন আইসিটি জেলা অ্যাম্বাসেডরের পদবী ।নিয়মিতই শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করছেন একের পর এক কন্টেন্ট।বিদ্যালয়ে প্রায় প্রতিদিনই ডিজিটাল ক্লাসের আয়োজন করে থাকেন।আমার কাছে সবচেয়ে যে বিষয়টি নাড়া দিয়েছে সেটি হল এই করোনাকালীন সময়ে ও ঘরে বসে অনলাইনে পাঠদান করছেন।বাংলাদেশের বিভিন্ন অনলাইন পেইজে উনার ক্লাস প্রচার করা হচ্ছে।বিভিন্ন ক্যাবল টিভিতে ও প্রচারিত হচ্ছে উনার ক্লাস।অত্যন্ত পরিশ্রমী একজন মানুষ তিনি।শুধু তাই নয় সাংসারিক জীবনে ও উনি একজন সফল মানুষ।উনার বাসায় আমি তো প্রায় সময়ই যাই।স্বামী এবং শ্বশুর,শ্বাশুড়ি এতটাই মুগ্ধ যে উনার প্রতি তা আপনি না দেখলে বুঝতেই পারবেন না।যে পরিমাণ ভালবাসার বন্ধন উনি তৈরি করেছেন উনার সাংসারিক জীবনে তা হয়তো সবার দ্বারা সম্ভব হবে না।কারণ হিসেবে বলছি উনি সত্যিকারের একজন উদারমনা মানুষ।সংকীর্ণতা উনার ভিতরে কাজ করতে দেখি নি কখনো ।কিভাবে কী করেন আমি অনেক সময় বুঝতেই পারি না।আমার দেখা একজন আদর্শ পূত্রবধু,আদর্শ স্ত্রী এবং আদর্শ মা।বড় ছেলেটি মাত্র ৫ বছর বয়স।এখন থেকেই তাকে নাচে,গানে,কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাংকনে পারদর্শী করে তুলছেন।অর্জন করাচ্ছেন বিভিন্ন অঙ্গনের স্বীকৃতি ও পুরস্কার।ছেলে দুটো যেন মায়ের মতই সাহসী ও প্রাণবন্ত।একজন আদর্শ মায়ের সেরা সন্তান হিসেবেই গড়ে তুলছেন ।আপনার মত এমন একজন মানুষের সাহচর্য পেয়ে সত্যিই নিজেকে সৌভাগ্যবান বলে মনে করি।এগিয়ে যান আর আপনাকে আমি জাতীয় পর্যায়ে একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে দেখতে চাই।শুভ কামনা রইল।ভালবাসা অবিরাম।অনেক কিছুই বলার ছিল সময়ের কারণে বলতে পারি নি ।আরে উনার নামই তো বলা হয় নি।মানুষটা হচ্ছেন রিবন রানী দাশ (রুপা)।আমার সহকর্মী ও বড় বোন,সহকারী শিক্ষক ভরপূর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাখাই হবিগঞ্জ।

সোহাগ তালুকদার
সহকারী শিক্ষক ,
ভরপূর্ণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
লাখাই,হবিগঞ্জ।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ