শ্রীমঙ্গলে ইউপি ভবন দখলের অভিযোগ, থানায় জিডি

শ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা;
  • প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২০, ৫:২৫ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১০ মাস আগে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবন সহ পরিষদের পুকুরে উৎপাদিত মাছ লুটপাটের অভিযোগ বহিরাগতদের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনটি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ২ নং ভুনবীর ইউনিয়নের সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান চেরাগ আলীর পুত্র কাওসার আহমেদ ও ফয়সাল আহমদের বিরুদ্ধে। ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মিলন শীল অভিযোগ করে বলেন, বেশ কয়েক বছর যাবত সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনটি বহিরাগতরা নিজেদের জবরদখলে রেখে ব্যবহার করছে, যার ফলে ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনে প্রয়োজনীয় কাজ করতে পারছে না ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। এবং বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের আয় – রোজগার কম থাকায় অনেক জনপ্রতিনিধির সম্মানী ভাতা আটকে আছে তাই পরিষদের একটি পুকুরে মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নেয় কতৃর্পক্ষ এবং তাদের পুরাতন ভবন ভেঙে সেখানে উন্নয়নমূলক কাজ করানোর পরিকল্পনা করে।

এ উপলক্ষে গত ৫ আগষ্ট অত্র ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর হতে মাছ ধরে বাজারে বিক্রির জন‍্য রাখা হয়, হটাৎ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রয়াত চেয়ারম্যান চেরাগ আলীর পুত্র ফয়সাল আহমেদ ও সঙ্গীয় দলবল নিয়ে বেআইনিভাবে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে প্রবেশ করে ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত পরিষদের সদস্য ও সদস্যাবৃন্দ এবং সাতগাঁও বাগানের পঞ্চায়েত কমিটি সহ জনসম্মুখ হতে পুকুর থেকে উত্তোলনকৃত মাছ (প্রায় ৬ মণ) যার বাজার মূল্য আনুমানিক ২৪ হাজার টাকা জোর করে লুট করে নিয়ে যায়। তখন ইউনিয়ন পরিষদের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এমন অবস্থায় সকলে পরিষদের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে গেইট বন্ধ করে রাখেন। সাথে সাথে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রশাসনকে অবহিত করলে, উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু, ধৃত মাছ উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয় প্রশাসন।

এ ব‍্যাপারে ২ নং ভুনবীর ইউনিয়নের প্রয়াত চেয়ারম্যান চেরাগ আলীর পুত্র কাউসার আহমেদ জানান, পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে একটি ‘অনাকাঙ্খিত’ ঘটনা ঘটেছে যা স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান আমাদেরকে নিয়ে বসে নিষ্পত্তি করেছেন। পুরাতন ভবনটি তাদের ব্যবহারের ব্যাপারে তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে তারা এ ভবনটি ব্যবহার করে আসছেন, এই জায়গাটি ডিসি খতিয়ানের। তারা এ ব্যাপারে লিজের জন্য ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেছেন। তিনি বলেন, ‘পিটিশনের প্রেক্ষিতে এখন জেলা প্রশাসক যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা তাই মেনে নেব।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাছ ধরা নিয়ে ‘অনাকাঙ্খিত’ ঘটনার বিষয়ে বিগত ১০ আগষ্ট ৯ নং সাঁতগাও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ফয়সালা বৈঠক অনুষ্টিত হয়েছে।

এই পরিস্থিতি ও ইউনিয়ন পরিষদ বহিরাগতদের ব্যবহার সম্পর্কে উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব বলেন, ‘ অতি সম্প্রতি আমরা দু’পক্ষকে নিয়ে বসে মাছ ধরা নিয়ে অপ্রত্যাশিত ঘটনার বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছি, যারা ‘অনাকাঙ্খিত’ ঘটনায় জড়িত ছিলেন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছেন। আর পুরাতন ভবনটিতে ভুনবীর ইউপির প্রয়াত চেয়াম্যান সাহেব বসতেন, এক প্রকার মৌখিক আলাপের মাধ্যমে। এখানে জবরদখলের কিছু নেই। আমি যতটুকু জানি, পুরো জায়গাটি ডিসি খতিয়ানের, ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন যদি ইউনিয়ন পরিষদ সেখানে উন্নয়ন কর্মকান্ড বা সংস্কার কাজ করতে চায় আর এতে যদি কোনো আইনি বাধা না থাকে তাহলে কর্তৃপক্ষ তা করতে পারবেন। এক্ষেত্রে যারা ব্যবহার করছেন তারা সেখানে থাকবেন না। সে অঙ্গীকারও তারা আমার কাছে করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভুনবীর ইউনিয়নের সদ্য প্রয়াত চেয়ারম্যান চেরাগ আলী সাতগাঁও ইউনিয়নের পুরাতন পরিষদ ভবনটি নিজের কর্মকান্ড পরিচালনা করতে দীর্ঘদিন যাবত ব্যবহার করে আসছিলেন। সেই সুবাদে তার মৃত্যুর পরেও তার ছেলেরা ভবনটি বর্তমানে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান মিলন শীল এই ভবনটি দখলদারদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য উপজেলার বৈঠকে মৌখিকভাবে অনুরোধ করেন।

সুত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিগত ২২ মে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন করে পরিষদের মালীকানাধীন পুকুরে ইউনিয়ন পরিষদের তত্বাবধানে মৎস চাষের উপযোগী করে ও মৎস চাষের আওতায় নিয়ে আসার জন্য চেয়ারম্যানকে পরামর্শ দেন। এবং ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবনটি মেরামত করে পরিষদের আয়বর্ধণ কাজে ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করেন।
তখন ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ পরিষদের পুরাতন ভবনটি বহিরাগতরা ব্যবহার করছে বলে এক পত্রে উল্লেখ করেন।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সাতগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মিলন শীল শ্রীমঙ্গল থানায় নিরাপত্তা চেয়ে একটি জিডি করেছেন। জিডি নং- ৬৭৮/১৩ আগষ্ট ২০২০ এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভবনটি ব্যবহারকারীদের অনুকুলে লিখিত পত্র প্রেরণের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান চেয়ারম্যান মিলন শীল।

বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব অরুন দত্ত বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের জমি সরকারী সম্পত্তি। কিন্তু এ বিষয়ে আর কোনও বক্তব্য প্রদান করতে তিনি রাজি হননি।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের পুরাতন ভবন ইউনিয়ন পরিষদের সীমানার মধ্যে রয়েছে। সাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের কোনো ভবন লিজ দেওয়া হয়েছে এমন কিছু আমাদের জানা নেই। আর যদি কেউ লিজের আবেদন করে তারপরও সেখানে কারো দখলে থাকার কোন বৈধতা নেই। আবেদন অনুযায়ী সরকার দিলে পাবে না দিলে পাবে না।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ