ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি করোনায় আক্রান্ত

সিলেট ডায়রি ডেস্ক ;
  • প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২০, ১১:০২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৭ মাস আগে

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মো. কামরুল হাসান এনডিসির নমুনা পরীক্ষায় ১৪ আগস্ট রাতে পাওয়া ফলে করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। তিনি চলতি বছরের ২ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে গত ৪ আগস্ট ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমানও করোনায় আক্রান্ত হন।

এ ছাড়াও শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম ও তার স্ত্রী আলেয়া ফেরদৌসী ও পূত্র কাজী আফনান আজীম (১৪) গত ৭ আগস্ট করোনায় আক্রান্ত হন। তারা নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন। দ্রুত রোগমুক্তির জন্য সকলের কাছে দোয়া চেয়েছে তাদের পরিবার। করোনা ভাইরাসের হটসপট এখনো ময়মনসিংহ। কিছুদিন কম থাকলেও গত ঈদের পর থেকে আবার আক্রান্ত, মৃত্যু, ঝুঁকি, আতঙ্ক সবই বাড়ছে এই বিভাগে। সরকার বাইরে সকলকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলেও বেশিরভাগ মানুষই তা পড়ছেন না। করোনায় ১৪ আগস্ট পর্যন্ত এই বিভাগে মোট করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার হাজার ২৮১ জন। তার মধ্যে মারা গেছেন ৬১ জন। এ পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ৫০ হাজার ৯৬৯টি নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। অকারণে ঘোরাঘুরি, শপিংসহ সবকিছু খুলে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে অবাধ চলাচলের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান। গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য চলছে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা বাইরে ঘোরাঘুরি করার পরিপ্রেক্ষিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। দ্রুত আক্রান্তের লাগাম টানতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে বাধ্য করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. আবুল কাশেম জানান, করোনায় আক্রান্ত জেলাওয়ারি ময়মনসিংহে ৩,০৭৮, নেত্রকোনায় ৬৬১, জামালপুরে ১,১৭০ এবং শেরপুরে ৩৭২ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪,২৪৬ জন। বর্তমানে মোট চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৯৫০ জন। এনিয়ে বিভাগে সর্বমোট মারা গেছেন ৬১ জন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৩০, নেত্রকোনা জেলায় ৭, জামালপুরে ২০ এবং শেরপুর জেলায় ৪ জন।

ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. এবিএম মসিউল আলম জানান, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৪ আগস্ট ময়মনসিংহ জেলার ১৩০টি নমুনা পরীক্ষায় ১৯ জনের করোনা পজিটিভ আসে। এর মধ্যে সদরের ১০, ত্রিশালের ৩, ঈশ্বরগঞ্জের ২, ধোবাউড়ার ২, ভালুকা ও ফুলপুরের ১ জন করে।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) কেন্দ্রীয় পরিষদের ময়মনসিংহ বিভাগীয় করোনা মনিটরিং সেলের সমন্বয়ক, বিএমএ ময়মনসিংহ জেলা শাখা ও বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, ময়মনসিংহ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. এইচএ গোলন্দাজ জানান, সরকার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করলেও এখনো অনেকেই মাস্ক পরছে না। গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য চলছে এবং সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত না করে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা বাইরে ঘুরাঘুরি করার পরিপ্রেক্ষিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন ব্যাপক হারে বাড়ছে। দ্রুত আক্রান্তের লাগাম টানতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে বাধ্য করা ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান জানান, গণপরিবহন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। নিরাপদ ময়মনসিংহ গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ