বিশ্বনাথে চেয়ারম্যানকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

বিশ্বনাথ প্রতিনিধি;
  • প্রকাশিত: ৫ আগস্ট ২০২০, ১:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

খুনের মামলার পলাতক আসামী ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী। তিনি সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অরংকারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেরা বিএনপির সাবেক যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম রুহেল। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্বনাথ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে অলংকারী ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদসম্মেলনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন একই ইউনিয়নের বড়খুরমা গ্রামের প্রবীন শিক্ষক মো. হানিফ আলী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেল মনোকোপা গ্রামের জামে মসজিদের মতোওয়াল্লী হাজী মখলিছ আলী হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-১৬, তারিখ-২৪-০৬-২০২০ইং)। বড়খুরমা গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী হারুন মিয়া উরফে ইরন মিয়া চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম রুহেলকে চাদাঁ না দেয়ায় পন্নাউল্লা বাজারের ২২নং দোকান ঘরটি একটি জাল দলিল সৃষ্টির মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় বিশ^নাথ থানায় আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। (মামলা নং-৪, তারিখ-০২-০৮-২০১৯ইং)।
তদন্ত শেষে থানা পুলিশ আদালতে চার্জশীট দাখিল করেছে। ঢাকা সিআইডি রির্পোটে হারুন মিয়ার স্বাক্ষর জাল প্রমাণিত হয়ে থানায় প্রতিবেদন আসার পর নাজমুল ইসলাম রুহেল এ খবর জেনে আরেকটি জাল দলিল তৈরী করে একই দোকান ঘরটি অন্যজনের নিকট বিক্রি করে দেন। এ ঘটনায় চলতি বছরের ৭ জুলাই বিশ^নাথ থানায় একটি এজহার দাখিল করলে থানা পুলিশ সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। টেংরা গ্রামের চাঞ্চলকর আছকর আলী হত্যাকান্ডের ঘটনাটি আপোষে নিষ্পত্তির কথা বলে আসামীদের নিকট থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন লোকের মধ্যে মারামারি করিয়ে বিচারের নামে টাকা আত্মসাৎ ও মানুষকে হয়রানী করছেন। পিঠাকরা গ্রামের মাওলানা ইলিয়াছ হুমাইদি চেয়ারম্যান এর চাহিদা মত টাকা চাঁদা না দেয়ায় এই পরিবারটিকে তার লোকজন ধ্বংশ করার চেষ্ঠা করছে।

বক্তব্যে আরো বলা হয়, রড়খুরমা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক, ইউনিয়নের চৌকিদার, দফাদার ও সেন্টারের উদ্যোক্তাকে তিনি নিজে অপমানিত করেছেন। চেয়ারম্যান নিজের ড্রয়ার থেকে টাকা সরিয়ে চৌকিদারকে মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন। সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতামূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকায় আরও ৮টি মামলার তথ্য উপস্থাপন করা হয়। করোনাকালিন সময়ে সরকারী বরাদ্ধ তছনছ, তালিকা তৈরি ও বিতরণে অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এমপিসহ উর্ধ্বতন মহলের নামে বিভিন্ন কটুক্তি করেন বলে উল্লেখ করা হয়।

ইউনিয়নবাসী অতিষ্ট হয়ে চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ আইনের তোয়াক্কা না করে ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার আলতাব আলীকে হয়রানী ও সদস্য পদ বাতিলের চেষ্টা তদবির করেছেন। চেয়ারম্যান পলাতক থাকায় বিধি মোতাবেক ১নং প্যানেল চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব প্রদানের দাবী করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ৩নং অলংকারী ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার (স্থগিত) আলতাব আলী, উত্তর বড়খুরমা গ্রামের আব্দুল জব্বার, বড়খুরমার আহমদ আলী, বড়তলার মখদ্দুছ আলী, হায়াতেরগাঁওর আব্দুল মন্নান, লালটেক গ্রামের বাবুল মিয়া, হানিফ আলী ও গ্রামপুলিশ আব্দুল মতিন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ