এএসআই’র বিরুদ্ধে অভিযোগ ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন

প্রতিনিধি,দক্ষিন সুনামগঞ্জ ;
  • প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০২০, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১১ মাস আগে

দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ঠাকুরভোগ ও জামলাবাজ গ্রামে থানা পুলিশ পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে চলতি মাসে ২১শ লিটার চোলাই মদ তৈরীর উপকরণ ওয়াশ ও ২শ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করে। এতে এলাকার চিহ্নিত মাদক সেবী ও মাদককারবারীরা ঠাকুরভোগ গ্রামের মাদক ব্যবসায়ী মোহন লাল রবিদাসের স্ত্রী আমরতি রবিদাসকে দিয়ে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের সহকারি পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসনাতের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করে।

থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার, মাদক তৈরী, অর্থলগ্নিকারী গডফাদারদের গ্রেফতারের দাবীতে এবং মাদক তৈরী ও বিক্রয় বন্ধের দাবীতে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসনাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীর মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের দাবীকে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার(২৩ জুলাই) দুপুরে স্থানীয় এলাকাবাসীর উদ্যোগে উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের টাইলা বাজারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে বন্যার মাঝেও এলাকার শতাধিক যুবক,বৃদ্ধ ও সমাজসেবীরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় মাননবন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবদাল মিয়া, পশ্চিম বীরগাঁও ইউপির সাবেক ইউপি সদস্য মো. তোফায়েল মিয়া, মো. গোলাজার মিয়া, মৌলভী আবুল কালাম, রুবেল মিয়া, সুধারঞ্জন দাস, হারুন মিয়া, আলী আহমদ, জয়নুদ্দিন মিয়া, আবুল মিয়া,সেবুল মিয়া সহ স্থানীয় এলাকার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় ঠাকুরভোগ গ্রাম একটি সুপরিচিত নাম। ঠাকুরভোগ গ্রামের রবিদাস সম্প্রদায়ের লোকেরা অবাধে চোলাই মদ উৎপাদন ও বিক্রয় করে এলাকার যুবকদের নেশার দিকে ধাবিত করে আসছিল। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসনাত চৌধুরী দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানায় যোগদানের পর থেকে মাদককারবারী ও জুয়াড়ীদের আতংক হিসাবে কাজ করতে থাকেন। চলতি মাসে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসনাত চৌধুরী এলাকার লোকজনদের সহযোগিতায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা এলাকার জামলাবাজ ও ঠাকুরভোগে অভিযান চালিয়ে ২১ শ লিটার চোলাই মদ তৈরীর উপকরণ ওয়াশ ও ২শ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করেন। এতে এলকার চিহ্নিত মাদক সেবী ও মাদক তৈরীতে অর্থ প্রদানকারী প্রভাবশালীরা আর্থিক সংকঠে পড়ায় এলকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মোহন লাল রবিদাসের স্ত্রী আমরতি রবিদাসকে দিয়ে সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।

বক্তরা আরো বলেন- সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স ঘোষনা করলেও এই মাদকের ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করার অংশ হিসেবে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের সহকারি উপ পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসনাত চৌধুরী তাহার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ঠাকুরভোগ গ্রামে মোহন লাল রবিদাসের বসত বাড়ী সহ আশপাশ হইতে বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধার করেন। এসময় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেন। থানা পুলিশের সহকারি উপ পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসনাত চৌধুরীর সাহসী ভ‚মিকায় এলাকায় এলাকার যুব সমাজের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসলেও আর্থিক ক্ষতিতে পড়ে এলাকার প্রভাবশালী মাদককারবারী। এতে এলাকার চিহ্নিত মাদককারবারীরা একাট্টা হয়ে থানা পুলিশের সহকারি উপ পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসনাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার সুনামগঞ্জ এর নিকট মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ দায়ের করে। অবিলম্বে ঐ মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার সহ যুবসমাজ ধ্বংসকারী মাদক তৈরী ও অর্থলগ্নিকারী গডফাদারদের গ্রেফতারের দাবীতে এবং চিরতরে মাদক তৈরী ও বিক্রয় বন্ধের দাবীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ সুপারের নিকট জোর দাবী জানান।

উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই দক্ষিণ সুনামমগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চারিয়ে লক্ষাধিক টাকা মুল্যের চোলাই মদ তৈরীর উপকরণ ১ হাজার লিটার ও চোলাই মদ ২শ লিটার উদ্ধার করা হয়। এসময় চোলাই মদ তৈরী ও বিক্রির অপরাধে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা এলাকার ঠাকুরভোগ গ্রামের মৃত হিরণ রবি দাসের ছেলে মোহন লাল রবিদাস ও জামালগঞ্জ থানা এলাকার কামলাবাজ গ্রামের লক্ষণ রবিদাসের ছেলে সুজন রবিদাসকে আটক করেন। এসময় তাহাদের নিকট হইতে ২শ লিটার চোলাই মদ ও ১ হাজার লিটার চোলাই মদ তৈরীর উপকরণ ওয়াস, মুল্য অনুমান-১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় চিহ্নিত মদকসেবী ও মদক তৈরীতে অর্থলগ্নীকারী গডফাদারদের সক্রিয় প্ররোচনায় মাদক ব্যবসায়ী মোহন লাল রবিদাসের স্ত্রী আমরতি রবিদাসকে দিয়ে থানা পুলিশের সহকারি উপ পুলিশ পরিদর্শক আবুল হাসনাত চৌধুরীর বিরুদ্ধে পুলিশ নাকি নিজেই মদ তৈরী করে তাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা সহ অভিযোগকারীর স্বজন নারীর শ্লীলতাহানী ও গর্ভাবস্থায় নাকি শারীরিক লাঞ্চিত করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে (১৮ জুলাই) মাদক ব্যবসায়ী মোহন লাল রবিদাসের স্ত্রী আমরতি রবিদাসকে দিয়ে পুলিশ সুপার ,সুনামগঞ্জ বরাবরে অভিযোগ দায়ের করে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ