অযৌক্তিক ব্যয় পাস হওয়ার কথা স্বীকার করলেন পরিকল্পনামন্ত্রী

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২০, ৪:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৭ মাস আগে

সরকারের মন্ত্রণালয়গুলো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সব প্রকল্পের যৌক্তিকতা, প্রস্তাবিত ব্যয়সহ সবকিছু যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসার দায়িত্ব পালন করে।

তবে দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাবিত প্রকল্পে যে অযৌক্তি ব্যয় প্রস্তাব করে, তা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়ে দিচ্ছে। যেমন, সম্প্রতি ‘সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্পে একটি বটি ১০ হাজার টাকায় কেনার প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের যাচাই শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে যে অযৌক্তিক ব্যয় প্রস্তাব পাস হয়ে যাচ্ছে, তা স্বীকার করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ১০ হাজার টাকায় বটি কেনার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে নিয়মিত এ ধরনের ঘটনা ঘটার কারণ হিসেবে মন্ত্রী দায়ী করছেন তার মন্ত্রণালয়ে জনবল কম থাকাকে। তিনি বলছেন, কম জনবল থাকায় প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) ঘেঁটে সবসময় যথাযথ মূল্য নির্ধারণ সম্ভব হচ্ছে না।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) কোনো প্রকল্পের বিষয়ে প্রতিবেদন দিলে বা সুপারিশ করলে সেগুলোও যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো আমলে নিচ্ছে না, সে বিষয়টিও স্বীকার করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে একনেক সভা শেষে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে এসব বলেন ও স্বীকার করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

এক সাংবাদিক জানতে চান, ইদানিং, আগেও গণমাধ্যমে লেখালেখি হচ্ছে, বিভিন্ন প্রকল্পে ওভার এস্টিমেশন (পণ্যের বাড়তি মূল্য) ধরা হচ্ছে, যা একটা প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলো যেভাবে প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠায় প্রায় সেরকমভাবেই পাস হয়ে যায়। ওভার এস্টেমেটেড প্রজেক্ট আপনাদের হাত দিয়েই পাস হয়ে যাচ্ছে, সে ব্যাপারে আপনারা কোনো পদক্ষেপ নিবেন কি-না?

জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রথম কথা হলো, আমরা এ সমন্ধে সচেতন। আপনাদের কাছে শুনেছি, ধন্যবাদ আপনাদেরকে। আপনাদের কাছ থেকে শুনে কাগজ বের করে আমি দেখেছি। হ্যাঁ, আপনাদের কথার মাঝে অবশ্যই মেটেরিয়াল আছে। এটা যথার্থ, এটা দেখতে হবে। ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা চেষ্টা করবো এটাকে ভালো করে দেখার। তবে আমাদের পক্ষে যেটা বলার আছে, সেটা হলো আমরা একটা উন্নয়নমুখী সরকার। এত অধিক সংখ্যক প্রকল্প কোনো সরকার হাতে নেয় নেই, বাস্তবায়নও করেনি। আমার লোকবলের ভয়ঙ্কর রকমের অভাব। একটা ডিপিপি দেখতে যত লোকের আমার প্রয়োজন, তার অর্ধেক লোকও আমার নেই এখন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুতরাং পাতায় পাতায় গিয়ে খোঁজ করে দেখা…। ব্যয়গুলো, এগুলো বেশি দেয়া হয়। আমি স্বীকার করেই বলছি। এখানে আমাদের সরকারের কিছু করণীয় আছে, আমাদেরকে লোক দিতে হবে। কোন লোক দিতে হবে, যে লোক জানে। দাম দর সম্পর্কে আইডিয়া আছে। আমরা সচেতন। এটা সরকারের নজরে এসেছে। এগুলো আমরা অ্যাড্রেস (চিহ্নিত) করবো।’

প্রতি বটি ১০ হাজার টাকার করে, এ বিষয়ে এম এ মান্নান বলেন, ‘১০ হাজার টাকা বটি, এটা অযৌক্তিক। এটা বের করে আমি দেখি, যদি অ্যাড্রেস করা যায়। আর আগামীতে যাতে এই প্রবণতা মাথাচাড়া দিয়ে না উঠতে পারে। কর্মকর্তাদের সাথে আমার আলোচনা এখন চলবে। যেটুকু হয়ে গেছে, আমরা বের করার চেষ্টা করছি যে, কারা দায়ী। আমি দায়ী হলে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। আর যাতে না হয়, সেদিকে আমরা শক্ত পদক্ষেপ নেব।’

এ সময় আরেক সাংবাদিক জানতে চেয়ে বলেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে আইএমইডি যে প্রতিবেদন দিচ্ছে, তা কাগজে-কলমে থেকে যাচ্ছে। কোনো মন্ত্রণালয় বা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সেটা বাস্তবায়ন করছে না বা আমলে নিচ্ছে না। এ ব্যাপারে আপনাদের পদক্ষেপ কী?

জবাবে এম এ মান্নান বলেন, ‘আমাদের আইএমইডির রিপোর্ট যায়। সচিব, তার সহকর্মী যারা আছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মাঝে মাঝে প্রয়োজন হলে আমার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বরাবর যায়। তবে আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাস করি। যে ধরনের খুরধার হওয়ার কথা, সেটা হয় না। আমলাতন্ত্রের ঝোপঝাড়ে একটি সুই হারিয়ে গেলে যায় হয়, এখানে তাই হচ্ছে। কিন্তু এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আইএমইডি সচিব আমার সামনে বসে আছেন, তাকেও বলছি, এই চাপটা অব্যাহত রাখতে হবে। আইএমইডিরও শক্তি বৃদ্ধির আমরা চেষ্টা করবো।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আইএমইডি তৈরির পেছনে যে সৎ উদ্দেশ্য ছিল, এখনও আছে। আইএমইডি কিছুটা লোকবলের অভাবে ভুগছে, যন্ত্রবলের অভাবে, অর্থবলের অভাবে। দ্বিতীয়ত, আইএমইডিকে যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন– তিনটি দিক। একটি প্রকল্পের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত। এর জন্য তার যে টেকনিক্যাল কোয়ালিফাইড (যোগ্যতা সম্পন্ন) লোক থাকা দরকার, সেটা নেই। এই দুর্বলতাগুলো আমাদের আছে। এগুলোকে কাটিয়ে উঠতে হবে।’

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ