তাহিরপুরে ঈদের মসলার বাজারে ক্রেতার দেখা নেই

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর;
  • প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২০, ১০:০৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ঈদসহ যে কোনো উৎসবকে ঘিরে পণ্যের দাম বাড়ানো ব্যবসায়ীদের রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মহামারী করোনার কারণে রোজার ঈদে দাম বাড়িয়ে সে মওকা নিতে না পারলেও কোরবানি ঈদে উসুল নিতে তৎপর রয়েছে মোনাফা লোভী ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু করোনার কারণে এবার অনেকেই কোরবানি দেওয়া থেকে বিরত থাকার চিন্তা ও বন্যার কারনে গরম মসলার বাজারে এখন ক্রেতাদের দেখা মিলছে না। ফলে এবার লাভের বদলে ক্ষতি হবার আশংকা করছে ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গেল সপ্তাহ থেকেই মসলার বাজারে দাম বাড়তে শুরু করেছে। কোনো কোনো মসলার ক্ষেত্রে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে পাঁচশো টাকা পর্যন্ত।
এদিকে যে পরিমাণ মসলা বিক্রি হয় এবার তা না হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন পাইকারী ও খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা। কারন ব্যবসায়ীদের কিছু পারমানেন্ট কাস্টমার আছে। এবার তাদের অনেকেই কোরবানি না দেওয়া চিন্তা করছেন।

আরও জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি এলাচির দাম কেজিতে ২-৩ শত টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারি বাজারে এলাচি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০০ থেকে চার হাজার কেজি দরে। খুচরা বাজারে এলাচির কেজি সাড়ে তিন হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত।
পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দারুচিনি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে সাড়ে চার থেকে পাঁচশো টাকায়। লবঙ্গ পাইকারিতে সাড়ে সাতশো থেকে ১৫০০টাকা। খুচরা বাজারে হাজার টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা,রসুন ৯০ থেকে ১০০ টাকা, হলুদ শুকনা ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, শুকনা মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকা,আদা ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তাহিরপুর বাজারের মসলা বিক্রেতা হোসেন মিয়া বলেন, খুচরা বাজারে স্বাভাবিক হারেই বিক্রি হচ্ছে মসলা। ঈদের বিক্রি শুরু হয়নি এখনও। প্রতি বছরের মতো ঈদের আগে এই সময়ে মসলার দাম এমনিই বাড়ে। এবারও বেড়েছে। কিন্তু মসলার যে কাস্টমার থাকার কথা,সেটা নেই। এবার করেনা ও বন্যায় মসলা কম বিক্রির সম্ভবনা বেশি। একই অবস্থা কথা জানান জেলার বিভিন্ন মহল্লার মুদি দোকানীরা।

উপজেলার বাদাঘাট বাজারের ব্যবসায়ী চন্দন বলেন, ঈদের আর বেশি বাকী নেই এদিকে কাস্টমারের চাহিদা নাই,তাই ঈদের জন্য দোকানে যে পরিমাণ মসলা তোলা দরকার ছিল সে পরিমাণ তুলি নাই। গত বছর ঈদের ঈদে প্রচুর বেচা কেনা করেছি। কিন্তু এবার মসলার দিকে কারো নজর নেই।

টাংগুয়ার হাওর বাসিন্দা সিজিল আহমেদ জানান,প্রতি বছর কোরবানি ঈদে উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি হলেও এবার একে ত করোনা তার উপর পর পর বন্যায় হাওর পাড়ের বাসিন্দা চরম দূর্ভোগে আছে। আবারও বন্যর আতংক বিরাজ করছে। অনেকেই কোরবানি দিবে কি না চিন্তায় আছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ