লোক গানের রাজকন্যা হওয়ার স্বপ্নে বিভোর সুনামগঞ্জের পল্লবী

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২০, ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ১ বছর আগে

আউল-বাউলের দেশ সুনামগঞ্জ। এই ভাটি অঞ্চলেই বেড়ে উঠেছেন সংগীত শিল্পী পল্লবী দাস মৌ। সেই ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখেন বাংলার লোকগানকে তার শ্রুতিমধুর কন্ঠে পৌঁছে দিবেন গান প্রেমীদের কানে।

পারিবারিক ভাবে সংগীতের প্রতি সবার আলাদা একটা টান থাকার দরুন বাবা ও মায়ের মাধ্যমেই গানের শুভ সূচনাটা ছোট বেলা থেকেই গড়ে উঠে পল্লবীর।
সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলার হরিণগর গ্রামে ১৫ অক্টোবর ১৯৯৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন পল্লবী দাস মৌ। বাবা মহীপাল দাস ও মা প্রগতি পুরকায়স্থ’র দুই সন্তানের মধ্যে তিনি হচ্ছেন প্রথম।
মায়ের কাছে প্রথম গানের হাতে খড়ি পল্লবীর । পরবর্তীতে, ওস্তাদ দেবেন্দ্র দাস এবং ইন্দ্রজিৎ দাসের সহায়তায় সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করেন তিনি। বর্তমান মুরারিচাঁদ কলেজের মোহনা সাংস্কৃতিক সংগঠনের তিনি সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সিনিয়র সংগীত শিল্পী।
নিজ উপজেলার ঘুঙ্গিয়ার গাও আদর্শ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেশ দুষ্টুমি আর কাঁদা মাখামাখি করে কাটিয়েছেন শৈশবকাল। তারপর নিজ উপজেলায় নিজের বাবার স্কুলে গোবিন্দ চন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সহিত ২০১৪ সালে মাধ্যমিক পাশ করেন তিনি।
অতঃপর, নিজ উপজেলা সদরে অবস্থিত শাল্লা সরকারি ডিগ্রী কলেজ থেকে এ প্লাস গ্রেড নিয়ে কৃতিত্বের সাথে উচ্চ মাধ্যমিক ২০১৬ সালে পাশ করেন। উচ্চ শিক্ষা লাভের আশায় সিলেট বিভাগের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মুরারিচাঁদ কলেজে ভর্তি হয় গণিত বিভাগে। বর্তমানে ফোর্থ ইয়ারে আছেন তিনি।
পড়াশুনার পাশাপাশি সংগীত চর্চাও রেখে যাচ্ছেন শ্রেষ্ঠত্বের স্থান। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের আয়োজনে “জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ- ২০১৮” তে জাতীয় পর্যায়ে লোক গানে সমগ্র বাংলাদেশের মধ্যে ২য় স্থান অধিকার করে রৌপ্যপদকে ভুষিত হয়েছেন।
এর পূর্বে বিভাগীয় পর্যায়ে দেশাত্মবোধক ও লোকগানে তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে , লোক ও দেশাত্মবোধক প্রতিটি বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে শ্রেষ্ঠ পুরষ্কার লাভ করেন। ২০১৯ সালে আরটিভি ডাবর ভাটিকা ক্যাম্পাস স্টার সিজন ২ এর টপ ১২ হয়েছেন। মন চলো রুপের নগপ্রে নামক লালন গানের রিয়েলিটি শো এর ফাইনালিস্ট ছিলেন ২০১৮ তে।
পল্লবীর এত সব কৃতিত্ব আর অর্জন নিজ কলেজ আর নিজ সংগঠনকেও আরো বেশি করে গৌরব ছিনিয়ে এনে দিতে সহায়তা করেছে। তাই তিনি কলেজের সকল শিক্ষক/শিক্ষিকা বৃন্দ, সাধারণ ছাত্র/ছাত্রী ও কলেজের সকল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনের কাছে খুবই প্রিয় পাত্র হিসেবে স্থান দখল করে নেন সহসাই।
এছাড়াও এই উদীয়মান সাংগীত শিল্পী সিলেট শিল্পকলা একাডেমির সংগীত বিভাগের নিয়মিত একজন ছাত্রী। সংগীতের পাশাপাশি নাচের প্রতি অনুরাগ থাকায় ছন্দ নৃত্যালয়ে নাচেরও তালিম নিচ্ছেন নিয়মিত।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরী লিঃ