সিলেটে বন্যা-তাড়া করছে ২০২২ সালের দুঃসহ স্মৃতি

মিঠু দাস জয়;
  • প্রকাশিত: ৩১ মে ২০২৪, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৩ সপ্তাহ আগে

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি বুধবার থেকেই ছিল বিপদসীমার উপরে। রাতে ভারতের মেঘালয় থেকেও নামে ব্যাপক ঢল। পানিবন্দি হয়ে পড়ে চার লক্ষাধিক মানুষ। গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়ে মানুষ। বন্যার কারণে সিলেটজেলার সকল পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার দুঃসহ স্মৃতি তাড়া করছে সিলেটের কোটি মানুষকে।

বন্যা দুর্গত পাঁচ উপজেলায় কাজ করছে সিলেট জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিতরণের জন্য শুকনা খাবার, চাল ও নগদ টাকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পাঁচ উপজেলায় খোলা হয়েছে ৪৭০ আশ্রয়কেন্দ্র। গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৫৬টি, জৈন্তাপুর উপজেলায় ৪৮টি, কানাইঘাট উপজেলায় ১৮টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ৩৫টি ও জকিগঞ্জ উপজেলায় ৫৮টি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

এ ছাড়া, বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী বিজিবি, জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ টিম, বিজিবি, ফায়ারসার্ভিস, আনসার বিডিপি এবং বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

এদিকে, বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের পাশে দাড়িয়েছে সিলেট জেলা ছাত্রলীগ। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার জৈন্তাপুরসহ বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকায় শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া সিলেট জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ বন্যাদুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের পাঁচটি উপজেলা গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জকিগঞ্জ উপজেলার বন্যা দুর্গত বাসিন্দাদের জন্য এক হাজার বস্তা শুকনো খাবার, ৭৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ আড়াই লাখ টাকা ত্রাণসামগ্রী হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব উপজেলায় আরও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সকালে পানি বন্দী এলাকাগুলো পরিদর্শনে করছেন সিলেট জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা আক্তার সিমুল। এসময় উপস্থিত ছিলেন, জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে সালিক রুমাইয়া সহকারী কমিশনার ভুমি ফাতেমা তুজ জোহরা সানিয়া, মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ তাজুল ইসলাম পিপিএম।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সুরমা নদী কানাইঘাট উপজেলা পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬৬ সেন্টিমিটার উপরে ও কুশিয়ারা নদী জকিগঞ্জের অমলসীদ পয়েন্টে ২০২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়াও সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় সারি নদী বিপদসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং গোয়াইনঘাট উপজেলায় সারিগোয়াইন নদী ৬৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গতরাতে সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলংয়ে ৩৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। একইসময়ে জৈন্তাপুরের লালাখালে রেকর্ড হয়েছে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত।

ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত চব্বিশ ঘন্টায় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের চেরাপুঞ্জিতে ৬৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সিলেটে বৃষ্টিপাত ও ভারতের বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলেই সিলেটের নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে প্লাবিত হয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা।

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী জানিয়েছেন, উপজেলার উচু এলাকা ছাড়া সব প্লাবিত, কোথাও কোথাও মানুষের বাড়ির চাল পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। রাতে প্রবল স্রোতে উদ্ধারাভিযান ভালোভাবে পরিচালনা করা না গেলেও ভোর ৪টা থেকেই পুরোদমে উদ্ধার অভিযান চলছে। উপজেলা ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে আমাদের কর্মকর্তারা দিন-রাত কাজ করছেন। বন্যায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার কাজে যোগ দিয়েছে সেনাবাহিনী বিজিবি, পুলিশ, বিজিবি, ফায়ারসার্ভিস, আনসার বিডিপি এবং বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি