সবার দৃষ্টি এখন নতুন নেতৃত্বের দিকে

সিলেট ডায়রি ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৪৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে

শনিবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রস্তুতি সম্পন্ন। সবার দৃষ্টি এখন সম্মেলনের মূল আর্কষণ নতুন নেতৃত্বের দিকে।
উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশে সম্মেলন অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সর্বস্তরের নেতাকর্মী সবার দৃষ্টি এখন নতুন কার্যনির্বাহী সংসদের (কেন্দ্রীয় কমিটি) দিকে।

নতুন কমিটিতে কারা থাকছেন, কে থাকছেন না, কে কোন পদে থাকছেন- নেতাকর্মীদের মধ্যে ঘুরে ফিরে এই আলোচনায়ই প্রধান্য পাচ্ছে। কেউ কেউ অপেক্ষা করছেন, তার কাঙ্ক্ষিত পদটির জন্য। আবার কেউ কেউ তার ঘনিষ্ঠ ও পছন্দের নেতা কাঙ্ক্ষিত পদটি পাবেন- আছেন এই অপেক্ষায়।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে শনিবার বিকেলে, সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে। প্রাপ্তির প্রত্যাশা এবং হারানোর শঙ্কা- উভয়ই রয়েছে নেতাদের অনেকের মধ্যে। কারণ, নতুন নেতৃত্ব ঘোষণার আগ পর্যন্ত কেউই নিশ্চিত নন, কে থাকছেন আর কে বাদ যাচ্ছেন বা কে কোন পদ পাচ্ছেন।

শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উদ্বোধন হবে আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এবারের সম্মেলন অনেকটা সাদামাটাভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আগে থেকেই জানানো হয়েছে। এ কারণে এক দিনেই শেষ করা হবে সম্মেলন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নির্মিত সম্মেলনের মঞ্চটি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকা ও পদ্মাসেতুর আদলে করা হয়েছে। মঞ্চটির দৈর্ঘ্য ৮২ ফুট এবং প্রস্থ ৪৪ ফুট বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতার শুরুতে সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করবেন সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন সাধারণ সম্পদাক ওবায়দুল কাদের এবং ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার নেতারা উত্তোলন করবেন জেলার পতাকা।

এরপর বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় পরিবেশন করা হবে দলীয় সঙ্গীত।

এরপর শুরু হবে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন। শোক প্রস্তাব উত্থাপন, স্বাগত ভাষণ, সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপনের পর দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম অধিবেশন।

আওয়ামী লীগের ২২তম সম্মেলনে বঙ্গবন্ধুর ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তার তথ্য, যোগাযোগ ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

দুপুরে খাবারের বিরতির পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশনে দ্বিতীয় অর্থাৎ কাউন্সিল অধিবেশন শুরু হবে। এবারের সম্মেলনে কাউন্সিল হয়েছেন ৭ হাজার। এই কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন হবে। এ সময় বর্তমান কার্যনির্বাহী সংসদ বিলুপ্ত করে নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব দেওয়া হবে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের।

তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করবেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন- মশিউর রহমান এবং সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।

এই কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি এবং তার পর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবেন। সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনঃরায় নির্বাচিত হচ্ছেন। কারণ আওয়ামী লীগের সর্বসস্তরের নেতাকর্মী শেখ হাসিনাকেই আবারও এই পদে চান। কাউন্সিলররাও তাকেই নির্বাচিত করবেন, এ বিষয়ে কারো কোনো সংশয় নেই।

এর পর হবে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের পর সভাপতিমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলীসহ অন্যান্য পদে নির্বাচন হবে।

এদিকে দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে কে আসছেন- এই আলোচনাই প্রধান্য পাচ্ছে সম্মেলনকে ঘিরে। তবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরই টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হচ্ছেন- বলে মনে করছেন দলের অধিকাংশ নেতাকর্মী। তবে পরিবর্তন আসতে পারে- এমন ধারণাও করছেন কেউ কেউ।

ওবায়দুল কাদেরের পর আর যাদের নাম আলোচনায় রয়েছে, তারা হলেন- সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মণি।

তবে শুধু সাধারণ সম্পাদক পদ নয়, অন্য পদগুলো নিয়েও চলছে বিভিন্ন ধরণের আলোচনা। কেন্দ্রীয় কমিটিতে কে কোন পদে দায়িত্ব পাবেন, সে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন আলোচনা আছে।

তবে এখন পর্যন্ত যত আলোচনা চলছে, সবই ধারণার ওপর ভিত্তি করে বলে জানান আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের একাধিক নেতা। তাদের মতে, একমাত্র শেখ হাসিনাই দলের সভাপতি পদে পুনঃরায় নির্বাচিত হচ্ছেন- এটাই নিশ্চিত। আর কারো কোনো পদই নিশ্চিত না।

একমাত্র দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে যারা আছেন, তারা নতুন কমিটিতে কে কোন পদে যাবেন, কে বাদ পড়বেন- এটা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেন না। আর এ কারণেই নেতাদের মধ্যে কারো কারো আরও গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার বা যে পদে আছেন সেই পদেই বহাল থাকার যেমন প্রত্যাশা রয়েছে, পাশাপাশি তাদের মধ্যে শঙ্কাও রয়েছে যে- তিনি যে পদটিতে আছেন সেটা থেকে পদন্নতি হবে, না কি নতুন কমিটিতে এই পদেই থাকতে পারবেন।

আর এ সব কিছুই নির্ভর করছে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর।

প্রতি বছরই দেখা যায়, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে কাউন্সিলররা দলের সভাপতি শেখ হাসিনাকেই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব দেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলেই জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এক বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, তিনি অনেক সময় বলে থাকেন আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ অপরিহার্য নয়। তিনি (ওবায়দুল কাদের) যথার্থই বলেন। আওয়ামী লীগে অনেক যোগ্য নেতা আছেন, কে বা কোন নেতা দলের কোন জায়গায়, কোন কমিটিতে, কোন পদে যোগ্য, কাকে দিয়ে কোথায় কাজ করানো হবে- সেটা দলের সভাপতি শেখ হাসিনাই সিদ্ধান্ত নেবেন। কারণ কাউন্সিলরা তাকেই নেতৃত্ব নির্বাচনের দায়িত্ব দেন।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি