রায়হান হত্যা: আলামত উদ্ধারের দাবি জানালেন মা

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ১৪ নভেম্বর ২০২০, ২:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৬ বছর আগে

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানার বন্দর বাজার ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন হত্যাকান্ডে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রায়হানের মা। তিনি রায়হানের নীল শার্ট ও ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধারের দাবি জানানের পাশাপাশি মামলার সকল আলামত সংগ্রহ করতে পিবিআইর প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

শনিবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে রায়হানের মা সামলা বেগম বিভিন্ন দাবি জানান।

তিনি বলেন, সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের আগের রাতে নীল শার্ট পরেই বেরিয়েছিলেন রায়হান। কিন্তু রায়হানের মরদেহে ছিল লাল শার্ট। এছাড়া মৃতদেহ হস্তান্তরের সময় তার মোবাইলও ফিরিয়ে দেয়নি পুলিশ।

এসময় সিলেট কোর্টের সাবেক পিপি মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, আমরা আশা করেছিলাম আসামিরা দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবে। কিন্তু কোনো আসামিই এখন পর্যন্ত আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়নি। তবে তারা জবানবন্দি না দিলেও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে না।

বৃহত্তর আখালিয়া (১২ হামছায়া) সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক মখলিসুর রহমান কামরান বলেন, আমরা চাই ঘটনার সাথে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার করছে। একই সাথে পিবিআই’র প্রতি আমরা আস্থা রাখতে চাই। কারণ পিবিআই আমাদের জানিয়েছে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। আর যদি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত না হয় তাহলে আবারও দেশবাসীকে নিয়ে আন্দোলন করবো।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান উদ্দিন নিহতের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নগরের কাস্টঘরে গণপিটুনিতে রায়হান নিহত হন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় ফাঁড়িতে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান রায়হান।এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে সিলেট মহানগর পুলিশের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পেয়ে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবরসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও তিনজনকে প্রত্যাহার করেন। মামলাটি পুলিশ সদরদফতরের নির্দেশে পিবিআইয়ের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পরে মরদেহ কবর থেকে তুলে পুনঃময়নাতদন্ত করা হয়। রায়হানের দেহে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন মেলে ফরেনসিক রিপোর্টে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি