মুহিতের জানাজায় মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ১ মে ২০২২, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: ২ বছর আগে

লাখো মানুষের অংশ গ্রহণে সব শেষ জানাজা শেষে সিলেট নগরের রায়নগরস্থ পারিবারিক গোরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে সাবেক অর্থমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, ভাষাসৈনিক, বরেণ্য লেখক ও গবেষক আবুল মাল আবদুল মুহিতকে।

এ কবরস্থানে শুয়ে রয়েছেন তাঁর বাবা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ ও মা সৈয়দা শাহার বানু চৌধুরী। তাদের পাশেই চিরন্দ্রিায় শায়িত হলেন মুহিত। রোববার (১ মে) বেলা পৌনে ৩টায় দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে সাবেক এই অর্থমন্ত্রীর জানাজার নামাজ সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বেলা ২টা ১৮ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজার নামাজে ইমামতি করেন আল্লামা মুহিবুল হক গাছবাড়ি। জানাজার পরে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

জানাযায় আওয়ামী লীগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের লাখো মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

জানাজা পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভায় পরিবারের পক্ষ থেকে মুহিতের ছোটভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বক্তব্য দেন।

মুহিতের জীবনের নানাদিক স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বন, পরিবেশ জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন আহমদ, জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ, সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার, মালয়েশিয়ার সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও আবুল মাল আবদুল মুহিতের চাচাতো ভাই হোসেন আহমদ, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক, সংসদ সদস্য মুকাব্বির খান, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সংসদ সদস্য আব্দুল মজিদ খান।

আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন আহমদ সিরাজ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমেদ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন প্রমুখ।

প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানাজাপূর্ব বক্তব্যে বলেন, বড়ভাই আবুল মাল আবদুল মুহিত আজীবন মানুষের সেবা করে গেছেন। তিনি ৬৩ বছর ধরে তিনি পাবলিক সার্ভেন্ট ছিলেন। তিনি একজন অভিষ্ট লক্ষ্যে কাজ করার একজন মানুষ। তাঁর আমার আমাদের সবার একটাই লক্ষ্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এদেশের মানুষকে উন্নত-সমৃদ্ধ জাতিতে পরিণত করা। সে লক্ষেই তিনি আমৃত্যু কাজ করে গেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি আমাদের সততা ও সফলতার আইডল এবং অভিভাবক ছিলেন। তিনি দীর্ঘ জীবনে চলার পথে কাউকে দুঃখ দিয়ে থাকলে তাকে আপনারা ক্ষমা করে দিবেন। তাঁর জন্য আমি আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, আবুল মাল আবদুল মুহিত ছিলেন আমার নেতা, আমার সিনিয়র কলিগ, আমার বড়ভাই, আমাদের সততার আইকন। তিনি অত্যন্ত সৎ ও নির্লোভ একজন মানুষ ছিলেন। টাকার প্রতি কোনো দিন তাঁর কোনো মোহ ছিলোনা। তিনি কোনো ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে জড়িত ছিলেন না। তিনি মানুষের কল্যাণে আজীবন কাজ করে গেছেন। তিনি অর্থমন্ত্রী থাকাকালে এদেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঢ় করিয়েছিলেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আরও বলেন, জনাব মুহিত আঞ্চলিকতার দুষ্টেদুষ্ট ছিলেন না। তিনি সারাদেশের মানুষের ও ধুলি কনার কথা ভাবতেন। তিনি যেমন সিলেটের উন্নয়নে ভূমিকা রেখেনছেন তেমনি, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, টেকনাপ থেকে তেতুলিয়া সব জেলায় সমান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন। আমরা তাঁরমতো একজন সেরা অভিভাবককে হারিয়ে আজ একা হয়ে গেলাম।

এর আগে রোববার দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার পাশাপাশি চোখের জলে সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে শেষ বিদায় জানান সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ। মরদেহ দুপুর ১২টার দিকে বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়ার পর সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুহিতকে শ্রদ্ধা জানাতে সকাল থেকে শহীদ মিনারে আসতে শুরু করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর আগে সেখানে কালো কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয় শ্রদ্ধা নিবেদন মঞ্চ।

প্রথমে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) একটি চৌকস দল ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করে। পরে প্রয়াতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

এরপর সাবেক অর্থমন্ত্রীর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক ও উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদসহ আরও অনেকে।

শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...

পোর্টাল বাস্তবায়নে : বিডি আইটি ফ্যাক্টরি